kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

আলাপনে আজাদ

সারারাত ডিউটি করে সকালে অডিশন দিতে গিয়েছিলাম

একে আজাদ। নিশাত নাওয়ার সালওয়ার সাথে অভিষিক্ত হচ্ছে স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা চলচ্চিত্রে। জীবনের বিভিন্ন বাঁকে ঘুরে ফিরে এখন চলচ্চিত্রে সংগ্রামী এই তরুণ

মাহতাব হোসেন   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৪:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারারাত ডিউটি করে সকালে অডিশন দিতে গিয়েছিলাম

'হ্যান্ডসাম দ্য আল্টিমেট ম্যান' প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন একে আজাদ। এই প্রতিযোগিতার বেশকিছু কাজ করে দেশের শোবিজ অঙ্গনে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন আজাদ। অনেকগুলো মিউজিক ভিডিও, নাটক ও ওয়েব সিরিজের পর এবার  অভিষিক্ত হলেন চলচ্চিত্রে। তবে এই পর্যন্ত আসার পথটুকু মসৃণ ছিল না। 

আজাদের জন্ম বগুড়ার এক গ্রামে। সেই গ্রামের লজিং মাস্টারের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয় বাল্যকালেই। ধীরে ধীরে ছোটবেলাতেই মঞ্চ নাটকের দিকে আকর্ষিত হতে থাকেন। আজাদ বলেন, 'সত্যি সত্যি অভিনয় শুরু করি। সেটা শখের আর থাকলো না। বেশ কয়েকটি শো-ও করেছি বগুড়া অঞ্চলে।'

আজাদ বগুড়া শহরের একটি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারেন স্থানীয়ভাবেই অভিনয়শিল্পী খোঁজা হচ্ছে। আগ্রহী হয়ে উঠলেন। গ্রাম থেকে শহরে এসে যুক্ত হলেন। এভাবেই চলছিল অভিনয় জীবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা, কিন্তু পথ তো সহজ নয়। এরই মাঝে বন্ধুরা মিলে একটি গানের দল বানিয়ে ফেললেন। যেটাকে তিনি বলছেন ব্যান্ড। মনোযোগ দিলেন গানে। নিজে পালন করলেন গিটারিস্টের ভূমিকা। 

আজাদ বলেন, 'আসলে শুধুই যে অভিনয়শিল্পী হবো এমনটা মনের গভীরে ছিল তা বলবো না। তবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেই থেকে যাওয়ার ইচ্ছেটা ছিল প্রবল।' তাহলে হোটেল ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা কেন? আজাদ বলেন, 'আসলে এই সাবজেক্ট-এর আন্তর্জাতিক গ্রহণোযোগ্যতা বেশ। পেশাদারভাবে এমনটাও চলে এসেছে বিভিন্ন চিন্তা ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। পরিকল্পনা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি, দেশের বাইরে গিয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করার ইচ্ছে রয়েছে। আর অভিনয়ের যখনই  সুযোগ পেলাম তখন তো অভিনয়েই ঢুকে পড়লাম।' 

বোঝাই যায় সকল কিছুর মাঝেই আজাদ আসলে একটা সুরঙ্গ খুঁজছিলেন, যে সুরঙ্গ তাঁকে সত্যিকার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে, দেখাবে এক চিলতে কাঙ্ক্ষিত আলো। ইমামি ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম আজাদের জন্য সেই সুরঙ্গ হয়ে এল। আজাদ তখন হোটেল ওয়েস্টিনে ইন্টার্ন করেন। দিনে-রাতে মিলিয়ে শিফটিং ডিউটি। 'হ্যান্ডসাম দ্য আল্টিমেট ম্যান' এর অডিশন যেদিন সেদিন রাতেও ডিউটি। কোনোভাবেই ছুটি নিতে পারলেন না। পরেরদিন নির্ঘুম অবস্থায় অডিশনে চলে গেলেন। এতোটুকুইতেই গল্প শেষ হতে পারতো, হয়নি। সেদিন রাতেও এসে ডিউটি করতে হয়েছে। এরপরের গল্প তো সবার জানা।

ঢাকার জীবনে প্রথম দিকে বেশ কষ্ট হতো। ধীরে ধীরে যখন পরিচিত হতে থাকলেন তখন নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার মতোই মনে হচ্ছিল তাঁর। 'তুই আমার মন ভালো রে...' অটামনাল মুনের এই গান যেমন তাঁকে পরিচিত করে তোলে তেমনি সৈকত নাসিরের ট্র্যাপডকে আজাদকে পরিচিতির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই ওয়েব সিরিজের লুক দেখে 'রাজকন্যা' চলচ্চিত্রের জন্য ডাক পান, যেটি এখন 'স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা' হয়ে গেছে।

আজাদ স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্নে রঙ ছড়ান মেপে মেপে, স্বপ্ন যেন বাস্তব হয়, মৃত্তিকা যেন হয় প্রাণ- সেভাবেই...

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা