kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রানাঘাট প্ল্যাটফরমের জীবন কেমন ছিল রানু মণ্ডলের?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রানাঘাট প্ল্যাটফরমের জীবন কেমন ছিল রানু মণ্ডলের?

মুম্বাই গিয়ে ফিল্মের গান গাইলেন রানু মণ্ডল। সবাই দেখেছেন হিমেশ রেশামিয়ার সঙ্গে গাইছেন তেরিমেরি। রানু সম্প্রতি কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে বলেছেন হিমেশ-সালমানের প্রসঙ্গে, বলেছেন রানাঘাট প্ল্যাটফরমের জীবনের ঘটনা।

রানাঘাট স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফরমে কাটতো রানু মণ্ডলের সময়। নিজের বাসায় যেতেন না। দূর হওয়ার কারণে কিংবা খাওয়া না থাকার কারণে প্ল্যাটফরমেই থাকতেন। খাওয়া পেতেন বা পেতেন না। তিনি গেয়ে যেতেন। গান শুনে কেউ যদি সহায়তা করতে এগিয়ে আসতো তাহলে খাওয়া জুটতো। আবার কখনো কখনো পরিচিতি কাউকে দেখলে খাবার খাওয়ানোর আবদার করতেন। হয়তো কেউ কেউ কেক বিস্কুট খাওয়াতো। ঘুগনি, পরোটা এসব জুটতো। 

রানু জানান, ওখানে ভিখিরিদের খেতে দেওয়া হতো, কিন্তু ভিখিরিদের সারবেঁধে বসে যাওয়া দলে থাকতেন না। খেতে পেতেন না, কিন্তু নিজেকে সংযত রাখতে চেষ্টা করতেন। ওদের মাথা থেকে যাতে উঁকুন, রোগ না চলে আসে সাবধান থাকতেন। খেতেন বাইরে এসে। 

রানুর ভাষ্য, 'আমি তো ভিখিরি না, খেতে পেতাম না ঠিক আছে। কিন্তু ওদের থেকে দূরে থাকতাম। যাতে ওদের শরীর থেকে উঁকুন, রোগ না চলে আসে। আমি তো জানি আমি কে?'

সালমান খানের সাথে দেখা হয়নি জানিয়ে রানু বলেন, 'হয়তো আমি যখন ছিলাম তখন সালমান ওখানে আসেনি। কিংবা আমি চলে আসার পরে এসেছে। আমার সাথে দেখা হয়নি। আমি তো ওখানে হিমেশজির সঙ্গে কথা বলায় ব্যস্ত ছিলাম। পরে সেখানে প্রচুর দর্শক ছিল তাদের সাথে আলাপ করলাম।'

রানাঘাট স্টেশন থেকে রানু মন্ডলের পরের ঘটনা সবারই জানা। কিন্তু হিমেশ রেশামিয়ার সঙ্গে কী কী আলাপ হলো, সেসব কী জানা আছে? রানু বলেন, 'হিমেশ প্রথমে আমার কণ্ঠে এক পেয়ার কি নাগমা খুব মনোযোগ দিয়ে শোনেন। শোনার পর তিনি খুব খুশি হন, খুব মানে খুব...। এরপরে আমাকে তেরিমেরি কাহানি গানটি শেখান। আমি গানটা গাওয়ার আগে ফিলিংসটা ধরার চেষ্টা করি। গানের অর্থ তো কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়া। ওই ফিলটা ধরে আমি গেয়েছি।' 

রানুর এই সাফল্যের মাঝে রানুকে নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। কখনও ভগবানের চাকর বলায় নেটিজেনদের ভৎসর্না তো কখনও রানুর মেয়ে শয়তান ক্লাবের উপর দোষারোপ। পাশে পাল্লা দিয়ে চলেছে একের পর ঘটনা।

সম্প্রতি লতা মঙ্গেশকরও বলেছেন, আমার নাম এবং কাজ যদি কোনও মানুষের জীবনে ভালো করে তবে সেটা আমার সৌভাগ্য।” তিনি শুধু রানু মণ্ডলকে নয়, সাধারণ ভাবে সব গায়ক গায়িকাদের উদ্দেশে বলেন যে নকল করে খুব বেশিদূর এগোনো যায় না। তবে সে সবের তোয়াক্কা না করে নিজের পথেই অবিচল রানু মন্ডল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা