kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আলী যাকের করোনায় আক্রান্ত ছিলেন, বাদ আছর জানাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলী যাকের করোনায় আক্রান্ত ছিলেন, বাদ আছর জানাজা

সদ্য প্রয়াত বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকের। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় চার বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা আলী যাকের। লড়াকু এই মুক্তিযোদ্ধা শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। আলী যাকেরের পুত্র ইরেশ যাকের জানিয়েছেন, 'মৃত্যুর দুই দিন আগে বাবার করোনা শনাক্ত হয়।' 

ইরেশ জানিয়েছেন, আলী যাকেরের নামাজে জানাজা আজ শুক্রবার বাদ আছর বনানী গোরস্তান মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে জনপ্রিয় এই ব্যক্তিত্বের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

সম্প্রতি আলী যাকেরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে গত ১৫ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ শুক্রবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ছোট পর্দায় ও মঞ্চে সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।

আলী যাকের ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের রতনপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। মাহমুদ তাহের ও রেজিয়া তাহেরের চার সন্তানের মধ্যে আলী যাকের ছিলেন তৃতীয়। পিতার সরকারি চাকরির সুবাদে তিনি কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরে শৈশব অতিবাহিত করেন।
আলী যাকের ১৯৬০ সালে সেন্ট গ্রেগরিজ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন।

আলী যাকের এ দেশের নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রধান ছিলেন। ১৯৭২ সালের আলী যাকের আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে মামুনুর রশীদের নির্দেশনায় মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকটিতে প্রথম অভিনয় করেন, যার প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে। ১৯৭২ সালের জুন মাসের দিকে আতাউর রহমান ও জিয়া হায়দারের আহ্বানে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন। ওই দলে তিনি আতাউর রহমানের নির্দেশনায় বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন, যার প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল ওয়াপদা মিলনায়তনে। ১৯৭৩ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে তিনি প্রথম নির্দেশনা দেন বাদল সরকারের বাকি ইতিহাস নাটকে, যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর যাত্রা।

নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের জন্য বিশ্বখ্যাত বিদেশি নাটকের বাংলা রূপান্তর আর নাটক নির্দেশনা- এসব কাজে আলী যাকের ব্যস্ত ছিলেন।

আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের একজন।

আলী যাকের দেশীয় বিজ্ঞাপনশিল্পের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির কর্ণধার ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী। ফুল, পাখি ও প্রকৃতি নিয়ে তিনি কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন। এসব নিয়ে তাঁর বইও প্রকাশিত হয়েছে। 

আলী যাকেরের পুরো পরিবারই সাংস্কৃতিক পরিবার। স্ত্রী অভিনেত্রী সারা যাকের, ছেলে নাট্যাভিনেতা ইরেশ যাকের, মেয়ে রেডিও উপস্থাপক শ্রিয়া সর্বজয়া।

শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক এবং মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা