kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

আড়াই মন স্বপ্ন নিয়ে ফজলুর রহমান বাবু ও মৌটুসী যা বললেন...

মীর রাকিব হাসান

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ১০:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আড়াই মন স্বপ্ন নিয়ে ফজলুর রহমান বাবু ও মৌটুসী যা বললেন...

নিম্নবিত্ত একটি পরিবারের কর্তা দিলদার। করোনাকালে শহর ছেড়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গ্রামে ফিরে যায়। গ্রামে গিয়ে মুখোমুখি হতে হয় একের পর এক প্রতিবন্ধকতার। ত্রাণ পেতে প্রাথমিক শর্ত কার্ড পেতে হবে। এই কার্ডের জন্য শুরু হয় নানা চেষ্টা-তদবির। ত্রাণের চাল পেতে এলাকার দুর্নীতিগ্রস্ত জনপ্রতিনিধিদের ঘুষও দিতে হয়। একসময় দিলদার জানতে পারে তাকে রাখা হয়েছে মৃত মানুষের তালিকায়। ‘আড়াই মণ স্বপ্ন’ স্বল্পদৈর্ঘ্যের গল্পটা এভাবেই এগিয়েছে। দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, মৌটুসী বিশ্বাস, রওনক ও দীপক সুমন। গল্পের প্রধান চরিত্রে বাবুই, তবে  যোগ্য পর্দাসঙ্গীরা তাঁর চরিত্রটাকে আরো শক্ত করেছেন।

ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমার জানা মতে বাংলাদেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন পর্যন্ত যত কাজ আলোচিত হয়েছে, সেগুলো সমালোচিতও হয়েছে। এই কাজটির এখন পর্যন্ত কোনো সমালোচনা চোখে পড়েনি। সব জায়গায় প্রশংসাবাক্যই পাচ্ছি।’

‘গল্পটা আমাদের খুবই চেনা। দিলদারের মতো কেউ যখন শুধু ভাতের জন্য অসৎপথে যায়, তার পেছনে একটা দুর্দশার গল্প থাকে। দৈনন্দিন জীবনে দিলদাররা কিছু একটা করে খাচ্ছিল, কিন্তু সর্বস্বান্ত করে করোনা তাদের গ্রামে পাঠিয়েছে। দিলদারের পরিবারটাও কিন্তু আড়াই মণ। স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে যদি দুই মণ হয়, তাদের ছোট সন্তান নিশ্চয়ই অর্ধেক’, বললেন মৌটুসী।

করোনাকালে পত্রপত্রিকায় আমরা মানুষের জীবনযাপনের যেসব গল্প পড়েছি, সেসব গল্পই উঠে এসেছে এখানে। মৌটুসী যোগ করলেন, ‘এখানে বাড়তি কিছু করেননি পরিচালক। শুধু গল্পগুলো সুতায় বেঁধে একটা মালা গাঁথার কাজ করেছেন। এ কারণেই প্রতিটি দৃশ্য অর্থপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

‘আড়াই মণ স্বপ্ন’ স্যাটায়ারধর্মী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। কমেডির নামে ভাঁড়ামি নেই এখানে। বাবু বলেন, ‘সাধারণত মঞ্চে আমরা এমন স্যাটায়ার করে থাকি। টিভি নাটকে খুব একটা দেখা যায় না।  সেই মেধার কাজ এখন অনুপস্থিত। যে গল্পটা দেখানো হয়েছে সেটা আমাদের সবারই জানা। চেনা গল্পটাকে সুনিপুণভাবে তুলে ধরার কৃতিত্ব পুরোটাই পরিচালকের।’

সহশিল্পীদের নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী। বিশেষ করে ফজলুর রহমান বাবুকে নিয়ে। মৌটুসী বলেন, ‘বাবু ভাই যদি বিদেশি হতেন, এত দিনে তাঁর শোকেসে অস্কার বা গোল্ডেন বেয়ার শোভা পেত। আমরা গর্বিত, আমাদের একজন বাবু ভাই আছেন। মহড়া কিংবা অভিনয়ে সহশিল্পীদের গল্পে ইনভলব রাখার আশ্চর্য ক্ষমতা তাঁর। এই স্বল্পদৈর্ঘ্যটি করতে গিয়ে নতুন করে ভক্ত হলাম বাবু ভাইয়ের। রওনক হাসান, আমি, দীপক, সুমনদা যতটুকু সুযোগ পেয়েছি, সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছি।’

সহশিল্পীদের নিয়ে বললেন বাবুও, ‘মৌটুসী দারুণ অভিনেত্রী। সব সময় ভালো চরিত্রের জন্য মুখিয়ে থাকে। যখন পায়, জাস্ট ফাটিয়ে দেয়। এখানেও তা-ই করেছে। সামনে যখন কেউ ভালো অভিনয় করে, তখন নিজের মধ্যে চ্যালেঞ্জ আরো বাড়ে। রওনক, দীপকও ভীষণ ভালো অভিনয় করেছে।’

ভালো বা খারাপ অভিনয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটা হয়ে উঠতে পারা, মৌটুসীর মত এটাই। তাঁকে এ ব্যাপারে ভীষণ সাহায্য করেছেন আবু শাহেদ ইমন। মৌটুসী বলেন, ‘ও প্রচণ্ড ভালো একজন নির্মাতা এবং লিডার। টিম ম্যানেজ করার অসাধারণ দক্ষতা তাঁর। অভিনয়শিল্পীকে চরিত্রে রূপান্তর করে তাকে গল্পের ভেতর ডুবিয়ে রাখতে পারে ও।’

করোনাকালীন গল্প নিয়ে ‘বাঘ বন্দি সিংহ বন্দি’। সিরিজের পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের বাকি চারটি নির্মাণ করেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম [যাত্রী], নুরুল আলম আতিক [নিষিদ্ধ বাসর], অমিতাভ রেজা [এসো বসে একসাথে খাই], ও অনিমেষ আইচ [মুখ আসমান]। পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রই দেখেছেন মৌটুসী। আলাদা আলাদা প্রশংসাও করলেন সেগুলোর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা