kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

নিউ দুর্গা ইজ বর্ন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৯ ১১:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিউ দুর্গা ইজ বর্ন

গাজীপুরে ‘হিরো স্বাধীন বাংলা’ কনসার্টে মিলা

অভিমান করে গান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন মিলা ইসলাম। ৪ মার্চ হঠাৎ তাঁকে দেখা গেল কনসার্টে। গাইছেন, ড্রাম বাজাচ্ছেন এবং দর্শকদের সঙ্গে নাচছেন। অনেক দিন পর নবরূপে ফিরলেন পপতারকা। তবে গানের চেয়ে ব্যক্তিজীবনের কথাই বেশি বললেন তিনি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

গণমাধ্যমের ওপর অভিমান নয়, রীতিমতো খেপে আছেন মিলা। বিস্তর অভিযোগ তাঁর। ক্ষোভের মাত্রা এতটাই যে স্থির হয়ে কথা বলতে পারছিলেন না। এক প্রসঙ্গের মধ্যে আরেক প্রসঙ্গ ঢুকে পড়ছে, ‘চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে গণমাধ্যমকে আমার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু কেউই দাঁড়ায়নি। আমি একজন শিল্পী। যেভাবে আমার ওপর অত্যাচার হয়েছে, ভেবেছিলাম সবাই মিলে একটা গণমত গড়ে তুলবে, উপযুক্ত বিচার পাব; কিন্তু কিছুই হলো না। সেই অত্যাচারী যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে তারা তার পক্ষে এবং আমার বিপক্ষে নোংরা প্রচারণা চালিয়েছে। তাদের ভয়ে সবাই চুপ করে আছে। আমি ফাইট ছাড়িনি। আমার মামলা এখনো চলছে। আমি আবার উঠে দাঁড়িয়েছি শুধু একটি লক্ষ্যেই, অপরাধীকে আইনি শাস্তির মুখোমুখি করা।’

একটু দম নিয়ে আবার বললেন তাঁর ক্ষোভের কারণ, ‘আমার মৃতপ্রায় অবস্থা দেখে সবাই হ্যাপি হয়েছিল। আশপাশে কেউই ছিল না আমার। বিরোধীপক্ষ আমাকে উত্খাত করতে চেয়েছিল। আমার কাছের মানুষরা দেখেও চোখে সানগ্লাস পরে পাশ কেটে চলে গেলেন। ভুলিনি কিছুই। এই সব যন্ত্রণা নিয়েই আমি আবার গানে ফিরেছি। প্রত্যাবর্তন রকস্টার মিলার হয়নি, দ্য নিউ দুর্গা ইজ বর্ন—মিলা।’

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিলার অভিযোগ, তাঁরা চাইলেই নাকি তাঁর সাবেক স্বামী জেল থেকে ছাড়া পেতেন না। “একটা শিরোনাম চেয়েছিলাম আমি, ‘একজন শিল্পীর ওপর অত্যাচার-অপমানের সঠিক বিচার হোক’। কেউ কি আছেন? আমাকে নিয়ে এই হেডলাইন দেবেন!”

২০১৭ সালের ১২ মে বৈমানিক পারভেজ সানজারিকে বিয়ে করেন মিলা। বিয়ের প্রায় ১০ বছর আগে থেকেই তাঁদের পরিচয় ও প্রেম। বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় মারধর ও যৌতুকের অভিযোগে মিলা মামলা করেন সানজারির বিরুদ্ধে। কারণ হিসেবে তিনি তখন বলেছিলেন, ‘১০ বছর সম্পর্কের পর আমরা বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জানতে পারি, একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক। প্রেমের সময় থেকেই সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করে এসেছে। বিয়ের পরও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আমাকে প্রতারিত করেছে। এত বছরের সম্পর্কের পরও যে মানুষ এমন করতে পারে, তার সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকা যায় না। কোনো নববধূই এমন বর প্রত্যাশা করে না।’

মিলা মনির-খুকুর উদাহরণ তুলে ধরেন। ১৯৮৯ সালে স্ত্রী শারমিন রীমাকে হত্যা করেন মনির হোসেন। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। মিলা বলেন, ‘ফারাক হচ্ছে, তারা আমাকে প্রাণে মারার আগেই বেঁচে ফিরেছি। আদালত মনিরকে খালাস করে দিয়েছিল। গণমাধ্যমে সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরেই মনিরকে ফাঁসি দেওয়ায়। অনেক মেয়ের মতো আমি আত্মহত্যাও করতে পারতাম। তা না করে উঠে দাঁড়িয়েছি।’

অবশেষে কথা বললেন গান নিয়ে। ‘মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিই আমাকে তৈরি করেছে। গান আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন। আমার শক্তির জায়গা এটাই। ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনায় চুপসে থাকলে প্রতিপক্ষেরই বিজয় হবে। গান মানে আমি শক্তির জায়গা দিয়েই অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাব।’

টানা দুই বছর পর গানে নিয়মিত হলেন। গত বছর দু-একটি অনুষ্ঠানে দেখা গেলেও এই মার্চ থেকে ফিরলেন স্বরূপে। ৪ মার্চ গাজীপুর জেলা স্টেডিয়াম মাঠে ‘হিরো স্বাধীন বাংলা’ কনসার্ট দিয়ে শুরু। ৮ মার্চ গাইলেন খুলনায়, ১১ মার্চ বরিশালের বেলস পার্কের কনসার্টে তিনি গানের পাশাপাশি চমকে দেন ড্রামস বাজিয়ে! ১৫ মার্চ গাইলেন চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে, ১৯ মার্চ কুমিল্লা টাউন হল মাঠে। ২৩ মার্চ গাইবেন ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদীন পার্কে। মার্চ-এপ্রিলের পুরোটাই তাঁর ব্যস্ততা। ২৯ মার্চ গাইবেন রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম মাঠে, ২ এপ্রিল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে।

দুই বছর অডিও কিংবা সিনেমার গানেও কণ্ঠ দেননি। পাওয়া যায়নি কোনো টিভি শো কিংবা মিডিয়ার অনুষ্ঠানে। মিলা বলেন, ‘গানে ফিরে মনে হচ্ছে প্রাণটা ফিরে পেয়েছি। ভালোবাসার গানের সঙ্গে অভিমান করার মানে হয় না। গানকে অবহেলা করা মানে নিজেকে অস্বীকার করা। সেই ভাবনা থেকেই গেল ছয় মাস নিজেকে আবার গড়েছি। টানা শো করছি এখন। এনজয়ও করছি বেশ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা