kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

মমতাজউদদীন আহমদের চলে যাওয়ার এক বছর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জুন, ২০২০ ১২:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মমতাজউদদীন আহমদের চলে যাওয়ার এক বছর

খ্যাতিমান নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের আজকের এই দিনে (২ জুন) রাজধানীর তৎকালীন অ্যাপোলো  (বর্তমানে এভারকেয়ার) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মমতাজউদদীন ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দেশ ভাগের পর তার পরিবার তদানিন্তন পূর্ববঙ্গে চলে আসে। তাঁর পিতার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ ও মাতার নাম সখিনা বেগম।

মমতাজউদদীন মালদহ আইহো জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পর্যস্ত লেখাপড়া করে ১৯৫১ সালে ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তী কালে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বি.এ (অনার্স) ও এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।

নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ১৯৯৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন মমতাজউদদীন আহমদ। কলেজে পড়ার সময়ই ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী সরকারি কলেজের মুসলিম হোস্টেলের ইট ও কাদামাটি দিয়ে যে শহীদ মিনার গড়ে উঠেছিল, তাতে ভূমিকা ছিল তাঁরও। 

কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, পরে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন। তার রচিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে-হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার, নাট্যত্রয়ী, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, জমিদার দর্পণ, সাত ঘাটের কানাকড়ি। অভিনয় করেছেন শঙ্খনীল কারাগার, হাছন রাজা সহ বেশকিছু সিনেমায়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-  বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত, বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত, প্রসঙ্গ বাংলাদেশ, প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু (গবেষণা ও প্রবন্ধ)। নাটকের মধ্যে রয়েছে- নাট্যত্রয়ী, হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা (১৯৭১), কি চাহ শঙ্খ চিল (১৯৮৫), প্রেম বিবাহ সুটকেশ, জমিদার দর্পণ, রাজা অনুস্বরের পালা, ক্ষত বিক্ষত, রঙ্গপঞ্চাদশ, বকুল পুরের স্বাধীনতা, সাত ঘাটের কানাকড়ি, রাক্ষসী ইত্যাদি।

গদ্য রচনাসমগ্রের মধ্যে রয়েছে- চার্লি চ্যাপেলিন-ভাঁড় নয় ভব ঘুরে নয়, আমার ভিতরে আমি, জগতের যত মহাকাব্য, হৃদয় ছুয়ে আছে, লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, মহানামা কাব্যের গদ্যরূপ, সাহসী অথচ সাহস্য, নেকাবী এবং অন্যগণ, জন্তুর ভিতর মানুষ, ভালবাসিলেই, সজল তোমর ঠিকানা (উপন্যাস), এক যে জোড়া, এক যে মধুমতি (উপন্যাস), অন্ধকার নয় আলোর দিকে ইত্যাদি।

নাট্যকার হিসেবে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও শিল্প ও সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৬), একুশে পদক (১৯৯৭), নাট্যকলায় অবদানের জন্য ২০০৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা