kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

অপি করিমের ছবিতে ভারতের মন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপি করিমের ছবিতে ভারতের মন্ত্রী

 বহু বছর পর চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন অপি করিম। দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণাধীন ‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ ছবিতে দেখা যাবে তাকে। কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই ছোটগল্প ‘বিষাক্ত প্রেম’ ও ‘সুবালা’ অবলম্বনে সাজানো হয়েছে ছবিটির চিত্রনাট্য। সঙ্গে আছে ওপারের পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋত্বিক চক্রবর্তীসহ বেশ কয়েকজন।
ছবিটিতে এবার যুক্ত হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্র‌যুক্তিমন্ত্রী ব্রাত্য বসু। কলকাতায় বৈদ্যবাটির দেড়শ বছরের পুরনো মুখার্জি বাড়িতে এখন এর শুটিং চলছে।

‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ পরিচালনা করছেন ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এর বাংলা নাম রাখা হয়েছে ‘মায়ার জঞ্জাল’। চিত্রনাট্য এমনভাবে সাজানো হয়েছে, শেষে গিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই ছোটগল্প মিলে গেছে একই বিন্দুতে।

জানা গেছে, ছবিটিতে ব্রাত্য বসুর চরিত্রের নাম গণেশ বাবু। তিনি মাছের আড়তদার। বিউটি সাহা নামের এক যৌনকর্মীর প্রেমে পড়েন গণেশ। বাংলাদেশের মেয়েটিকে তার স্বামী কলকাতার এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। মেয়েটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি। যদিও তার স্ত্রী-সন্তান আছে ঘরে। 

ব্রাত্য বসু বলেন, গণেশ মূলত অতিথি চরিত্র। কবির (ইন্দ্রনীলের ডাকনাম) সঙ্গে কাজ করতে চাই বলেই রাজি হয়েছি। মাছের আড়তদার হলেও গণেশের মধ্যে গান নিয়ে একটা উচ্চাশা ছিল। বাবা মাছের ব্যবসায় লাগিয়ে দিয়েছে। বিউটিকে রক্ষিতা হিসেবে রেখেছে সে। বিউটিকে ঘিরে নানান ফ্যান্টাসি করে গণেশ। নিজের শৈশব ও যৌবনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে সেখানে মেয়েটিকে নিয়ে যেতে চায় সে।

গণেশের চরিত্রটি বাঙালি পুরুষের একটা প্রতীক বলা যেতে পারে। ছবিটির মুখ্য চরিত্রগুলোতে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী অপি করিম (সোমা), প্রাচ্যনাটের সোহেল রানা (সত্য), কলকাতার অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী (চাঁদু), অভিনেত্রী চান্দ্রেয়ী ঘোষ (বিউটি)। 

‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ পরিচালনা করছেন কলকাতার প্রশংসিত নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী। তার সঙ্গে মিলে এটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছেন বাংলাদেশি নির্মাতা জসীম আহমেদ। প্রাথমিকভাবে ছবিটির বাংলা নাম রাখা হয়েছে ‘মায়ার জঞ্জাল’। তবে এটি পরিবর্তন করা হবে। 

যৌথ প্রযোজনার উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীল ও জসীম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্ব অনেকদিনের। দুজনেরই প্রধান উৎসাহের বিষয় সিনেমা। ঢাকা ও কলকাতায় চলচ্চিত্র চর্চার ইতিহাস বহু পুরনো। দুই দেশেই চলচ্চিত্র কর্মীদের দক্ষতা ও প্রতিভা প্রশ্নাতীত। তবুও পরীক্ষামূলক বাংলা ছবির পিঠ ক্রমে দেয়ালে ঠেকে যাচ্ছে। সিনেমা হল থেকে সরে যাওয়ার পরে তা ইন্টারনেট বা টেলিভিশনের মাধ্যমে জনপ্রিয় হলেও প্রযোজকরা বিনিয়োগ তুলে আনতে পারছেন না। এককথায় অন্যধারার বাংলা ছবির ব্র্যান্ড পারসেপশন দর্শকের কাছে খুব দুর্বল।’

ইন্দ্রনীল ও জসীম আহমেদ মনে করেন, এই অবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার উপায় হলো বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কাছে নিয়ে যাওয়া। তারা বলেছেন, ‘এতে দর্শকের কাছে বাংলা ছবির ব্র্যান্ড পারসেপশনে পরিবর্তন আসার পাশাপাশি ‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ ছবির একটা আন্তর্জাতিক বাজার খুলে গেলে তার প্রভাব আমাদের দুই বাংলার চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য সুদূরপ্রসারী হবে।’

দুই প্রযোজকের তথ্য অনুযায়ী, ‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ ছবির বাজেট সীমিত। তাদের ভাষ্য, ‘আপাতদৃষ্টিতে এই ছবি তথাকথিত মনোরঞ্জনমূলক নয়। তবে আমাদের উদ্দেশ্যের সিকিভাগও সফল হলে তার প্রভাব দুই বাংলার চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য সার্বিকভাবে ইতিবাচক হবে।’

২০১৩ সালে ‘ফড়িং’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় আসেন ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী। এরপর ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’ ও ‘ভালোবাসার শহর’ ছবি দুটি পরিচালনা করেন তিনি। এ দুটিতে ছিলেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান। 

অন্যদিকে জসীম আহমেদ তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি পরিচালনা করে দেশ-বিদেশে খ্যাতি পেয়েছেন। এগুলো হলো ‘দাগ’, ‘অ্যা পেয়ার অব স্যান্ডেল’ ও ‘চকোলেট’। ‘ওয়ার্ল্ড হোম অব শর্টস মুভিজ’ খ্যাত শর্টস ইন্টারন্যাশনাল তার তিনটি ছবিরই বিশ্ব পরিবেশনার জন্য চুক্তি করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা