kalerkantho

'প্রধানমন্ত্রী বড় বোন হিসেবে চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে ডেকেছিলেন'

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৪:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'প্রধানমন্ত্রী বড় বোন হিসেবে চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে ডেকেছিলেন'

চিকিৎসার জন্য জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে দশ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  রবিবার গণভবনে এন্ড্রু কিশোরের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। আর এ বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গতরাত থেকে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এন্ড্রু কিশোরের কোনো অভাব নেই তারপরেও কেন সহায়তা নিতে গেলেন। এ বিষয়ে এন্ড্রু কিশোরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁর একজন স্বজন জানান এ বিষয়ে এই মুহূর্তে এন্ড্রু কিশোর কথা বলবেন না। পারিবারিকভাবে দু-একদিন পরে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

এন্ড্রু কিশোর আজ সোমবার ভোরে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। আজ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে গতকাল তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বলে জানা গেছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এন্ড্রু কিশোরের হাতে বড় বোন হিসেবে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন বলে তাঁর আত্মীয় জানান।

ওই আত্মীয় কালের কণ্ঠকে একটি উদাহরণ টেনে বলেন, 'ধরুন আপনি আমার বড় ভাই, আপনি জানলেন আমি অসুস্থ। দেখা করতে গেছি আপনার সঙ্গে, আপনি আমার পকেটে হয়তো ১০০ টাকার একটি নোট ঢুকিয়ে দেবেন, সেসময় আমার কাছে টাকা-পয়সা আছে কি না সেসব আপনার কাছে গৌণ।'

তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এন্ড্রু কিশোরের একটি অনুষ্ঠানে দেখা হয়। তখন এন্ড্রু কিশোরের শরীর খারাপ ছিল, স্বাস্থ্য কিছুটা অবনতি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ওই সময় এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থা দেখে খোঁজ নেন। এ সময় এন্ডু কিশোর প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর অসুস্থতার কথা জানান। ট্রিটুমেন্ট কেমন চলছে, ঠিক ঠাক চলছে কি না প্রধানমন্ত্রী জানতে চান। এন্ড্রু কিশোর বলেন ঠিকঠাকই চলছে।'

পরে প্রধানমন্ত্রী বড়বোন হিসেবে এন্ড্রু কিশোরের সাথে যোগাযোগ করেছেন দাবি করে ওই আত্মীয় বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী বড়বোন হিসেবে এন্ড্রু কিশোরকে ডেকে নেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী দশ লাখ টাকার চেক দেন। এটা নিয়ে তো উল্টোপাল্টা ভাবার অবকাশ নেই। প্রধানমন্ত্রী শারীরিক খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য ডেকেছেন। তিনি শিল্পী বান্ধব মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই ডেকেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী যদি এন্ড্রু কিশোরকে সম্মানিত করেন, এতে সমালোচনার কী আছে? আর এন্ড্রু কিশোর যদি সাহায্য চেয়েও থাকেন তাহলেও বিষয়টিকে আমরা কেন পজিটিভলি দেখছি না, রাষ্ট্র কোনো শিল্পীর সহায়তায় এগিয়ে আসছে এটা তো ভালো বিষয়।'

এন্ড্রু কিশোরের অসুস্থতা সম্পর্কে বলেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা দেখছি কিডনি ডিজিজে এন্ড্রু কিশোর আক্রান্ত, এটা হয়েছে, সেটা হয়েছে। কেন যে মানুষ মিথ্যা ছড়ায়। আসলে এন্ড্রু কিশোর হরমোনাল জনিত সমস্যাইয় ভুগছেন। এটা ছোটবেলা থেকেই। এর প্রোপার ট্রিটমেন্ট চলছে, তারপরেও প্রধানমন্ত্রী বড়বোন হিসেবে কারো পাশে দাঁড়াতে পারেন না?'

দেশের চলচ্চিত্রের গানে একটা বড় অধ্যায়জুড়ে এন্ড্রু কিশোরের নাম লেখা। তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে আছে—‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ প্রভৃতি।

চলচ্চিত্রের গান গেয়ে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এন্ড্রু কিশোর। ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে মেইল ট্রেন সিনেমার ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা