kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

সবচেয়ে দামি নায়িকার শেষজীবন কাটে অন্যের বাড়িতে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবচেয়ে দামি নায়িকার শেষজীবন কাটে অন্যের বাড়িতে!

পছন্দের অভিনেত্রীর নামে একমাত্র মেয়ের নাম রেখেছিলেন বাবা। তখন আর কে জানত একদিন এই কন্যাই শাসন করবে হিন্দি ছবির দুনিয়া! পরিবারে অভিনয়ের ধারা আগে থেকেই থাকায় এই ক্যারিয়ারে পা রাখতে সুবিধা হয়েছিল সাধনা শিবদাসানির।

অবিভক্ত ভারতের করাচির সিন্ধু প্রদেশে সাধনার জন্ম ১৯৪১ সালের ২ সেপ্টেম্বর। তার চাচা ছিলেন অভিনেতা হরি শিবদাসানি। কারিশ্মা-কারিনার মা অভিনেত্রী ববিতা হলেন সাধনার চাচাতো বোন।

তিন ও চার দশকের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী তথা নায়িকা সাধনা বসুর নামে নামকরণ হয়েছিল শিবদাসানির পরিবারের সদ্যোজাত শিশুর। দেশভাগের পর তাদের পরিবার করাচি থেকে চলে এসেছিল তৎলীন বম্বে (বর্তমান মুম্বাই) শহরে।

ওয়াডালার অক্সিলিয়াম কনভেন্ট স্কুলের পর সাধনা ভর্তি হন জয় হিন্দ কলেজে। ছোট থেকেই সিনেমা দেখতে ভালবাসতেন তিনি। বড় হয়ে ক্রমে গাঢ় হয় নায়িকা হওয়ার ইচ্ছে। তার অনুপ্রেরণা ছিলেন অভিনেত্রী নূতন।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রথম ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ আসে। ভারতের প্রথম সিন্ধি ছবি ‘আবানা’-তে তিনি অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী শীলা রামানির বোনের ভূমিকায়।

রাজ কাপুর-নার্গিসের ‘শ্রী ৪২০’ ছবিতে ‘মুড় মুড় কে না দেখ’ গানে সমবেত নৃত্যশিল্পী ছিলেন সাধনা। তার ছবি প্রকাশিত হয় ফিল্মি পত্রিকায়। সেখানেই তিনি নজর কাড়েন পরিচালক শশধর মুখোপাধ্যায়ের।

নায়িকা হিসেবে সাধনার প্রথম ছবি ‘লভ ইন সিমলা’ মুক্তি পায় ১৯৬০ সালে। সে বছর প্রথম দশটি বক্সঅফিস সফল ছবির মধ্যে এটি ছিল অন্যতম।

এই ছবিতে সাধনার লুক কিছুতেই পছন্দ হচ্ছিল না পরিচালক আর কে নায়ারের। কারণ সাধনার চওড়া কপাল সব সাজ মাটি করছিল বলে মনে হচ্ছিল তার। তিনি বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অর্ড্রে হেপবার্নের একটিস ছবি দেন হেয়ারড্রেসারকে। তারপরই সাধনার কপালে পড়ে গুচ্ছ চুল, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ফ্রিন্জ’। যে ফ্রিঞ্জের নাম লোকের মুখে পরে হয়ে যায় ‘সাধনা কাট’। পাশাপাশি, আঁটসাট চুড়িদারও ছিল সাধনার স্টাইল স্টেটমেন্ট।

ষাটের দশকে সাধনার অভিনয়ে একের পর এক ছবি হিট করেছে। ‘পরখ’, ‘হাম দোনো’, ‘আছলি নকলি’, ‘মেরে মেহেবুব’, ‘ওহ কৌন থি’, ‘মেরা সায়া’, ‘ওয়াক্ত’, ‘ইন্তেকাম’, ‘রাজকুমার’, ‘এক ফুল দো মালি’-র মতো ছবির নাম যোগ হয়েছে সাধনার নামের পাশে।

‘হাম দোনো’ ছবিতে তার এবং দেব আনন্দের ওপর চিত্রায়িত রাফি-আশার যুগলবন্দি ‘আভি না যাও ছোড় কর…’ গানটি অনেকের মতে বলিউডের সেরা রোম্যান্টিক সুর।

ব্যক্তিগত জীবনেও সাধনার কাছে ষাটের দশক খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ১৯৬৬ সালে সাধনা বিয়ে করেন পরিচালক আর কে নায়ারকে। তাদের বয়সের ব্যবধানের জন্য এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না সাধনার বাবা-মা। কিন্তু পরে মেয়ের জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হন তারা।

বিয়ের পরেও কয়েক বছর চুটিয়ে অভিনয় করেছেন সাধনা। কিন্তু সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ক্রমশ সরে আসেন অভিনয় থেকে। কারণ নায়িকা ছাড়া পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে তিনি রাজি ছিলেন না।

১৯৭৪ সালে সাধনার পরিচালনায় এবং তার স্বামীর প্রযোজনায় মুক্তি পায় ‘গীতা মেরে নাম’। সুনীল দত্তের বিপক্ষে ছবির নায়িকা ছিলেন সাধনা। এই ছবিতেই একক নৃত্য পরিচালক হিসেবে প্রথম কাজ করেন সরোজ খান। ‘পতি পরমেশ্বর’ নামে একটি ছবি প্রযোজনাও করেছিলেন সাধনা। ছবির নায়িকা ছিলেন ডিম্পল কাপাডিয়া।

অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার পর প্রকাশ্যে আসতেন না সাধনা। নিভৃত জীবনে প্রবেশাধিকার ছিল না আলোকচিত্রীদেরও। ক্রমশ রোগও বাসা বাঁধতে থাকে তার শরীরে। ১৯৯৫ সাল থেকে নিঃসন্তান সাধনার সঙ্গী হয় একাকিত্ব। কারণ, প্রায় তিন দশকের দাম্পত্য শেষে সে সময় মারা যান সাধনার স্বামী আর কে নায়ার।

অসুস্থতা, একাকিত্বের পাশাপাশি শেষ জীবনে সাধনা কষ্ট পেয়েছেন আর্থিক দিক দিয়েও। শোনা যায়, নিজের ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে মহার্ঘ্যতম নায়িকা সাধনা শেষ জীবনে থাকতেন আশা ভোঁসলের সান্তাক্রুজের ফ্ল্যাটে।

চাচাতো বোন ববিতার সঙ্গে কোনওদিনই সম্পর্ক নিবিড় ছিল না সাধনার। শেষ জীবনেও সাধনার যোগাযোগ ছিল হেলেন, ওয়াহিদা রহমান, নন্দা-র মতো ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের সঙ্গেই।

এইচআইভি পজিটিভ, ক্যানসার আক্রান্তদের সাহায্যার্থে অন্তরাল থেকে বেরিয়ে এসে ২০১৪ সালে এক ফ্যাশন শো-তে অংশ নিয়েছিলেন সাধনা। গোলাপি শাড়ির সঙ্গে কপালে ছিল আদি অকৃত্রিম ফ্রিঞ্জ। ক্ষীণদৃষ্টি, দুর্বল সাধনাকে হাত ধরে হাঁটতে সাহায্য করেছিলেন রণবীর কাপুর।

দীর্ঘ রোগভোগের পর ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর হিন্দুজা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাধনা। শোনা যায়, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

সূত্র: আনন্দবাজার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা