kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আত্মাহুতির দিনে প্রীতিলতার ওপর সিনেমার মহরত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৬:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আত্মাহুতির দিনে প্রীতিলতার ওপর সিনেমার মহরত

ভারতের মুক্তিসংগ্রামের বিপ্লবী এই নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্ব রাতে সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে ধরা পড়ার পর আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। তাঁর ৮৮তম আত্মাহুতি দিবস ছিল আজ বৃহস্পতিবার। আত্মাহুতি দিবসে তাঁর ওপর নির্মিতব্য সিনেমা ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’র মহরত অনুষ্ঠিত হলো চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর মিলনায়তনে। 

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ অবলম্বনে সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য এ চলচ্চিত্র। 
মহরত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। আয়োজনে সভাপতিত্ব করবেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। 

মহরত অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও পরিচালক প্রদীপ ঘোষ অভিনয়শিল্পীদের পরিচয় করিয়ে দেন। প্রীতিলতা চরিত্রে অভিনয় করবেন নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাস চরিত্রে থাকছেন মনোজ প্রামাণিক। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে প্রীতিলতার বাবা চরিত্রে খ্যাতিমান নাট্যকার ও অভিনেতা মান্নান হীরা। কিশোরী প্রীতিলতা মৃন্ময়ী রূপকথা। সূর্য সেন চরিত্রে কামরুজ্জামান তাপু, কল্পনা দত্ত চরিত্রে ইন্দ্রানী ঘটক। চলচ্চিত্রের পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন শিল্পী কনক আদিত্য। সংগীত পরিচালনা করছেন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। শিল্পনির্দেশনায় রয়েছেন শিল্পী জাহিদ মোস্তফা এবং মুজিবুল হক। প্রযোজনা নির্বাহী হিসেবে থাকছেন রিফাত মোস্তফা। 

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং দেশের সংস্কৃতি বিনির্মাণে চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই চলচ্চিত্র আগামী প্রজন্মের চেতনা বিকাশে সহায়ক হবে। 

প্রীতিলতার আত্মাহুতির বীরোচিত ঐতিহাসিক ঘটনার বিশদ বিবরণ নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি। কলকাতায় বেথুন কলেজে অধ্যয়নকালে বীরকন্যা প্রীতিলতার চেতনায় অঙ্কুরিত হয় স্বদেশ মুক্তির ব্রত। চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী ছাত্র রামকৃষ্ণ বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি হয়ে আলীপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন। হাইকোর্টে ফাঁসির রায় ঘোষণার পর পত্রিকায় তা ছাপা হয়। প্রীতিলতা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি পড়ে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসকে একবার দেখার জন্য উদ্যোগী হন। তাঁর এক আত্মীয়ার মাধ্যমে জেলারের কাছে আবেদন করেন রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের বোন পরিচয়ে। অমিতা দাস ছদ্ম নামে প্রীতিলতা চল্লিশবার জেলে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের কাছে যান এবং একসময় তাঁদের এ পরিচয় প্রণয়ের দিকে এগিয়ে যায়। রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসি হওয়ার পর আহত হৃদয় নিয়ে প্রীতিলতা চট্টগ্রাম ফিরে আসেন। মাস্টারদা সূর্য সেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরাসরি সশস্ত্র লড়াইয়ে যোগ দেন। পলাতক জীবনে মাস্টারদা তাঁকে ইউরোপিয়ান ক্লাব হামলার দায়িত্ব প্রদান করেন। হামলায় প্রীতিলতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। গ্রেপ্তার এড়াতে সায়ানাইড গ্রহণ করে জীবন বিসর্জন দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা