kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

দাদা কাদেরের মৃত্যুতে লুবাবার কান্না, কাঁদাল সবাইকে

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাদা কাদেরের মৃত্যুতে লুবাবার কান্না, কাঁদাল সবাইকে

ছবি-মিথুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেতা আব্দুল কাদের। সারা জীবন যে মানুষটি সবাইকে হাসিয়ে এসেছেন, জীবনের শেষ বেলায় সবাইকে কান্নার সাগরে ভাসালেন। নাতি-অন্তপ্রাণ আব্দুল কাদেরের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছে ছোট্ট শিশু লুবাবা।  

শনিবার দুপুরে অভিনেতা আব্দুল কাদেরের প্রথম জানাজার জন্য নেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রয়াতের নাতনি সিমরিন লুবাবা। ছোটবেলা থেকে দাদার মতো অভিনয়ে নাম লিখিয়েছে লুবাবা। দাদার কাছ থেকে শিখেছে অভিনয়ের 'অ আ'।  তাইতো সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কাঁদতে কাঁদতে দাদার জন্য দোয়া চেয়েছে লুবাবা।

দাদার সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, এমন প্রশ্নে কাঁদতে কাঁদতে লুবাবা বলে, ‘শেষদিন দাদার সঙ্গে কথা হয়নি। শেষদিন কথা বলেননি দাদা। আগের দিন বলেছিলেন, তুমি সব সময় ভালো কাজ করবে, বড়দের সম্মান করবে।’ এরপর কান্নায় আর কথা বলতে পারেনি লুবাবা। ওই কয়েকটি কথার ভিডিও সোশ্যাল সাইটগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে কান্না ধরে রাখতে পারেনি নেট জনতা। এরপরে শিল্পকলা একাডেমির আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় । সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে লুবাবা কান্নার দমকে অনেকক্ষণ কথাই বলতে পারেনি। 

কয়েক দিন আগে আব্দুল কাদেরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সিমরিন লুবাবা ফেসবুকে দুটি ভিডিও পোস্ট করে। সেখানে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে, 'কেন আমার দাদাকে আপনারা মেরে ফেলছেন এভাবে?' 

এর আগে আব্দুল কাদেরের স্ত্রী খাইরুন নেসা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, উনি সব কাজ শেষ করে যেতে পারেননি, কিছু কাজ তো বাকি আছে। নাতি-নাতনি (নাতি সাদমান এহসাস ও নাতনি সিমরীন লুবাবা) তাঁর জান ছিল, সব সময় বুকে আগলে রাখতেন, পাগল ছিলেন... শেষবারের মতো উনি দেখে যেতে চাইতেন, নাতি-নাতনি পড়াশোনা করবে; নাতনি এখন যে অভিনয় করছে, ওটা নিয়মিত করবে। তারপর সে গান শিখবে। তারপর তাঁর ইচ্ছা ছিল, সে ডাক্তার হবেই। এই কাজগুলো তিনি করে যেতে পারলেন না। নাতনিকে নিজে কেঁদে কেঁদে অভিনয় করে দেখাতেন... এভাবে করবে...।’ এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন খাইরুন নেসা।

রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস সেন্ট্রাল মসজিদে সদ্যঃপ্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুল কাদেরের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয় বাদ জোহর। জানাজায় অংশ নেন অভিনেতার আত্মীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠজন ও মসজিদের মুসল্লিরা। রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নেওয়া হয় মরদেহ। বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে।

অভিনেতা আব্দুল কাদের এভারকেয়ার হাসপাতালে শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গনজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাদেরের প্যানক্রিসের (অগ্ন্যাশয়) ক্যান্সার জটিল আকার ধারণ করলে গত ৮ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। বেশ কিছু পরীক্ষার পর ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর শহরের সিএমসি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এ অভিনেতাকে। এরপর তাঁর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। শুক্রবার মধ্যরাতে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা