kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

বেদের মেয়ে জোস্‌না বিজেপিতে

অঞ্জু ঘোষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা    

৮ জুন, ২০১৯ ১৬:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেদের মেয়ে জোস্‌না বিজেপিতে

বাংলাদেশের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, বেদের মেয়ে জোস্‌নাখ্যাত অঞ্জু ঘোষ যোগ দিলেন বিজেপিতে। গত বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার সেন্ট্রাল রোডের বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজেপিতে যোগদান করেন অঞ্জু ঘোষ। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিনেত্রীকে বিজেপিতে বরণ করে নেন। এ ব্যাপারে দিলীপ ঘোষ বলেন ‘নরেন্দ্র মোদির সরকার যে উন্নয়ন করছে, তার সঙ্গে উনি সম্পৃক্ত হতে চান। ওনাকে আমরা বিজেপিতে স্বাগত জানাই। বহুদিন ধরেই অঞ্জু দিদি আমাদের পার্টিতে যোগ দিতে চাইছিলেন। কিন্তু দেবেন কি দেবেন না—সেটা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে সেই প্রশ্নের অবসান হয়েছে আজ। তিনি বিজেপির সদস্য হিসেবে আজ নাম লেখালেন। তাঁকে পেয়ে আমরা সত্যিই ধন্য।’

এ দিকে ‘বেদের মেয়ে জোস্‌না’র নায়িকা অঞ্জু ঘোষ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক উঠেছে পশ্চিমবঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অঞ্জু ঘোষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বলা হয়েছে, তিনি আসলে বাংলাদেশের নাগরিক এবং ‘কারসাজি করে তাঁকে ভারতের নাগরিক বানানো হয়েছে।’ একজন বিদেশি কিভাবে ভারতের একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, সেই প্রশ্ন তুলছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল। তবে বিজেপি দাবি করেছে যে অঞ্জু ঘোষের বাবা বাংলাদেশের মানুষ ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর জন্ম কর্ম, সবই কলকাতায়। অঞ্জু ঘোষ যেহেতু বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করতেন, তাই ওনার বিজেপিতে যোগদানের পরপরই তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিলীপ ঘোষ বলেন ‘ওনাকেই প্রশ্ন করুন।’

সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে অঞ্জু ঘোষ একটু অপ্রস্তুত হয়ে যান। আর তারপর উনি হাসতে থাকেন। তিনি জানান, তাঁর মা-বাবা ভারতে মারা গিয়েছেন। এমনকি তাঁর পৈতৃক বাড়িও কলকাতাতে বলে জানান। তাঁর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে বলেও দাবি অভিনেত্রীর।

অঞ্জু ঘোষের বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিজেপির এক রাজ্য নেতা বলেন, ‘অঞ্জু ঘোষের বয়স এখন ষাটের কোঠায়। আজকের প্রজন্ম ওনাকে চেনে না। বিজেপিতে ওনাকে নিয়ে কী লাভ, তা বুঝতে পারছি না।’

গত কয়েক বছর ধরে উনি থেকেছেন অন্তরালে। ওনার অভিনীত বেদের মেয়ে জোস্‌না আশির দশকের শেষে এবং নব্বইয়ের গোড়ায় কোটি টাকার ওপরে ব্যবসা করেছিল। তার পরে চলচ্চিত্র তেমন সাফল্য আর অর্জন করতে পারেননি। কলকাতার সল্টলেকে ওনার দ্বিতল বাসাতে পূজা-অর্চনা করেই তাঁর সময় কাটে। প্রায় দুই দশক পর গত বছর তিনি বাংলাদেশে যান এবং নতুন করে সিনেমার জগতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা