kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনায় ভারতের প্রখ্যাত গায়ক এস পি বালসুব্রহ্মণ্যমের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় ভারতের প্রখ্যাত গায়ক এস পি বালসুব্রহ্মণ্যমের মৃত্যু

প্রখ্যাত গায়ক এস পি বালসুব্রহ্মণ্যম, ফাইল ছবি।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতের প্রখ্যাত গায়ক এস পি বালসুব্রহ্মণ্যম। শুক্রবার সকালে ৭৪ বছর বয়সে মারা গেলেন তিনি। দিন কয়েক আগে কোমা থেকে ফিরলেও দুদিন ধরে ক্রমশই তাঁর অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। অবশেষে এদিন সকালে হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গায়কের পুত্র এসপি চরণ তাঁর বাবার মৃত্যুর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

১৯৪৬ সালের ৪ জুন মাদ্রাজে (অধুনা চেন্নাই) জন্ম হয় তাঁর। ছোট থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল বিশেষ অনুরাগ। ১৯৬৬ সালে 'শ্রী শ্রী মর্যাদা রামান্না' নামে এক তেলেগু ছবির মধ্য দিয়েই সংগীতজগতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। এরপর একে একে নানা হিন্দি, তামিল, তেলেগু ছবিতে গান গেয়ে ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির গায়কের তকমা পেয়ে যান এস পি। এক দিনে ২১টি গান রেকর্ড করার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

সালমান খানের বলিউডে উত্থান মূলত এস পির হাত ধরেই। ১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে বলিউডে আত্মপ্রকাশ সালমানের। একমাত্র ‘আয়া মৌসম দোস্তি কা’ ছাড়া ছবিতে সালমানের গলায় সব কটি গানই বালসুব্রহ্মনিয়মের গাওয়া, যার মধ্যে ‘আতে যাতে’, ‘দিল দিওয়ানা’ এবং ‘মেরে রঙ্গ মে’র মতো সুপারহিট হয়েছিল।

এরপর ১৯৯১ সালেই ‘পাত্থর কে ফুল’ ছবিতে সালমানের হয়ে সাতটি গানে গলা দেন বালসুব্রহ্মনিয়ম। এর মধ্যে ‘কভি তু ছালিয়া লগতা হ্যায়’ এবং ‘তুমসে জো দেখতে হি প্যায়ার হুয়া’ গান দুটি সুপারহিট হয়। ওই বছরই 'সাজন' ছবিতে এস পির গলায় গাওয়া ‘বহুত প্যায়ার করতে হ্যায়’, ‘তুমসে মিলনে কি তমন্না হ্যায়’, ‘পহেলি বার মিলে হ্যায়’ আজও শ্রোতাদের মনে ভাস্বর। পড়ে অবশ্য বিশেষ কারণে ভেঙে গিয়েছিল সলমন-এসপি জুটি।

গত ২২ সেপ্টেম্বরই এস পি বালসুহ্মনিয়ম-এর ছেলে এস পি চরণ টুইট করে জানিয়েছিলেন, শিল্পীর অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। চলছে ভেন্টিলেটর এবং ফিজিওথেরাপি। পানিও পান করতে পারছেন। হাসপাতাল ছেড়ে দ্রুত বাড়ি ফিরতে চান তিনি।

তাঁর প্রয়াণে রাজনীতি থেকে বিনোদনের জগৎ, সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ আর রাহমান থেকে অক্ষয় কুমার, লতা মুঙ্গেশকর, মহেশ বাবু শোক প্রকাশ করেছেন প্রিয় গায়কের মৃত্যুতে। শোক প্রকাশ করেছেন এসপির দীর্ঘদিনের বন্ধু রজনীকান্ত ও অমিতাভ বচ্চন।

ছয়টি জাতীয় পুরস্কারের বিজয়ী এস পি বালসুব্রাহ্মণ্যম নিজের জীবন ধরে বিশাল কাজ করে গেছেন। রেখে গেছেন বহু স্মৃতি। প্রায় ১৪টি ভাষায় ৪০,০০০-এর বেশি গান গেয়েছেন তিনি। প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ইলিয়া রাজা, এ আর রহমান এবং অন্য সুরকারদের সঙ্গে বহু অবিস্মরণীয় কাজ করেছিলেন এসপি। সংগীতে তাঁর অবদানের জন্য ভারত সরকার এসপিবিকে পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণের পুরস্কারও প্রদান করে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা