kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিজয়ীদের হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:৩৮ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



বিজয়ীদের হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের ‘হল অব ফেম’ তারকাদের উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেওয়া হলো ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৭-২০১৮’। পূর্বঘোষিত বিভাগগুলোতে বিজয়ী তারকাদের হাতে বিকেল ৪ টা ২০ মিনিট থেকে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 গত ৭ নভেম্বর একসঙ্গে ঘোষণা করা হয় ২০১৭ ও ২০১৮ সালের সিনেমার জন্য চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। গত দুই বছরে ২৮টি শাখায় ৬৩ জন পুরস্কৃত হয়েছেন।

২০১৭ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা পান বর্ষীয়ান অভিনয়শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান ও সালমা বেগম সুজাতা। ২০১৮ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করেন অভিনেতা প্রবীর মিত্র ও আলমগীর। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী এই চার গুণীকে পুরস্কার তুলে দেন।

২০১৭ সালের জন্য ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ও ২০১৮ সালের জন্য ‘পুত্র’কে দেয়া হয় ‘শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’র পুরস্কার। ২০১৮ সালে দর্শকদের মন জয় করা ‘পুত্র’ বাজিমাত করেছে পুরস্কারের সংখ্যায়। সর্বোচ্চ ১১ শাখায় পুরস্কার পায় ছবিটি। আর ২০১৭ সালে সর্বাধিক ৭ শাখায় পুরস্কার পায় ‘গহীন বালুচর’।

শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান যৌথভাবে শাকিব খান- সত্তা [২০১৭] ও আরিফিন শুভ- ঢাকা অ্যাটাক [২০১৭]। ফেরদৌস [পুত্র] ও সাইমন [জান্নাত] যৌথভাবে ২০১৮ সালের শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার গ্রহণ করেন।

আলোঝলমল আয়োজনে ২০১৭ সালের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার গ্রহণ করেন নুসরাত ইমরোজ তিশা [হালদা] এবং ২০১৮ সালের দেবী ছবির জন্য গ্রহণ সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শাকিব খান চতুর্থবারের মতো সেরা নায়ক নির্বাচিত হলেন। বিকেল ৪ টা ২৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন তিনি।

এবার আসরে পঞ্চমবারের মতো চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। অন্যদিকে আরিফিন শুভ ও সাইমন সাদিক প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহন করলেন। জয়া আহসান চতুর্থবারের মতো গ্রহণ করলেন এ পুরস্কার। তিশা ‘হালদা’র মাধ্যমে দ্বিতীয়বার পুরস্কার পেলেন।

২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ গায়িকার পুরস্কার পেলেন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। একই বছরে সেরা সুরকারের পুরস্কার পেতে পেলেন আরেক বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা।

এবার বিতর্কের মুখে ২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের ভারতীয় চিত্র সম্পাদক মো. কালাম। ‘শ্রেষ্ঠ চিত্র সম্পাদক’ ক্যাটাগরিতে নতুন কাউকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি। এমনকি ‘কমলা রকেট’ ছবির জন্য মোশাররফ করিমকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে হিসেবে নির্বাচন করা হলেও তিনি এ পুরস্কার নিতে রাজি না হওয়ায় তার নাম ঘোষণা করা হয়নি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে।

পুরস্কার প্রদান শেষ চিত্রতারকাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন জনপ্রিয় গানে পরিবেশনা। এই আয়োজনটি উপস্থপনা করেছেন ফেরদৌস ও পূর্ণিমা।

পরিবেশনা করেন অপু বিশ্বাস, নুসরাত ফারিয়া, তমা মির্জা, ইমন, নিপূন, মাহিয়া মাহি, জায়েদ খান, জয় চৌধুরী, আঁচল। গান পরিবেশন করেন মমতাজ, খুরশীদ আলমের মতো গুণী শিল্পীরা।

যারা পেলেন ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার:
 
২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা
আজীবন সম্মাননা: এটিএম শামসুজ্জামান ও সালমা বেগম সুজাতা
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র: ঢাকা অ্যাটাক (কায়সার আহমেদ ও সানী সানোয়ার) 
শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: বিশ্ব আঙিনায় অমর একুশে (বাংলাদেশ টেলিভিশন)
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক: বদরুল আনাম সৌদ (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্র: শাকিব খান (সত্তা) ও আরিফিন শুভ (ঢাকা অ্যাটাক)
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্র: নুসরাত ইমরোজ তিশা (হালদা)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব চরিত্র: মো. শাহদাৎ হোসেন (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্র: সুবর্ণা মুস্তাফা (গহীন বালুচর) ও রুনা খান (হালদা)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল চরিত্র: জাহিদ হাসান (হালদা)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্র: এম ফজলুর রহমান বাবু (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী: নাইমুর রহমান আপন (ছিটকিনি)
শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার: অনন্য সামায়েল (আঁখি ও তার বন্ধুরা)
শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক: এম ফরিদ আহমেদ হাজরা (ফরিদ আহমেদ (তুমি রবে নীরবে)
শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক: ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, (ধ্যাততেরিকি)
শ্রেষ্ঠ গায়ক: মাহফুজ আনাম জেমস (তোর প্রেমেতে অন্ধ..., চলচ্চিত্র: সত্তা)
শ্রেষ্ঠ গায়িকা: মমতাজ বেগম (গান: না জানি কোন অপরাধে..., চলচ্চিত্র: সত্তা)
শ্রেষ্ঠ গীতিকার: সেজুল হোসেন (গান: না জানি কোন অপরাধে..., চলচ্চিত্র: সত্তা)
শ্রেষ্ঠ সুরকার: শুভাশীষ মজুমদার বাপ্পা (গান: না জানি কোন অপরাধে..., চলচ্চিত্র: সত্তা)
শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার: আজাদ বুলবুল (হালদা)
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার: তৌকির আহমেদ (হালদা)
শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা: বদরুল আনাম সৌদ (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ সম্পাদক: মো. কালাম (ঢাকা অ্যাটাক)
শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক: উত্তম কুমার গুহ (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক: কমল চন্দ্র দাস (গহীন বালুচর)
শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক: রিপন নাথ (ঢাকা অ্যাটাক)
শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা: রিটা হোসেন (তুমি রবে নীরবে)
শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান: মো. জাভেদ মিয়া (ঢাকা অ্যাটাক) 
 
২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকা
আজীবন সম্মাননা: অভিনেতা প্রবীর মিত্র ও এম এ আলমগীর 
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র: পুত্র (চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর)
শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: গল্প সংক্ষেপ (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট) 
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক: মোস্তাফিজুর রহমান মানিক (জান্নাত)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্র: ফেরদৌস আহমেদ (পুত্র) ও সাদিক মো. সাইমন (জান্নাত)
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্র: জয়া আহসান (দেবী)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব চরিত্র: আলী রাজ (জান্নাত)
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্র: সুচরিতা (মেঘকন্যা)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল চরিত্র: সাদেক বাচ্চু (একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা কৌতুক চরিত্র: মোশাররফ করিম (কমলা রকেট) ও আফজাল শরিফ (পবিত্র ভালোবাসা)
শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী: ফাহিম মুহতাসিম লাজিম (পুত্র)
শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার: মাহমুদুর রহমান (মাটির প্রজার দেশে)
শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক: ইমন সাহা (জান্নাত)
শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক: মাসুম বাবুল (একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ গায়ক: নাইমুল ইসলাম রাতুল (গান: যদি দুঃখ ছুঁয়ে..., চলচ্চিত্র: পুত্র)
শ্রেষ্ঠ গায়িকা: সাবিনা ইয়াসমিন (গান: ভুলে মান অভিমান, চলচ্চিত্র: পুত্র) ও আঁখি আলমগীর (গান: গল্প কথার ঐ..., চলচ্চিত্র: একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ গীতিকার: কবির বকুল (গান: যদি এভাবেই ভালোবাসা..., চলচ্চিত্র: নায়ক) ও জুলফিকার রাসেল (গান: যদি দুঃখ ছুঁয়ে দেখো..., চলচ্চিত্র: পুত্র)
শ্রেষ্ঠ সুরকার: রুনা লায়লা (গান: গল্প কথার ঐ..., চলচ্চিত্র: একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার: সুদীপ্ত সাঈদ খান (জান্নাত)
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার: সাইফুল ইসলাম মান্নু (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা: এস এম হারুন-অর-রশীদ (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ সম্পাদক: তারিক হোসেন বিদ্যুৎ (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক: উত্তম কুমার গুহ (একটি সিনেমার গল্প)
শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক: জেড এইচ মিন্টু (পোস্ট মাস্টার ৭১)
শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক: আজম বাবু (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা: সাদিয়া শবনম শানতু (পুত্র)
শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান: ফরহাদ রেজা মিলন (দেবী) 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা