kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

'মমতার ভুলেই বিজেপির বিধ্বংসী বিজয়' বলছেন তারকারা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মে, ২০১৯ ২১:৪২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



'মমতার ভুলেই বিজেপির বিধ্বংসী বিজয়' বলছেন তারকারা

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদির গেরুয়া শিবির বিধ্বংসী জয় পেয়েছে।  মমতার আশা ছিল ৪২ আসনের সবগুলো তার দল পাবে। কিন্তু সেখানে ২০টি আসন হাতছাড়া হয়ে গেছে। ২২টি আসন পেয়েছে তৃণমূল, আর বিজেপি ১৮টি। স্বাভাবিকভাবেই এই অপ্রত্যাশিত ফল তৃণমূল শিবির তথা মমতার কাছে বড় ধাক্কা। তো বিজেপির এমন উত্থানে কী ভাবছেন ওপার বাংলার লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতি কর্মীরা?

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (সাহিত্যিক) : শাসক হিসেবে, নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফুল মার্কস পাবেন। কিন্তু দলে অনেক বেনো জল ঢুকে পড়েছে। দলের মধ্যেই মেরুকরণ হয়েছে। গোপনে অনেক নেতা-কর্মী দলবদল ঘটিয়েছেন। তারই ফলাফল এটা। যদিও রাজনীতিতে এই ঘটনা হামেশাই ঘটে। এবারের নির্বাচনের আগেও তেমন প্রত্যাশাই ছিল। সেটাই দেখলাম বাস্তবায়িত হলো। আমরা এখন আপাতত দর্শকের ভূমিকায়। দেখব, আগামী দিনে আর কী কী ঘটতে চলেছে। অনেকেই ফলাফল দেখে প্রশ্ন তুলছেন, দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কতটা বজায় থাকবে? এক্ষেত্রে আমার মত, ধর্মনরপেক্ষ শব্দটাই খুব ধোঁয়াটে। কোনোদিনই দেশ বা রাজ্য ধর্মনিরপেক্ষ ছিল না। তাই এই নিয়ে চিন্তা করছি না। আর হিন্দুত্ববাদে কিন্তু সহস্র মতের সমাহার। নাস্তিকেরও এখানে সম্মান আছে। এই কারণেই বলছি, হিন্দুত্ববাদ কিন্তু ধিক্কারের বিষয় নয়। তার মানে এই নয়, হিন্দু বলেই আমি অন্য ধর্মকে অসম্মান করব। ফলে, এই নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোই ভালো।

অনীক দত্ত (পরিচালক) : শাসকদল তৃণমূলের ভুলেই বিজেপি এসেছে। তৃণমূল যা করছিল তাতে এটাই অবশ্যম্ভভাবী ছিল। তবে এত ব্যাপক আকারে হবে এটা বোধহয় সবারই ধারণার বাইরে ছিল। সবে ফলাফল বেরিয়েছে। তাই এক্ষুণি বলা সম্ভব নয়, ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে সাধারণ মানুষের জন্য। কেমন হবে রাজ্য বা দেশের অবস্থা। এটা পুরোটাই সময় সাপেক্ষ। তবে এটুকু বলতে পারি, ‘ভবিষ্যতের ভূত' তৈরি করতে গিয়ে ফেডারেশনের যে ভয়ঙ্কর চেহারা দেখলাম সেটা একেবারেই বাঞ্চনীয় নয় সিনে দুনিয়ার পক্ষে। যা গত ২৫/৩০ বছর ধরে ছবি করার পরেও আমার জানা বা চেনা ছিল না। আমি তার প্রতিবাদ জানানোয় ইন্ডাস্ট্রির সবাই আমায় বলেছিলেন, 'এমন কিছু করিস না যাতে তোর ভাত মারা যায়।' আমি তখন বলেছিলাম, ভাত বন্ধ হলে রুটি খাব। আমার কিন্তু কিচ্ছু হয়নি। আন্তরিকভাবে চাইছি, ছবির দুনিয়া থেকে রাজনীতি দূরে থাকুক। না হলে, রাজ্যবাসী আবার নতুন শক্তিকে সরিয়ে দেবে। নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের বাঁচাতে।

কৌশিক সেন (অভিনেতা) : পঞ্চায়েত ভোট বা তারও আগে থেকে ভোট না দেওয়ার যে ট্রেন্ড তৈরি করল শাসকদল সেটা কিন্তু মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। কারণ, উচ্চবিত্তের কাছে না হলেই মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। মানুষ এতে অপমানিত। সেই অপমান থেকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোটদান। এই মুহূর্তে বোলপুরে শৈবাল মিত্রের ছবির শুটিংয়ে রয়েছি। এখানে মুহূর্মুহূ 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি উঠছে। মানুষের ধর্মীয় চেতনাকে উস্কে দিয়ে তাকে কাজে লাগিয়েছে বিরোধী দল। এটাই এখন বিজেপির শ্লোগান! যদিও এটা কাম্য নয়। তবে এর জন্য দায়ী শাসকদল। অহেতুক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে তোষণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ‘তিন তালাক' নিয়ে মুখ খোলেননি। আদৌ কি রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নতি হয়েছে? এটা দ্বিতীয় পয়েন্ট। এছাড়াও, দল ভাঙানো তো আছেই। যার জন্য সমস্ত বিরোধী দল মুছে একটাই দলে এসে দাঁড়াল। সেটা গেরুয়া শিবির। এটাই তো হওয়ার ছিল।

অগ্নিমিত্রা পাল (ফ্যাশন ডিজাইনার, বিজেপি সদস্য) : আরও একবার মোদি-ম্যাজিক কাজ করল দেশে এবং রাজ্যে। গত নির্বাচনেও বিজেপির কোনও অস্তিত্ব ছিল না। গত পাঁচবছরে প্রচণ্ড খেটেছে দল। রাজ্যের মানুষ জেনেছেন, মোদি আসলে দেশের উন্নতি হবে। রাজ্যেগুলির জন্য অনেক প্রকল্প করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্য রাজ্য নিয়ে তার সুফল ভোগ করেছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সেটা গ্রহণ না করে অনেক প্রকল্পের নাম বদলে শাসকদলের নামে চালিয়েছেন। মোদির ডিজিটাল ইন্ডিয়ার জন্য সেটা সবাই বুঝেছেন। এবার তার ফল তো ভুগতে হবেই।

ডা. অমিত চক্রবর্তী (মনস্তত্ত্ববিদ) : আমাদের দেশ ভীষণ অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে। দেশের সমস্ত নেতা-মন্ত্রীরাও। তাদের মুখের ভাষা এতটাই কুৎসিত যে সাধারণ মানুষ আর নিতে পারছেন না। ফলে, বুঝতেও পারছেন না কাকে দেশের চালক হিসেবে বাছবেন। তাই হয়তো এই পরিবর্তন। ভালো না খারাপ হল, সেটা সময় বলবে। তবে একজন মনস্তত্ত্ববিদ হিসেবে আমার ব্যক্তিগত অনুরোধ, দেশের কাণ্ডারীরা আরও বিনয়ী হোন। নম্র হোন। সহনশীল হোন। এটাই কিন্তু আমাদের দেশের সংস্কৃতি। যা আজ প্রায় মুছতে বসেছে। এবং যার কু-প্রভাব পড়ছে আগামী প্রজন্মের ওপর। ভালো লেগেছে, মোদিজি কাল সব ভুলে নতুন উদ্যমে কাজে নামার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। এটাই কাম্য। এতেই সমাজের মঙ্গল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা