kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

আলোচিত দুই ছবি নিয়ে চালু হচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স

অনলাইন ডেস্ক   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ১৪:৩৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আলোচিত দুই ছবি নিয়ে চালু হচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স

দীর্ঘ অচলাবস্থার পর আবার সরব হয়ে উঠছে সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের প্রিয় স্টার সিনেপ্লেক্স। মহামারি কভিড-১৯-এর কারণে প্রায় সাত মাস বন্ধ ছিল জনপ্রিয় এই মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল। ২৩ অক্টোবর থেকে পুরোদমে চালু হচ্ছে তাদের সবগুলো শাখা। এদিন একসঙ্গে হলিউডের দুটি আলোচিত ছবি মুক্তি দিচ্ছে তারা। একটি ক্রিস্টোফার নোলানের ‘টেনেট’, অন্যটি ডিজনির লাইভ অ্যাকশন ‘মুলান’। ছবিগুলোর জন্য রীতিমতো মুখিয়ে ছিলেন দর্শকরা। করোনাভাইরাসের কারণে দুটি ছবিরই মুক্তি আটকে যায়। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকদের বেশ ভালো সাড়া লক্ষ করা যায়। বিশ্বের অনেক দেশেই করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক দর্শক সিনেমা হলে ভিড় করে। এবার বাংলাদেশের দর্শকদের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে যাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে মাল্টিপ্লেক্সটি। প্রতিটি হলের আসনসংখ্যার ৪০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হবে। টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ লেনদেন না করে অনলাইনে টিকিট নেওয়াকে উৎসাহিত করছে তারা। 

প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ‘টেনেট’ 
করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ক্রমান্বয়ে সচল হতে শুরু করেছে সিনেমা হল। দর্শক উপস্থিতি নিয়ে সংশয় থাকলেও ক্রিস্টোফার নোলানের ‘টেনেট’ তা অনেকটা ভুল প্রমাণ করেছে। ধারণা করা হয়েছিল, প্রথম উইকএন্ডে ছবিটির আয় চার কোটি ডলারের মতো হতে পারে। কিন্তু প্রত্যাশা ছাড়িয়ে আয় করেছে ৫.৩ কোটি ডলার। ২০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের ছবিটির এ যাবৎ আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। মহামারির কারণে ইউরোপ, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৪১টি অঞ্চলে মুক্তি পেয়েছে ‘টেনেট’। শুরু থেকেই ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা ছিল বেশি। কারণ এর পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান। হলিউডের সমসাময়িক সেরা পরিচালকদের তালিকা করলে প্রথম দিকেই তাঁর নাম থাকবে। কিন্তু করোনার ভয়াল ছোবলে সব কিছুর মতো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ‘টেনেট’-এর মুক্তিও। অবশেষে আলোর মুখ দেখল ছবিটি। থিয়েটার খুলে দেওয়ার পর প্রথম বড় বাজেটের চলচ্চিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে মুক্তি পেয়েছে এটি। 

অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী এ ছবির গল্প এক সিআইএ এজেন্টকে ঘিরে। ‘টেনেট’ শব্দটিকে কেন্দ্র করেই ছবির মূল রহস্য। সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা এই গুপ্তচরের লক্ষ্যটা একটু অন্য রকম। সে চায় আসন্ন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হাত থেকে পুরো পৃথিবীকে রক্ষা করতে। এ লড়াইয়ে তাকে জড়িয়ে পড়তে হয় জটিল সব জালে। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জন ডেভিড ওয়াশিংটন। এ ছাড়া তারকাবহুল ছবিটিতে আরো দেখা যাবে রবার্ট প্যাটিনসন, এলিজাবেথ ডেবিকি, মার্টিন ডনোভান, অ্যারন টেইলন জনসন, মাইকেল কেইন, কেনেথ ব্রানার মতো অভিনেতাদের। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে আছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া। প্রায় ১০ বছর ধরে ছবির গল্প সাজাচ্ছিলেন ক্রিস্টোফার নোলান। চেয়েছিলেন, পদার্থবিজ্ঞানের গোলমেলে বিষয়ের সংস্পর্শে থেকে একটি স্পাই-থ্রিলার বানাতে। তবে নির্মাণের সময় যাতে অন্য কোনো ছবির প্রভাব না পড়ে এ জন্য প্রিয় বন্ড সিরিজের ছবিও দেখা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। চিত্রনাট্য নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছিলেন নোলান। রবার্ট প্যাটিনসনকে একটি বদ্ধঘরে আটকে রেখে চিত্রনাট্য পড়তে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে মাইকেল কেইন তো পুরো চিত্রনাট্য পড়ার সুযোগই পাননি। চিত্রায়ণ শেষ হওয়ার পর কেইন বলেন, ‘এখনো চলচ্চিত্রটির গল্প নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই আমার।’ প্রধান চরিত্রে রূপদানকারী জন ডেভিড ওয়াশিংটন অভিনয়ে আসার আগে ছিলেন ফুটবলার। প্রচণ্ড শারীরিক শক্তির অধিকারী এই তারকার সঙ্গে তাল মেলাতে বেশ কষ্ট হয়েছে রবার্ট প্যাটিনসনের। মজা করে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে জনের সঙ্গেই আমার বেশির ভাগ দৌড়ের দৃশ্য ছিল। তার সঙ্গে তাল মেলাতে প্রতিদিন অতিরিক্ত ব্যায়াম করতে হয়েছে আমাকে।’ চলচ্চিত্রটির গল্প নিয়ে দারুণ খুশি জন, ‘আমি প্রায় ছয় ঘণ্টা চিত্রনাট্যটি পড়েছি। মুগ্ধ হয়ে বারবার আমি পেছনের পৃষ্ঠায় ফেরত যাচ্ছিলাম।’

ডিজনির নতুন লাইভ অ্যাকশন ‘মুলান’ 
ডিজনি প্রিন্সেস মুলানের কথা মনে আছে কমবেশি সবারই। বই পড়ে কিংবা ১৯৯৮ সালে নির্মিত এনিমেটেড ছবি ‘মুলান’ দেখেই হোক না কেন, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা আর অকুতোভয় চরিত্রটির কথা ভুলে যাওয়ার কথা নয়। এবার পর্দায় আসছে ডিজনি নির্মিত পুরনো সেই এনিমেটেড মুলানের লাইভ অ্যাকশন ছবি। ‘মুলান’ নামেই আসছে এটি। বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় এ ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল গেল মার্চে। কিন্তু কভিড-১৯-এর কারণে তা আটকে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ২০ সেপ্টেম্বর ডিজনির ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিজনি প্লাসে মুক্তি পায় ছবিটি। 
চলচ্চিত্রের গল্পটি মূলত নির্ভীক তরুণীর রোমাঞ্চকর মহাকাব্য নিয়ে নির্মিত। যে কিনা পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিল। এটি ডিজনির মূল চলচ্চিত্রটির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হচ্ছে। তবে এর মূল গল্প নেওয়া হয়েছে কবিতা ‘দ্য ব্যালাড অব মুলান’ থেকে। আসন্ন লাইভ অ্যাকশন চলচ্চিত্রটির পরিচালনায় আছেন নিকি কারো। হুয়া মুলানের চরিত্রে রূপ দিচ্ছেন লিউ ইফিই। আগের চলচ্চিত্রটিতে দেখানো টুইস্ট যথার্থভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানেও। ছবিটি নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল শুরু থেকেই। ছবির প্রথম টিজার ট্রেইলার প্রকাশের পর রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল সবাই। ডিজনি প্লাসে মুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রে দারুণ সাড়া মেলে দর্শকদের। "দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি ডিজনিরই কোনো পুরনো চলচ্চিত্রের রিমেক। বরং লাইভ অ্যাকশন ‘মুলান’ সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা"- এমন মন্তব্য করেছেন অনেক দর্শক। সমালোচকদের রিভিউতেও ভালো ফল পেয়েছে ছবিটি। এ ছবির আরো একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, ডিজনি এর জন্য নির্বাচন করেছে সব এশিয়ান অভিনেতা-অভিনেত্রীকে। এমনকি মূল চরিত্র তথা মুলান চরিত্রে অভিনেত্রী লিউ ইফিই যে এর জন্য যোগ্য, তা জানিয়েও মন্তব্য করেছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা