kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

ফেরদৌসকে ভারত থেকে দেশে ফেরার নির্দেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১৯:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেরদৌসকে ভারত থেকে দেশে ফেরার নির্দেশ

ভারতে চলছে ১৭তম লোকসভা নির্বাচন। প্রথম দফায় ১৮টি রাজ্যের ৯১টি আসনে ১১ এপ্রিল ভোট হয়ে গেছে। পুরো এপ্রিল ও মে জুড়ে চলমান এই নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারে নেমেছেন ঢালিউড আর টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ফেরদৌস। তাই তাকে ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করার অপরাধে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে দাবি করছে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জের প্রার্থী কানাইয়ালালের হয়ে ভোট চাইতে ওপার বাংলায় অবস্থান করছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় এই নায়ক। আর তা নিয়ে ভারত জুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

ফেরদৌস ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছে বিজেপি। আর এই অভিযোগ গেছে দিল্লি পর্যন্ত।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, বাংলাদেশি নাগরিক ফিরদৌস কীভাবে ভারতে লোকসভা ভোটের প্রচারে অংশ নিলেন, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গড়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়।

ভারতের নির্বাচনে বিদেশি নাগরিককে কেন ব্যবহার করা হল তা জানতে চেয়ে কলকাতায় ফরেনারস রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এ কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পর বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করার পরই মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এফআরআরও-এর কাছে জানতে চেয়েছে বাংলাদেশি অভিনেতা ফেরদৌস রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েছিলেন কি না বা তিনি ভিসা আইন লঙ্ঘন করেছেন কিনা। এদিন নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে আর্জি জানিয়েছে বিজেপি। 

মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক দপ্তরে গিয়ে ফেরদৌসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। ভিসা আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে ফেরদৌসকে গ্রেপ্তারের দাবি জানায় তারা। দলের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, ‘আমরা জানি যে একজন বিদেশি নাগরিক ভারতের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারে না। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস বাংলাদেশি নাগরিককে তাদের প্রচারণায় ব্যবহার করে, তারা নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করছে। এই দলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর ভিসা আইনের আওতায় ফেরদৌসকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত।’ 

এই পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ হাই কমিশন অবিলম্বে ফেরদৌসকে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পরই কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে ফেরদৌসকে ফোন করে জানতে চাওয়া হয় কেন তিনি এখানে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। যদিও ফেরদৌসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যেহেতু তিনি এই বাংলায় একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন, বাংলার প্রযোজক, পরিচালক বা অভিনেতা বন্ধুদের সাথে একটা সুমধুর সম্পর্কও রয়েছে। আর সেই সূত্র থেকেই তিনি ওই প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরদৌসের ওই যুক্তিকে খুব একটা ভালভাবে নেয়নি বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। কমিশনের অভিমত এভাবে নির্বাচনী প্রচারণনায় অংশ নেওয়া যায় না। পরে ফেরদৌসও এই বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপরই উপ-হাইকমিশন থেকে ফেরদৌসকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ফলে তাকে গ্রেপ্তারেরও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরেও এসেছেন।

গত ১৪ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালের সমর্থনে একটি প্রচারণায় অংশ নেন ফেরদৌস। হুডখোলা গাড়িতে করে অভিনেতাকে সাথে নিয়ে রোড শো করেন কানাইয়ালাল। ফেরদৌসের সাথেই একই গাড়িতে ছিলেন টালিগঞ্জের অভিনেতা অঙ্কুশ ও অভিনেত্রী পায়েল সরকার। করণদিঘি থেকে সেই রোড শো যায় ইসলামপুর পর্যন্ত। ফেরদৌসকে এও বলতে শোনা যায়, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ও দিদি (মমতা)-কে ভোট দেওয়া উচিত।’ 

ফেরদৌসসহ সিনেমা জগতের তারকাদের দেখতে রাস্তার দুইপাশে ছিল উৎসাহী মানুষের ভিড়। ফেরদৌসসহ অন্যরা কখনও হাত নাড়িয়ে কখনও বা হাত জোড় করে মানুষের অভিনন্দন গ্রহণ করেন। রবিবার রায়গঞ্জের পাশাপাশি হেমতাবাদেও আরেকটি রোড শো-এ অংশ নেন। সোমবারও করণদিহি এবং ইসলামপুরেও দুইটি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন ফেরদৌস। সেখানে ফেরদৌসের সাথে ছিলেন অভিনেতা দেব। 

ফেরদৌসের এই প্রচারণার খবর দুই বাংলাতেই গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে বিদেশি অথিতিকে নিয়ে ভোট প্রচারণা করার ঘটনায় বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। সাধারণ মানুষ জনপ্রিয় অভিনেতাকে কাছে পেয়ে খুশি হলেও বিরোধীদের প্রশ্ন নিজেদের দেশের সরকার গড়ার নির্বাচনে ভিন দেশের নাগরিক কেন প্রচারণায় অংশ নেবেন। টুরিস্ট ভিসা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কিভাবে একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন তা নিয়ে যথেষ্ট উত্তাপ তৈরি হয়। এই বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। 

মন্তব্য