kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনাকালীন লেখা

আমি শুধু বোকা হয়ে কষ্ট গিলে গিলে মেঘটা সরাতে থাকি

শাহনাজ খুশি   

২ আগস্ট, ২০২০ ১২:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



 আমি শুধু বোকা হয়ে কষ্ট গিলে গিলে মেঘটা সরাতে থাকি

মানুষের জীবনে রাগ, দুঃখ, কষ্ট খুব সহজাত। ভণ্ড মানুষ ছাড়া সবারই এ কষ্ট, রাগ জীবনের অংশ। বেশির ভাগ মানুষের কষ্ট হলে, রাগ হলে, মা-বাবার বাড়ি, ভাই-বোন,আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি চলে যাই। আমার কোনো কালেই সে সুযোগ ছিল না। বাবুরা হওয়ার  আগে, রাগ হলে বাসা থেকে বের হয়ে হাঁটতাম। যতক্ষণ না ক্লান্ত না হয়ে যাই। দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার, ফুলার রোড, ইডেন কলেজের সামনে, কখনো আজিজ সুপার মার্কেট, মিন্টো রোড! ভালো স্যান্ডেল থাকত না যেদিন, সেদিন পায়ে ফোসকা পড়ে যেত। তখন চারুকলার বকুলতলায় বসে থাকতাম লম্বা সময়!

বাবুরা হওয়ার পর, বিরাট এক পিছু টান। রাগে গা পুড়ে গেলেও বেশি সময় নিয়ে কোথাও যাওয়া যায় না। ওদের কথা মনে হলে সে এক অন্য কষ্ট হয়। তা ছাড়া আরেক বিপদ, মানুষজন চিনে ফেলে। নানা প্রশ্ন/সেলফিতে রাগ/কষ্টের স্বাধীনতা থাকে না। তাই রাগ হলে দীর্ঘদিন হলো পার্লারে গিয়ে বসে থাকি। কোনো কথা বলতে হয় না।তেল দিই, চুল ধুয়ে ফেলি, পা-হাতের নখ ফাইল করে ধুয়ে নিই। মনটা ওদের প্যাকেজ দরদে, একটু সুস্থির হলে বাসায় আসি!

আজ চার মাস আমার রাগ/কষ্টরাও বন্দি। লজ্জিত! অন্তরটা পুড়ে গেলে, বাথরুমে দরজা বন্ধ করে কিছুক্ষণ বসে থাকা ছাড়া কোনো উপায় নাই। প্রচণ্ড ক্ষোভে দু-এক দিন বের হয়ে, গ্যারেজে এসে পা আটকে যায়। মনে হয়, আমার ফেরা/বের হওয়ার সঙ্গে ওদের সুস্থতা জড়িত! কষ্টটা গিলতে গিলতে আবার ওপরে চলে যায়। এই চার মাস শুধু বেঁচে থাকছি। সব ইন্দ্রিয়কে গলা টিপে, পরিবারের সুস্থতার ডানা ঝাপটায়। রাগ-কষ্টগুলো রোজই আকাশ কালো করে জমে, বাইরের আকাশের স্বাধীনতা আছে, তাই যখন তখন ঝরে পড়ে, আর আমি শুধু বোকা হয়ে কষ্ট গিলে গিলে মেঘটা সরাতে থাকি! আর কত দিন... 

শাহনাজ খুশি, অভিনেত্রী 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা