kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

'সরকারের সহায়তা না পেলে বন্ধ হয়ে যাবে স্টার সিনেপ্লেক্স'

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ১২:১২ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



'সরকারের সহায়তা না পেলে বন্ধ হয়ে যাবে স্টার সিনেপ্লেক্স'

শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, পর্যটনসহ দেশের অর্থনীতির প্রায় সব খাত যখন সচল হয়ে গেছে তখন কেবল আমাদের সিনেমা হল বন্ধ। এটা আমাদের জন্য খুব হতাশাজনক। অথচ আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হলগুলো সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চমৎকার উদাহরণ হতে পারে। নির্ধারিত আসনের জন্য অল্পসংখ্যক লোক টিকেটের বিনিময়ে সিনেমা দেখে। অন্যান্য জনবহুল স্থানের তুলনায় এখানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মানুষের বিনোদনের সুযোগ করে দেয়া সম্ভব বলে আমরা মনে করি। স্টার সিনেপ্লেক্স বরাবরই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন। এখানকার কর্মীসহ আগত সকলের জন্য বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার, হলের আসনগুলো নিয়মিত জীবানুমুক্তকরণসহ স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার সব ধরণের সুব্যবস্থা রয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে, চীন, জার্মানি, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ইতালি, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এরইমধ্যে সিনেমা হল চালু করা হয়েছে। ভারতেও এ মাসে সিনেমা হল খুলে দেয়ার কথা রয়েছে। শুধু তাই নয়, সংস্কৃতি ও বিনোদন সংশ্লিষ্ট শিল্পকে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আর্থিক সহায়তাও করছে বিভিন্ন দেশের সরকার। মুভি থিয়েটারসহ ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর জন্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা বিল পাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৫ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার দিয়েছে ২ বিলিয়ন ডলার। চলচ্চিত্র শিল্পের মেরুদ- বলা যায় সিনেমা হলকে। হল না বাঁচলে চলচ্চিত্র বাঁচবে না। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন অনতিবিলম্বে দেশের সিনেমা হলগুলো খুলে দেয়া হোক। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সিনেমা হল পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাবে, তাই টিকেট থেকে ভ্যাট, ট্যাক্স মওকুফ করা হোক। এছাড়া সুদবিহীন ঋণসহপর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা অত্যান্ত জরুরি।
 
দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা যখন হলবিমুখ হয়ে পড়েছিলো, দর্শকের অভাবে একের পর এক হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো তখন নতুন প্রাণের সঞ্চার করে স্টার সিনেপ্লেক্স। নান্দনিক পরিবেশ, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্বলিত সাউন্ড সিস্টেমসহ নানা অভিনবত্বর মধ্য দিয়ে দর্শকদের প্রিয় নাম হয়ে ওঠে দেশের প্রথম এই মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর দেশী ও বিদেশী সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে হলবিমুখ দর্শকদের পুনরায় হলমুখী করতে সক্ষম হয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স। হলিউডের নতুন নতুন সব ছবির পাশাপাশি সুস্থধারার দেশীয় ছবিও নিয়মিতভাবে প্রদর্শিত হয় এখানে। পরিবারের মানুষদের নিয়ে সিনেমা হলে যাওয়ার ধারাটা ফিরে এসেছে এই প্রেক্ষাগৃহের মাধ্যমে। বর্তমানে স্টার সিনেপ্লেক্সে কাজ করছে তিন শতাধিক কর্মী। যুক্ত রয়েছে ৬০ এর বেশি সাপ্লায়ার এবং বানিজ্যিক সহযোগী। 
 
ইতিমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে ১৫টি স্ক্রিন রয়েছে। মিরপুরে চতুর্থ শাখা চালুর জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ যাবৎ আমরা প্রায় তিন শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেছি যার প্রায় অর্ধেকই জনপ্রিয়তা এবং ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। দর্শকদের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। মৃতপ্রায় বাংলা চলচ্চিত্র অনেকটা ঘুরে দাড়িয়েছে এবং মানসম্মত ব্যবসাসফল কিছু ছবি নির্মিত হয়েছে। অনেক বাংলা ছবি হয়েছে যা হলিউড মুভির চেয়েও ভালো দর্শক সমাগম ছিলো। এমনকি এখন কিছু কিছু বাংলা ছবি তৈরী হচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্সের দর্শকদের জন্যই। 
 
বর্তমান করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে আমাদের সিনেমা হলসমূহ বিগত প্রায় ৫মাস যাবৎ বন্ধ। যার ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমান লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের। দর্শকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের তিনটি নতুন শাখা চালু করা হয়। দীর্ঘদিন বন্ধের কারণে আমাদের কোন আয় নেই। ঋণের সুদ এবং কর্মীদের বেতন চালিয়ে নেয়া রীতিমত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় সিনেমা হল চালু না হলে এবং সরকারের কাছ থেকে জরুরি আর্থিক সহায়তা না পেলে আমাদের হলগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। দ্রুত সিনেমা হল দর্শকদের জন্য খুলে দেয়া এবং সরকারের আর্থিক তহবিলই এই মুহূর্তে চলচ্চিত্রশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। 
 
এই শিল্পে বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলে চরম সংকটপূর্ণ সময়ের মুখোমুখি। লোকসানের কবলে পড়ে সিনেমা হল এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষদের জীবন ও জীবিকা এক অন্ধকারময় ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এই শিল্প ক্রমশ গভীর অনিশ্চয়তার দিকে পতিত হবে। করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারনে আমাদের দেশীয় কোন চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে না, একই কারনে হলিউডেরও কোন ছবি আমদানি করা যাচ্ছে না। সিনেমা বাঁচাতে হলে আগে সিনেমা হল বাঁচাতে হবে। সিনেমা বাঁচাতে, সিনেমার সোনালী দিন ফেরাতে স্টার সিনেপ্লেক্সের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। 
 
এই দুঃসময়ে আমাদের শেষ ভরসা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই পারেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই চলচ্চিত্র শিল্প এবং এর সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষ ও তাদের পরিবারকে রক্ষা করতে। তাই আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের নিম্নলিখিত দাবী সমূহ তুলে ধরছিঃ 
 
১) নগরবাসীর বিনোদনের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনতিবিলম্বে সিনেমা হলসমূহ খুলে দেয়া হোক। 
২) জরুরি আর্থিক সহায়তা কিংবা প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা।
৩) সিনেমা হলের টিকেটের উপর সকল প্রকার মুসক ও কর মওকুফের সুযোগ প্রদান। 
৪) সুদবিহীন ঋণ প্রদানের অনুমোদন।
৫) উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্র সমূহ শর্তহীন ভাবে আমদানীর অনুমতি প্রদান।
৬) শপিংমল কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ, করোনাকালীন পরিস্থিতে স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রতিটি শাখা বিভিন্ন শপিং মলে ভাড়ায় পরিচালিত হয়। এই করোনাকালীন সময়ে শপিং মল কর্তৃপক্ষের কাছে ভাড়া মওকুফ করা ও অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অর্ধেক ভাড়া নেয়ার অনুরোধ করছি।
৭) প্রযোজক সমিতির কাছে অনুরোধ, সেন্সর পাওয়া সিনেমাগুলো মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। শুধুমাত্র সিনেমা হল খুললেই হবে না নতুন ছবি মুক্তি না পেলে দর্শক হলে আসবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা