kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

আজ বিকেলে মগবাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ

সাদ্দাম আগেই টের পেয়েছিলেন সেই লঞ্চেই তাঁকে হত্যা করা হবে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ জুন, ২০১৯ ১৪:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাদ্দাম আগেই টের পেয়েছিলেন সেই লঞ্চেই তাঁকে হত্যা করা হবে!

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ভুতেরদিয়া সংলগ্ন সুগন্ধা নদী থেকে সাদ্দাম হোসেন (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার বিকেল ৩ টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। আজ সোমবার ময়না তদন্তের জন্য সাদ্দামের লাশ উজিরপুর উপজেলার ওটরা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

সাদ্দাম মো. শাহজাহান বেপারীর ছেলে। সাদ্দাম বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন সংস্থার (এফডিসি) শুটিং সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।      

নিহতের ভগ্নিপতি মাইনুল হোসেন জানান, ঈদের  ছুটিতে গত ৩১ মে ঢাকা-ভান্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান-১০ লঞ্চযোগে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে বের হয় সাদ্দাম। আসার পথে লঞ্চের ভিতরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সে। এ সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের সাথে হাতাহাতি হয় সাদ্দামের। এক পর্যায়ে লঞ্চ স্টাফরাও সাদ্দামের ওপর হামলা চালায়। হামলার ঘটনা শুক্রবার গভীর রাতে মোবাইল ফোনে তাকে জানায় সাদ্দাম।

সাদ্দামের বন্ধু আনোয়ার হোসেন বলেন, লঞ্চের কর্মচারীরা তাঁকে মেরে ফেলবে এ কথা সাদ্দাম আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। লঞ্চে নিজ এলাকার দুইজনকে পেয়েছিলেন যাদের একজন নাঈম। নাঈম দুলাভাই- ভাগ্নে-ভাগ্নির জন্য কেনা নতুন জামা কাপড় সাদ্দাম নাঈমের হাতে তুলে দেন। নাঈমকে বলেন, আমি যদি কোনোভাবে বাড়িতে যেতে না পারি তাহলে এটা তুমি পৌঁছে দিও। 

পরদিন শনিবার ভোরে বানাড়ীপাড়ার মীরেরহাট লঞ্চঘাটে লোকজন নিয়ে সাদ্দামের খোঁজ নেন ভগ্নিপতি মাইনুল হোসেন। কিন্তু লঞ্চ ঘাটে পৌঁছলেও সাদ্দামের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওই দিন উজিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করার জন্য গেলে থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নেয়নি। তার ধারণা সাদ্দামকে লঞ্চ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলেও জানান মাইনুল। 

বাবুগঞ্জ থানার ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস জানান, লাশটি ভাসতে দেখে এলাকাবাসী থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে মাইনুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি থানায় গিয়ে লাশ সনাক্ত করেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ বরিশাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ওসি।

তদন্ত কর্মকর্তা এস আই নিজাম বলেন, একদিন এক রাত পানির মধ্যে ছিল এ অবস্থায় লাশের অবস্থা অনেকটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বাইরের চামড়া সাদা হয়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় সুরতহাল রিপোর্ট দিয়ে বলা সম্ভব না যে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে নাকি এটা অন্যকোনোভাবে মৃত্যু। তবে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে গেছে।

আজ বিকেলে মগবাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ
সাদ্দাম হোসেন বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন সংস্থার (এফডিসি) শুটিং সহকারী। একজন শুটিং সহকারী বা প্রোডাকশন বয়কে 'নির্যাতন করে হত্যায়' শিল্পীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। আজ বিকেলে শিল্পী, চিটর পরিচালকেরা মগবাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা