kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

'সালমান হত্যা' বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সেই রুবি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৪:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'সালমান হত্যা' বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সেই রুবি

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই তদন্তের পর জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ড নয়, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেন।

আজ সোমবার সকালে ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পিবিআই প্রধান পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেন।

সালমান শাহ মৃত্যুর সময় এভাবে বলা হয়েছিল,  'সাড়ে ১১টার দিকে আবুল সামিরাকে জাগিয়ে বলেন, অনেকক্ষণ আগে ড্রেসিংরুমে ঢুকলেও তাঁর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। সামিরা দরজার ডুপ্লিকেট চাবি খুঁজতে থাকেন। পৌনে ১২টায় ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে আবুল ও সামিরা ড্রেসিং রুমের দরজা খুলে দেখেন ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছেন সালমান। সামিরা ও দুই কাজের মেয়ে সালমানকে উঁচু করে ধরেন। পাশের বাসার কাজের মেয়ে দড়ি কেটে সালমানকে নামিয়ে আনেন। দড়িটি ছিল ব্যায়ামের যন্ত্র থেকে বের করা। সালমান ফ্যান পর্যন্ত ওঠেন ঘরে থাকা একটি কাঠের মই দিয়ে। নামানোর পর পাশের বাসার কাজের মেয়েটি বলে, শরীর এখনো গরম। উনি মরেননি। তখন মাথায় ও গায়ে তেল মালিশ করা হয়। এ সময় মে ফেয়ার বিউটি পার্লার থেকে পারিবারিক পরিচিত রুবি আসেন, অংশ নেন সালমানকে বাঁচাতে। হাউজিং কমপ্লেক্সের ম্যানেজারও আসেন।

সালমানকে বাঁচাতে আসা রুবিই হতাকাণ্ডের ৭ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ অপমৃত্যু র মামলা করলে তাতে আপত্তি জানায় পরিবার। এরপর সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মাদ ভাইসহ ১১ জনকে সালমান শাহের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে হত্যা মামলা দায়ের করে সালমানের পরিবার। অন্য অভিযুক্তরা হলেন- সামিরার মা লতিফা হক লুসি, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, সহকারী নৃত্যপরিচালক নজরুল শেখ, ডেভিড, আশরাফুল হক ডন, রাবেয়া সুলতানা রুবি, মোস্তাক ওয়াইদ, আবুল হোসেন খান ও গৃহকর্মী মনোয়ারা বেগম।

কিছুদিন আগে ফেসবুকে এক ভিডিও প্রকাশ করে সালমানের মৃত্যুর রহস্যের নতুন মোড় ঘুরিয়ে দেন সেই রুবি। সেখানে তিনি দাবি করেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি। তাকে খুন করা হয়েছিলো। সেই খুনের সঙ্গে জড়িত সালমানের স্ত্রী ও তার বাড়ির লোকজন। খুনের সঙ্গে আরও জড়িত রুবির ছোট ভাই ও তার স্বামী। ভিডিও বার্তায় রুবি অনুরোধ করেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীকে, তিনি যেন সালমান খুনের মামলাটি পুনরায় তদন্তের ব্যবস্থা করেন। রুবি নিজে এই খুনের সাক্ষী দেবেন।

কিন্তু আড়াই বছর পূর্বে রুবির দেওয়া বক্তব্য তিনি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। জানা গেছে রুবি অসুস্থ। তিনি অসুস্থ।  অ্যাটর্নি অফিসের মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়েছেন পিবিআই'র কাছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা