kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মারা গেছেন অভিনেতা গিরীশ কর্নাড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জুন, ২০১৯ ১২:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মারা গেছেন অভিনেতা গিরীশ কর্নাড

বিশিষ্ট নাট্যকার–অভিনেতা–পরিচালক গিরীশ কর্নাড আর নেই। সোমবার সকাল ৬.‌৩০ মিনিট নাগাদ বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তাঁর পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন বিশিষ্ট এই অভিনেতা। 

পুরো নাম গিরীশ রঘুনাথ কর্নাড। ১৯৩৮ সালের ১৯ মে মহারাষ্ট্রের মাথেরনে জন্ম রঘুনাথ কর্নাড এবং কৃষ্ণাবাই মানকিকরের তৃতীয় সন্তান গিরীশের। অল্পবয়সেই বিধবা হয়ে যাওয়া কৃষ্ণাবাই নিজের এবং তাঁর ছেলের পেট চালাতে নার্সিং–এর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সেসময়ই বম্বে মেডিক্যাল সার্ভিসে কর্মরত চিকিৎসক রঘুনাথ কর্নাডের সঙ্গে পরিচয়। দুজনে প্রেমে পড়লেও দেশের তৎলীন সমাজ ব্যবস্থার কারণে পাঁচ বছর পর আর্যসমাজের তত্ত্বাবধানে  বিয়ে করেন রঘুনাথ–কৃষ্ণাবাই। পরে গিরীশকে নিয়ে তাঁদের আরও চার সন্তান হয়। 

মারাঠি ভাষায় প্রাথমিক পড়াশোনার পর কর্নাটকের সিরসিতে গিয়ে প্রথম নাটকের সঙ্গে পরিচয় ঘটে গিরীশের। নাটক মন্ডলী নামে ভ্রাম্যমাণ ওই নাট্যদলের অনুরাগী ছিলেন তাঁর বাবা–মা। যার প্রভাব পড়েছিল গিরীশের উপর। তাঁর ১৪ বছর বয়সেই কর্নাটকের ধারওয়াড়ে চলে যায় গিরীশের পরিবার। সেখান থেকেই ১৯৫৮–এ গণিত এবং স্ট্যাটিসটিক্সে স্নাতক হওয়ার পর ইংল্যান্ডে দর্শন, সমাজনীতি এবং অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ১৯৬৩–তে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন গিরীশ। 

দেশে ফিরে তৎকালীন মাদ্রাজের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসে টানা সাত বছর কাজ করার পর চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে লেখাকেই নিজের জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেন গিরীশ। সেসময় মাদ্রাজে স্থানীয় নাটক দলেও যোগ দেন। আদতে মারাঠি হলেও পছন্দের কন্নড় ভাষাতেই মূলত নাটক লিখেছিলেন গিরীশ। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ১৯৬১–এ মহাভারতের চরিত্রকে নিয়ে লেখেন ‘‌যযাতি’‌। নাটকটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। তাঁর লেখা অন্যান্য নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘‌তুঘলক’‌, ‘‌নাগমন্ডল’‌, ‘‌হয়বদন’, ‘‌‌অগ্নি মাট্টু মালে’‌ বা অগ্নি ও বর্ষা, ‘‌তালেদণ্ড‌’ বা শিরচ্ছেদ, ‘‌হিট্টিনা হুঞ্জা’‌ বা বলি। ১৯৮৭–৮৮–এ শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শক অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। সেখানেও নাটক ছিল তাঁর সঙ্গী। তিনি শিকাগো থাকাকালীনই মিনিয়াপোলিসের থিয়েটারে ওয়র্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল ‘‌নাগমন্ডল’‌ নাটকের। ইংরেজিতে নিজের কন্নড় ভাষায় লেখা ‘‌যযাতি’, ‘‌তালেদণ্ড’‌ সহ একাধিক নাটকের অনুবাদ করেছিলেন গিরীশ কর্নাড।

নাট্যকার গিরীশ  পত্তিভীরাম রেড্ডি পরিচালিত কন্নড় ছবি ‘‌সংস্কার’‌–এ ১৯৭০–এ প্রথম অভিনয় করেন। কন্নড় ভাষার ছবি হিসেবে প্রথম স্বর্ণকমল‌ পায় ছবিটি। এছাড়া ‘‌তাব্বালিয়ু নিনাড়ে মাগানে’‌, ‘‌ওন্ডানোন্ডু কলাডাল্লি’‌, ‘‌কাদু’‌ গিরীশ অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কন্নড় ছবি। ১৯৭৫ সালে ‘‌নিশান্ত’ ছবি দিয়ে তাঁর বলিউডে পদার্পণ। তারপর ‘‌স্বামী’‌, ‘‌পুকার‌’‌, ‘‌মন্থন’‌–এর মতো সমালোচকবন্দিত ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তাঁর অভিনীত শেষ হিন্দি ছবি ঠটাইগার ‌জিন্দা হ্যায়’‌। ১৯৮৬–৮৭ সালে মালগুড়ি ডেজ ধারাবাহিক দিয়ে তাঁর প্রথম টিভিতে পা রাখা। কন্নড় সাহিত্যিক এসএল ভায়রাপ্পার উপন্যাস ‘‌বংশ বৃক্ষ’‌ গিরীশ পরিচালিত প্রথম ছবি। যার জন্য ১৯৭১–এ সেরা পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন গিরীশ এবং তাঁর সহ–পরিচালক তিনি বিভি কারান্থ। এরপর ‘‌গোধূলি’‌, ‘‌উৎসব’ সহ বহু ছবি পরিচালনা করেছিলেন তিনি।‌ প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের আত্মজীবনীর অডিওবুক ‘‌উইংস অফ ফায়ার’‌–এ কণ্ঠ দিয়েছিলেন। একাধিক তথ্যচিত্রও পরিচালনা করেন তিনি। 

নাটক এবং সাহিত্যের জন্য সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার, বর্তুরনব্য পুরস্কার, পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, কন্নড় সাহিত্য পরিষৎ পুরস্কার, সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, কালিদাস সম্মান, রাজ্যোৎসব পুরস্কার এবং দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুরস্কার পেয়েছিলেন গিরীশ। পরিচালনা এবং চিত্রনাট্যের জন্য ১০বার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। এছাড়া অভিনয়, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনার জন্য একাধিকবার হিন্দি ফিল্মফেয়ার এবং দক্ষিণী ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং কর্নাটক রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন গিরীশ। ২০০০–০৩ সাল পর্যন্ত নেহরু সেন্টারের ডিরেক্টর এবং ভারতীয় হাই কমিশনে সাংস্কৃতিকমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন।   

গিরীশ কর্নাডের মৃত্যুতে শোকের ছায়া শিল্পজগতে। অমিতাভ ঘোষ টুইটারে শোকজ্ঞাপন করে বলেছেন, মানুষের এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ ছিলেন গিরীশ কর্নাড। কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়া টুইটারে শোকপ্রকাশ করে বলেছেন, সারস্বত সমাজে গিরীশ কর্নাডের ভূমিকা তুলনাহীন।  সূত্র-ভারতীয় গণমাধ্যম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা