kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

সৈয়দপুরে 'পাসওয়ার্ড' এর দর্শক নেই

তোফাজ্জল হোসেন লুতু, সৈয়দপুর (নীলফামারী)   

১২ জুন, ২০১৯ ১৪:১৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সৈয়দপুরে 'পাসওয়ার্ড' এর দর্শক নেই

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঈদের ছবিতেও দর্শক মিলছে না। অথচ এবারের ঈদে ভালো ব্যবসা করার আশা নিয়ে এ  শহরে চালু থাকা একমাত্র সিনেমা হল মালিক 'পাসওয়ার্ড' ছবিটি এনেছিলেন। কিন্তু তাতেও আশানুরূপ দর্শক সিনেমা হলমুখী হচ্ছে না। ফলে গত ঈদের  মতো এবারের ঈদের ছবিতেও মোটা অংকের টাকা লোকসান গুণ তে হবে হল বলে আশঙ্কা  করছেন তামান্না সিনেমা হলের পরিচালক মো. মাহবুব আলী ঝন্টু।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তর জনপদের নীলফামারী জেলার একটি উপজেলা শহর সৈয়দপুর। বাণিজ্য প্রধান ও শ্রমিক অধ্যুষিত এ শহরটিতে এক সময় বিজলী টকিজ, লিবার্টি, গ্যারিসন, তামান্না চারটি সিনেমা হল ছিল। ইতোমতো দর্শকের অভাবে শহরের তিনটি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। সে সময় এ শহরের অভিজাত সিনেমা হল ছিল ‘বিজলী টকিজ’। কিন্তু দর্শক সংকটে বিজলী টকিজও এখন বন্ধ। সেখানে বর্তমানে গড়ে তোলা হচ্ছে অত্যাধিক সুপার মার্কেট ‘চৌধুরী টাওয়ার’। 
যদিও এ টাওয়ারের মালিক পক্ষের সেখানে একটি সিনেমা হল করার পরিকল্পনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। একই অবস্থা লিবার্টি সিনেমা হলেরও। এটি শহরের প্রাচীনতম ও ঐহিত্যবাহী সাহিত্য- সাংস্কৃতিক সংগঠন সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের। তবে সেটি ভাড়ায় নিয়ে সিনেমা হল হিসেবে চলতো। বর্তমানে সেখানেও গড়ে তোলা হয়েছে সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সুপার মার্কেট। 

আর সৈয়দপুর সেনানিবাসের গ্যারিসন সিমেনা হলটিও বন্ধ করে সেখানে সেনা কমিউনিটি সেন্টার করা হয়েছে। গত ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ওই তিনটি সিনেমা হল একে একে বন্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে ‘সবে ধন নীল মনি’ হয়ে আছে একমাত্র শহরের শের-এ-বাংলা সড়কের তামান্না সিনেমা হলটি। এটি ভাড়ায় নিয়ে চালাচ্ছেন শহরের অফিসার্স কলোনি এলাকার মাহবুব আলী ঝন্টু। তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিনেমা হল ব্যবসা পরিচালনায় জড়িত। 

গত মঙ্গলবার রাতে সিনেমা হলের অফিস কক্ষে বসে কথা হয় তাঁর সঙ্গে এ প্রতিনিধির। এ সময় তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাকিব খানের 'পাসওয়ার্ড' ছবি এনেছি। ৫ জুন অর্থাৎ ঈদের দিন থেকে ওই নতুন ছবির শো চলছে। আশা ছিল এবারের ঈদে ভাল ব্যবসা হবে। কিন্তু  আমার সে আশা একেবারে 'গুড়ে বালি।' শুধুমাত্র ঈদের দিন চারটি শো- এ লক্ষাধিক টাকার টিকিট বিক্রি হয়। এর পরদিন থেকে হলে ক্রমান্বয়ে দর্শক কমতে থাকে। গত মঙ্গলবার (১১জুন) সান্ধ্যাকালীন ৬ টার শো এ মাত্র চার হাজার টাকার মতো টিকিট বিক্রি হয়েছে। ছবিটি গত দুই সপ্তাহ যাবৎ হলে চলছে। অথচ সিনেমা হলে তেমন আশানুরূপ দর্শক আসছেন না। 

কারণ হিসেবে তিনি জানান, এখন চলছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা। আর যে বয়সের মানুষ সিনেমা হলে আসেন, এখন তারা মূলতঃ বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা  নিয়ে মেতে আছেন। তাছাড়া আমার ভাড়ায় নেওয়া সিনেমা হলের বসার আসনগুলো আরামদায়ক নয়। লোহার আসন। ফলে দর্শকরা সিটে বসে আরাম অনুভব করেন না। সেই সঙ্গে এখন জ্যৈষ্ঠ মাসের ভ্যাপসা গরম। ফলে হলে বসে মানুষ স্বস্তিমতো সিনেমা দেখতে পান না। 

তিনি বলেন, হলে যদি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকতো তা দর্শকরা  অনেক আরাম আয়েশে বসে সিনেমা দেখার সুযোগ পেতো। তিনি আরো জানান, গত  ঈদুল আযহায়ও শাকিব খানের 'ক্যাপ্টেন খান' ছবি এনেছিলাম। তাতেও লোকসান শুনতে হয়েছে।

তিনি জানান, সিনেমা হলে মাসিক ভাড়া চল্লিশ হাজার টাকার ওপরে; স্টাফ আছেন ১২জন। এরপরও  মাসিক বৈদ্যুতিক বিল, কাস্টমস্ ভ্যাট, পৌর কর ও কর্মচারি বেতন রয়েছে। গেল রমজান মাসে লোকসানে হল চালাতে হয়েছে। আশা ছিল এবারের ঈদের ছবিতে হয়তরা আগের লোকসান উঠে আসবে। কিন্তু এখন যে অবস্থা; তাতে মনে হয় এ ছবিতেও লোকসান গুণতে হবে। কারণ শাকিব খানের এ ছবিটি মোটা অংকের টাকা আনা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে আগের মতো ভাল ছবি তৈরি হচ্ছে না। ফলে সিনেমা হলে এখন আর আগের ন্যায় তেমন দর্শক হয় না। কিন্তু প্রতি মাসে সিনেমা হল ভাড়া, কাস্টমস্ ভ্যাট, পৌর কর, কর্মচারী, বিদ্যুত বিল নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। এভাবে লোকসান দিয়ে কি আর হল ব্যবসায় করা সম্ভব?

তিনি ভাল মানের ছবি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেই সঙ্গে চলচ্চিত্র ও সিনেমা হল ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারকে সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সৈয়দপুরের সংস্কৃতিকর্মী শেখ রোবায়েতুর রহমান রোবায়েত বলেন, সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখবেন সে অবস্থা আর এখন আছে? এখনকার বাংলা চলচ্চিত্রগুলোতে কোন ভাল কাহিনী নেই। মানুষের জীবন ঘনিষ্ঠ ও কাহিনী নির্ভর ছবি তৈরি  হচ্ছে না। তাছাড়া এখন সিনেমায় যে ধরনের অশ্লীলতা পরিপূর্ণ। ফলে আগের মতো পরিবার পরিজন নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে এখন আর ছবি দেখা সম্ভব হয় না। ফলে মানুষ সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা