kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

নোবেলকে ছুঁয়ে দেখল সবাই, ভুলে গেল দুঃখ

মাহতাব হোসেন   

২০ জুলাই, ২০১৯ ০২:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নোবেলকে ছুঁয়ে দেখল সবাই, ভুলে গেল দুঃখ

ছবি: কালের কণ্ঠ

তাসনিম আনিকা গাইলেন নোলক চলচ্চিত্রের জলে ভাসা ফুল। এটা তার মৌলিক গান। গাইলেন দামাদাম মাস্ত কালান্দার, বন জোভির বিখ্যাত গান ইটস মাই লাইফ। এরপর ব্রায়ান অ্যাডামসের আরেক বিখ্যাত গান 'সামার অফ সিক্সটি নাইন।' আনিকার পরেই মঞ্চে ওঠেন বলিউডের সানা খান। সানা একটি মিশ্র গানের সমন্বয়ে গান নাচের পারফর্ম করেন। এরপরেই মাইক্রোফোনে ভেসে আসে নোবেলের নাম।

প্রায় ২০ মিনিট পর নোবেল মঞ্চে উঠলেন। এর আগে মঞ্চ প্রস্তুত করতে অর্থাৎ ইন্সট্রুমেন্ট ঠিক করতে এই সময়টুকু ব্যয় হয়। নোবেল মঞ্চে ওঠার পর অবশ্য ওই অপেক্ষার সময়ের জমানো কষ্টটুকু ভুলে গেল সবাই। নোবেল বললেন, 'আমার গানের শুরু আইয়ুব বাচ্চু স্যারের গান দিয়ে। আজও উনার গান দিয়েই শুরু করতে পারি।' 

এরপর নোবেল গাইলেন এলআরবি ব্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান 'সেই তুমি।'  'সেই তুমি কেন  এতো অচেনা হলে, সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম... গানের সঙ্গে সঙ্গে যেন বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির নবরাত্রী হল ছন্দে দুলছে। নোবেলের কণ্ঠে বাইয়ুব বাচ্চুর এই গান সকল শ্রোতা-দর্শকদের যেন এক বিন্দুতে মিলিত করে একটি নির্দিষ্ট কম্পমান ছন্দ ও শব্দের সৃষ্টি করল।

সবার কণ্ঠ মিলে যাচ্ছে এক জায়গায়, সবার দুলুনি একই মাত্রায়... সে এক অন্য রকম আবহ... যেন বহু আকাঙ্ক্ষিত, আর তৃষ্ণার পর বৃষ্টি পড়ছে জমিনে। কেননা এভাবে ঢাকায় এর আগে কখেনা নোবেল গাননি, তার আগেই কলকাতার জি বাংলা চ্যানেলের সারেগামাপা'র কল্যাণে দুই বাংলায় জনপ্রিয়তার ঢেউ তৈরি করে ফেলেছেন। আর সেই ঢেউয়ের খানিক ছোঁয়া যখন নবরাত্রী হলে এসে পড়বে স্বাভাবিকভাবেই একটা দুলুনি উঠবেই।

বলিউডের গায়ক অঙ্কিত তিওয়ারির গাওয়ার কথা ছিল এই কনসার্টে। কিন্তু তিনি দুইবার ফ্লাইট মিস করেছেন, যার কারণে অবশ্য কর্তৃপক্ষ দুঃখও প্রকাশ করেছেন আনুষ্ঠানিকভাবে। এও বলেছেন চাইলে পুরো টাকা তারা ফেরত দেবেন। অংকিত না আসার এই দুঃখ ভক্তদের কিন্তু নোবেল পুষিয়ে দিলেন অন্যভাবে। 

মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললেন, 'এতো গান শুনে কী হবে? আসেন, বসে বসে সবাই মিলে গান করি।' কিন্তু ওই 'সবাই' কারা তা বুঝতে দর্শক-শ্রোতা কিংবা ভক্তদের বুঝতে অসুবিধা হয়। নোবেল বেশিক্ষণ বুঝতেও দিলেন না কী করতে যাচ্ছেন তিনি। মঞ্চের সামনে সে পা ঝুলিয়ে বসে পড়লেন। এরপর সবাইকে ডাকলেন।

নোবেলের ডাক শুনে নবরাত্রী হলের কেউ হয়তো আর আসনে বসে থাকতে পারেন না। সামনে ছুটে এলেন সবাই। ঘিরে ধরলেন প্রিয় শিল্পী প্রিয় মানুষকে। একের পর এক সেলফি উঠতে লাগল ফোনে। কেউ হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন নোবেলের দিকে, ছুঁয়ে দেখতে চান নোবেলকে। নোবেল ছুঁয়ে দিচ্ছেন, হয়তো তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। ফের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নোবেলের সবার হাত ছুঁয়ে দিচ্ছেন। আর কণ্ঠেও তখন গান চলে এসেছে, 'নিঃস্ব করেছে আমায় কি নিঠুর ছলনায়...'। 

অঙ্কিত তিওয়ারি না আসার দুঃখ ভুলে গেল নবরাত্রী হলের দর্শক-শ্রোতারা, কেননা এতো কাছ থেকে নোবেলকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগের চেয়ে ভক্তদের কাছে বড় আর কী হতে পারে? 

জমকালো মিউজিক্যাল ইভেন্টের যৌথভাবে আয়োজন করে এটিএন ইভেন্টস ও সানগ্লো এন্টারটেইমেন্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা