kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

করণ জোহরের আজকের সাফল্য যেভাবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ জুলাই, ২০২০ ১২:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করণ জোহরের আজকের সাফল্য যেভাবে

কল্পবিজ্ঞান সিরিজ ‘ইন্দ্রধনুষ’-এ অভিনয় করে কৈশোরে শুরু। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নামী প্রযোজকের ছেলে চলে গিয়েছেন ক্যামেরার পিছনেই। বলিউডে কর্ণ জোহর আজ একাধারে পরিচালক-প্রযোজক-চিত্রনাট্যকার-সঞ্চালক-অভিনেতা।

বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে স্নাতক করণ ছোট থেকেই হিন্দি সিনেমার ভক্ত। রাজ কাপুর, যশ চোপড়া এবং সূর্য বরজাতিয়ার ছবি দেখে খুঁটিনাটি শেখার চেষ্টা করতেন। ১৯৯৫ সালে ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছবিতে সহকারী পরিচালক ছিলেন করণ। নিজে প্রথম পরিচালনা করেন ১৯৯৮ সালে। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। সুপারহিট হয় ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’। বছর তিনেকের বিরতির পর তাঁর পরিচালনায় মুক্তি পায় ‘কভি খুশি কভি গম’। তার পর, ‘কভি আলবিদা না কহেনা’।

এক সময়ে সংখ্যাতত্ত্বে গভীর বিশ্বাস ছিল করণের। বিশ্বাস করতেন ইংরেজি ‘কে’ অক্ষর তাঁর জন্য শুভ। ছবির নাম সবসময় শুরু হত ‘কে’ দিয়েই। কিন্তু আর একটি বলিউডের ছবি দেখেই নিজের পুরনো বিশ্বাস থেকে সরে আসেন করণ। ২০০৬ সালের ছবি ‘লগে রহো মুন্নাভাই’ ছবি দেখে সংখ্যাতত্ত্বের প্রতি সব বিশ্বাস টলে যায় কর্ণের। ‘কে’ ছাড়া অন্য অক্ষর দিয়েও শুরু হতে থাকে তাঁর ছবি।

পরিচালক হিসেবে করণের বাকি ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘বম্বে টকিজ’, ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ এবং ‘লাস্ট স্টোরিজ’।

বাবা যশ জোহরের পরে ধর্মা প্রোডকশন হাউসের ব্যায়টনও বয়ে নিয়ে চলেছেন করণ। তাঁদের সংস্থার ব্যানারে মুক্তি পেয়েছে একের পর এক সুপারহিট হিন্দি ছবি।‘কাল হো না হো’, ‘ওয়েক আপ সিড’, ‘উই আর ফ্যামিলি’, ‘অগ্নিপথ (রিমেক), ‘ইত্তেফাক, ‘সিম্বা’, ‘রাজি’, ‘কলঙ্ক’, ‘গুড নিউজ’ এবং ‘কেশরী’-সহ আরও অজস্র এমন ছবির প্রযোজক ধর্মা প্রোডাকশন, যেগুলোর পরিচালকের দায়িত্বে করণ জোহর ছিলেন না।

প্রযোজনা-পরিচালনার দায়িত্ব সামলে করেছেন অভিনয়ও। ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছবিতে তিনি ছিলেন রকি-র ভূমিকায়। পাশাপাশি, ‘ওম শান্তি ওম’, ‘ফ্যাশন’, ‘লাক বাই চান্স’, ‘বম্বে ভেলভেট’, ‘শানদার’, সিম্বা’-সহ বেশ কিছু ছবিতে তিনি ছিলেন ক্যামিয়ো ভূমিকায়।

পরিচালক বা প্রযোজক আবার টেলিভিশন শো-এর সঞ্চালকও হবেন, এ কথা ভাবতে পারত না বলিউড। পুরনো সেই ধারণা ভেঙেছেন করণ। ‘কফি উইথ করণ-র সঞ্চালক তো বটেই। বিচারক হয়েছেন বেশ কিছু রিয়েলিটি শো-এরও। 

করণ জোহর কি সমকামী? এই প্রশ্ন দীর্ঘ দিন ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল গুঞ্জন হিসেবে। এই নিয়ে বছর তিনেক আগে মুখ খুলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, সবাই জানে তাঁর সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন। তিনি প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলতে চান না। কারণ বললে হয়তো তাঁর কারাবাসও হতে পারে! লোকে তাঁর সম্বন্ধে নানা রকম কিছু বললেও তাঁর কিছু এসে যায় না, মন্তব্য করণের। 

এ ভাবে সব অন্তরালে রেখেই করণ স্বীকার করে নেন তিনি সমকামী। তবে সেইসঙ্গে এ-ও জানান, নিজের পরিচয়ে তিনি গর্বিত। সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুতে যে কয়েক জন বলিউডি তারকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, করণ তাঁদের মধ্যে এক জন। অভিযোগ, কর্ণ জোহর এবং বলিউডের বিশেষ বিশেষ কয়েক জনের স্বজনপোষণ নীতির জন্য ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন সুশান্ত। 

নেটিজেনদের প্রশ্ন করণের এই পাপবোধের উৎস কোথায়? কেন তিনি অনুতপ্ত? তা হলে কি নিজের কৃতকর্মের অনুশোচনায় তিনি দগ্ধ হচ্ছিলেন? ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি পর্বে সুশান্ত ও আলিয়া একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সুশান্তকে অপদস্থ করা হয় বলে সোচ্চার নেটিজেওনরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে পুরনো সেই পর্বের ভিডিও ক্লিপ।

করণের পরিচালনা ও প্রযোজনায় বহু স্টারকিড পা রেখেছেন বলিউডে। সেই ধারা এবং কফি উইথ করণের পুরনো পর্বের প্রসঙ্গ টেনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হয় কর্ণের এই শোকপ্রকাশ আসলে ‘কুম্ভীরাশ্রু’ ছাড়া কিছুই নয়। সুশান্তের মৃত্যু পরবর্তী দিনগুলোতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ফ্যান ফলোয়িং হু হু করে হারিয়েছেন কর্ণ। নিজেও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন অনেকটা। মহাকাব্যিক বীরের মতো বলিউডের করণেরও সাফল্যের চাকা আজ অনেকটাই ঢুকে গিয়েছে। স্বজনপোষণ বিতর্কে। আনন্দবাজার 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা