kalerkantho

শনিবার । ২৩ নভেম্বর ২০১৯। ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে তর্ক-বিতর্ক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:০৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে তর্ক-বিতর্ক

ছবিতে, ভারতীয় নাগরিক কালাম, কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনীত মোশাররফ করিম ও ফজলুর রহমান বাবু

এবারে ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। বিদেশি নাগরিককে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা, সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে ক্যাটাগরি এলোমেলো করে পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ২০১৭ সালের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের জন্য ‘সেরা সম্পাদক’ হিসেবে মো. কালামের নাম ঘোষণা করেছে; যিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তোলপাড়। কেন এমন ভুল হলো?  কারণ এ ফেব্রুয়ারিতে পুরস্কারের জন্য চলচ্চিত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল সেখানে জানানো হয়েছিল, ‘কেবল বাংলাদেশি নাগরিকগণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন।'

এ বিষয়ে জুরি বোর্ডের সদস্য মুশফিকুর রহমান গুলজার বলছেন, 'আমরা কোনো বিদেশিকে দিইনি। ওখানে ফরমে উল্লেখ থাকে কে কোন দেশের। ওরা (প্রযোজক) তাহলে ভুল তথ্য দিয়েছে। ওরা ভুল দিলে সেটা তো ওদের দোষ।'

তবে গুলজারের এ দাবিকে অস্বীকার করেছেন  প্রযোজক সানী সানোয়ার। তিনি বলেন, আমাদের যখন নামগুলো প্রস্তাব করতে বলা হলো, প্রত্যেকটা সদস্যের জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি ও পাসপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। আমরা জমা দিয়েছিলাম। সেক্ষত্রে ওটা (উনার নাম) তো প্রস্তাবেই ছিল না। যেহেতু এটাতে ন্যাশনালিটির একটা বাইন্ডিংস আছে। নট অনলি দ্যাট, একটা পেপারসও আমাদের দিতে হবে। সেখানে উনার নামটা দেওয়ার কথা না, সেটা কীভাবে হলো বা অন্য কোনোভাবে নামগুলো উনারা নিয়ে নেয় কি না।

এদিকে মোশাররফ করিমফজলুর রহমান বাবু কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার পাওয়া সমালোচনা হচ্ছে ব্যাপক। ২০১৮ সালের চলচ্চিত্র 'কমলা রকেট' চলচ্চিত্রে অভিনয় করে 'সেরা কৌতুক অভিনেতা' হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন মোশাররফ করিম। মঞ্চ দিয়ে যাত্রা করা এই অভিনেতা নাটক ও সিনেমায় অভিনয়ে পেয়েছেন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। তাই মোশাররফ করিমের মতো পুরদস্তুর অভিনেতাকে 'কৌতুক অভিনেতা' হিসেবে নির্বাচন করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখাচ্ছেন অনেকে। আর কমলা রকেটের অভিনয় কীভাবে কৌতুক অভিনয় হয় সেটাও বোধগম্য হচ্ছে না কারো। মোশাররফ করিম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন সেখানে তাকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার দেওয়া নিয়ে তর্ক বিতর্ক তৈরি হবেই- স্বাভাবিক।

অন্যদিকে,  ২০১৭ সালের মুক্তি পাওয়া  বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত ‘গহীন বালুচর’ ছবিতে  অভিনয়ের জন্য সেরা কৌতুক অভিনেতার পুরস্কার দেয়া হয়েছে তাকে।  অথচ একই বছর স্বপ্নজাল ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন ফজলুর রহমান বাবু। সেটার জন্য তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। দেওয়া হলো কৌতুক অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার।

'আসলেই যোগ্য কি না' এমন প্রশ্নও মনোনীত অনেকের প্রসঙ্গে।  ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দিতে জুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। গঠিত বোর্ড সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো মূল্যায়ন করে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম সুপারিশ করেছে। তারই ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

১৩ সদস্যবিশিষ্ট জুরি বোর্ডে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন ও চলচ্চিত্র) সভাপতি করা হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্য-সচিব হিসেবে এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (চলচ্চিত্র) ও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া ২০১৭ সালের জুরি বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান বুলবুল, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কোহিনুর আক্তার সুচন্দা, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক এম এ আলমগীর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চিত্রগ্রাহক পংকজ পালিত ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম।

২০১৮ সালের জুরি বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, চলচ্চিত্র অভিনেতা ড. এনামুল হক, সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হাসান মতিউর রহমান, অভিনেত্রী রওশন আরা রোজিনা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থার যুগ্ম-মহাসচিব তপন আহমেদ।

এবার মোট ২৮টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। সেগুলো হলো আজীবন সম্মাননা, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্ব চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্ব চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা/অভিনেত্রী খল চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা/অভিনেত্রী কৌতুক চরিত্রে, শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী, শিশু শিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক, শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক, শ্রেষ্ঠ গায়ক, শ্রেষ্ঠ গায়িকা, শ্রেষ্ঠ গীতিকার, শ্রেষ্ঠ সুরকার, শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার, শ্রেষ্ঠ চিত্র নাট্যকার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা, শ্রেষ্ঠ সম্পাদক, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক, শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা