kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

কান্না চেপে রাখতে পারছি না : শুভশ্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মে, ২০২০ ২১:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কান্না চেপে রাখতে পারছি না : শুভশ্রী

করোনাভাইরাস, আম্ফান-একের পর এক দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানব জীবন। লকডউনে ঘরবন্দি মানুষ। আর এলাকার পর এলাকা ধ্বংস আম্ফানে, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থাও। এমন অসহায় অবস্থা দেখে নিজেকে স্থির রাখতে পারলেন না ভারতের অভিনেত্রী শুভশ্রী। গর্ভস্থ সন্তানের জন্য ধরলেন কলম। জানালেন ছোট্ট প্রাণের সমস্ত না পাওয়া এবং এক মায়ের অসহায়তা। নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শেয়ার করলেন- তোর জন্য নামের এক চিঠি।

তিনি লিখলেন, মনটা বড্ড খারাপ। সারাক্ষণ চেষ্টা করছি মনটাকে ঠিক রাখার, কিছুতেই পারছি না। সবাই বলে প্রেগনেন্ট হলে হাসিখুশি থাকতে হয়, কী করে থাকব বল তো! তোর কথা ভেবেই সব ভুলার চেষ্টা করছি। কিন্তু এত ধ্বংসস্তূপ আগে কখনও দেখিনি যে… কান্না চেপে রাখতে পারছি না। নিজের মনটাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, যে না না এখন মন খারাপ করলে চলে না! ভাবছি তুই কী ভাববি… কিন্তু নিজেকে আটকে রাখতে পারছি না।

শুভশ্রী লেখেন, জানিস কত হাজার হাজার গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। কত আদ্যিকালের বটগাছ, আরো কত কী! সেগুলোকে আর ফেরানো যাবে না। আমি যে গাছকে এত ভালবাসতাম আগে কখনও অনুভব করিনি। গাছেদের জন্য এত মনখারাপ…ভাবিনি। তোকে গল্ফগ্রীন, সাউদার্ন এভিনিউ, ময়দানের সবুজ দৃশ্যগুলো আর দেখানো হলো না। সেই বড় বড় গাছগুলো…সেগুলো তো শুধু গাছ ছিল না। ছিল হাজার হাজার পাখির বাসা। তুই দেখতে পেলি না। ৮২ হাজার ঘর ভেঙে গেল এই ঝড়ে। কী করছে এখন সেই গৃহহারা মানুষগুলো? তারওপরে করোনার প্রভাব তো বাড়ছেই। এমনিই কম অভাব ছিল না ওদের…এখন মুখে তোলার অন্নটুকুও নেই। আশ্রয় বলতে মাথার ছাদটুকুই ছিল সেটাও উড়ে গেল। 

তিনি লিখেন, ভাবছি সবকিছুর বদলা নিতেই কী এসেছে এই বছরটা? তাহলে কি সত্যিই সব শেষ হয়ে যাবে? আমি বিশ্বাস করতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি শুধু ধ্বংস না সৃষ্টিও করবে এই পৃথিবী। তোকে সৃষ্টি করার যে আনন্দ প্রত্যেকদিন আমি উপভোগ করি, পৃথিবীর সবাই সেই আনন্দ উপভোগ করবে খুব তাড়াতাড়ি। শুধু সময়ের অপেক্ষা। রাতের পর দিনের অপেক্ষা।

সবকিছু সামলে বিশ্ব একদিন ঘুরে দাঁড়াবেই। আসতে আসতে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে তিলোত্তমা। তবে সন্তানকে লেখা শুভশ্রীর এই মন খারাপের চিঠি শুনতে গলার কাছে কান্না দলা পাকিয়ে আসছে। ক্ষত সেরে ওঠার আশায় তো সকলেরই।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা