kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

ফেরদৌসের পর গাজী নুরের ভিসাও বাতিল ভারতে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরদৌসের পর গাজী নুরের ভিসাও বাতিল ভারতে

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রচার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন বাংলাদেশি তারকা অভিনেতা ফেরদৌস। বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত তার ভিসা বাতিল করে ভারত সরকার। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এবার একই কারণে আরেক বাংলাদেশি অভিনেতা গাজী নুরের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারই তাকে ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরতে হবে। এ বিষয়ে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে গাজী নুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের আওতাধীন বিদেশি নাগরিক পঞ্জিকরন দপ্তরের (এফআরআরও) কাছে বাংলা টেলিভিশনের একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করা জনপ্রিয় অভিনেতা গাজী নুরের ভিসা সংক্রান্ত বিশদ তথ্য চেয়ে পাঠায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার বিরুদ্ধেও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রিপোর্ট চায়। সেই রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, দমদম লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সৌগত রায়ের প্রচারে একটি রোড শোতে অংশ নেন বাংলাদেশি ওই অভিনেতা। তিনি রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী, তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের সঙ্গে প্রচারগাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তেও দেখা যায়। বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে মঙ্গলবার অভিযোগ জানান এবং তাদের অভিযোগের সপক্ষে একটি ভিডিও জমা দেন।

এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিসার শর্ত লংঘন করেছেন গাজী নুর। সেই কারণেই ফেরদৌসের মতো তার ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। তবে ফেরদৌসের মতো গাজী নূরকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিনেতা ফেরদৌসের বিজনেস ভিসা বাতিল করার পাশাপাশি তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে দেয়। ফলে ভবিষ্যতেও তিনি ভারতে আসার ভিসা পাবেন না।

বাংলাদেশ দূতাবাসকেও গাজির বিষয়টি জানানো হয়েছে। পর পর এই দুটি ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এ ধরনের ঘটনা দুই বন্ধু রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সুসম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্রের খবর, সেই কারণে ইতিমধ্যেই ভারতে আসা বাংলাদেশি সেলেব্রিটিদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ না করেন। উল্লেখ্য, বুধবার রাতে ফেরদৌস পুরো ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে বিষয়টি 'অনিচ্ছাকৃত ভুল' বলে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

মন্তব্য