kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

রাজশাহীতে এন্ড্রু কিশোরের শেষ যাত্রায় জায়েদ খান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুলাই, ২০২০ ১১:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীতে এন্ড্রু কিশোরের শেষ যাত্রায় জায়েদ খান

না ফেরার দেশে চলে গেছেন বাংলা গানের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক এন্ড্রু কিশোর। গত ৭ জুলাই তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। ছেলে-মেয়ে দেশের বাইরে থাকায় শেষ যাত্রার তারিখ নির্ধারণ করা হয় আজ ১৫ জুলাই। এন্ড্রু কিশোরের শেষ যাত্রায় সঙ্গী হয়েছেন ছেলে। মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা সিডনিতে গ্রাফিক ডিজাইন ও ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক মেলবোর্নে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা করছেন। তারা ফিরেছেন। 

যে বাংলা চলচ্চিত্রকে এন্ড্রু কিশোর অলংকৃত করেছেন নিজের কণ্ঠ দিয়ে। শেষ যাত্রায় সেই চলচ্চিত্রের মানুষেরা উপস্থিত হতে পারছেন না। করোনাকালীন এই দুঃসময়ে রাজশাহীতে এন্ড্রু কিশোরের শেষ যাত্রায় অংশ নেওয়া কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দূর থেকেই এই গানের বরপুত্রকে শেষ বিদায় জানাতে হচ্ছে চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের মানুষদের। 

তবে এন্ড্রু কিশোরকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছেন চিত্রনায়ক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। জায়েদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, এন্ড্রু কিশোর বাংলা চলচ্চিত্রকে যে অসামান্য উপহার দিয়েছেন তার শেষ যাত্রা যতই কষ্ট হোক, আমি যদি উপস্থিত থাকতে না পারতাম তাহলে অপরাধ হতো। কারণ আমি চলচ্চিত্র শিল্পীদের সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছি তাদের পক্ষ থেকে অন্তত আমার থাকা উচিৎ।

জায়েদ খান বলেন, 'গতকাল রাতে আমরা উপস্থিত রাজশাহী এসেছি। যদিও আসার পথে গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় নষ্ট হয়েছে। তারপরেও এসেছি। যে চলচ্চিত্রের জন্য এন্ড্রু কিশোর এতো কিছু তার শেষ যাত্রায় চলচ্চিত্রের মানুষ থাকবে না তা কী করে হয়?'

জানা গেছে, জায়েদ খানের সঙ্গে রয়েছে অভিনেতা জয় চৌধুরী ও মারুফ।

চার্চের আয়োজন শেষ হলে এন্ড্রু কিশোরের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে রাজশাহীর কালেক্টরেট মাঠের পাশে। সেখানে ক্রিশ্চিয়ান কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় যাবেন এদেশের প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর।

১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকযাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এন্ড্রু কিশোরের খুব জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘পদ্মপাতার পানি’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙ্গাল’ প্রভৃতি। এন্ড্রু কিশোর আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা