kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

'এরশাদ আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন'

মাহতাব হোসেন   

১৪ জুলাই, ২০১৯ ১৭:১১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'এরশাদ আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন'

এরশাদ সাহেব ছিলেন আমার ভাইয়ের মতো। আমাকে খুবই আদর করতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর মনে হলো আমার মাথার ওপর থেকে স্নেহের ছায়া সরে গেল। আমি ছাত্রলীগ করতাম। ইকবাল হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। যখন জাতীয় পার্টিতে জয়েন করি তখনও জয় বাংলা বলে জয়েন করি। এরশাদ সাহেব হেসেছিলেন আমার কাণ্ড দেখে, বলেছিলেন- আমি বলবো জয় সোহেল রানা।

কথাগুলো বলছিলেন চিত্রনায়ক সোহেল রানা। রবিবার কালের কণ্ঠের সাথে আলাপকালে সোহেল রানা বলেন, তাঁর সাথে একটা সময় ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়লাম যে আমার প্রতি এরশাদ সাহেবের ভালোবাসা দেখেও অবাক হতো অনেকে। 

সোহেল রানা বলেন, আমাকে এরশাদ সাহেব কতটা ভালোবাসেন, তার একটা গল্প বলি। কোনো একটা পত্রিকায় খবর এলো সোহেল রানা শয্যাশয়ী। পরেরদিন আমার কাছে একটা অপরিচিত নম্বরের ফোন এলো। জানতে চাইলো আমার শারীরিক অবস্থা কেমন। আমি জিজ্ঞেস করতেই পরিচয় দিলেন। বললেন সুনীল শুভ রায়। আমি অবাক হলাম। বললেন এরশাদ স্যার আমাকে ফোন দিতে বলেছেন। 

সোহেল রানা বলেন, এর পরেরদিন উত্তরার জসিম উদ্দিনে এসে ফোন দিলেন সুনীল শুভ রায়। জানতে চাইলেন আমার বাসার এক্স্যাক্ট ঠিকানা, বলতেই দুই মিনিটের মধ্যে এরশাদ হাজির। আমি অবাক হলাম যে তিনি আমার অসুস্থতার কথা শুনেই চলে এসেছেন। আমার পরিবারের সদস্যরাও অবাক। সেদিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল। 

এই চিত্রনায়ক বলেন, আমি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেব কি না, জানতে চাইলেন। আমি চিন্তা ভাবনা করলাম। শেষমেষ তার স্নেহের কাছে পরাজিত হলাম। আমাকে এতোটাই ভালোবাসতেন যেঁ জাতীয় পার্টিতে আমাকে নিয়েই প্রেসিডিয়াম সদস্য করে ফেললেন, এরচেয়ে সম্মানের আর কি হতে পারে? এরচেয়ে ভালোবাসা আর কি হতে পারে? 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা গেছেন। আজ (রোববার) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরশাদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা