kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

ফেরদৌসের চোখে নায়করাজ রাজ্জাক

এ.এস.এম. ইয়াহিয়া   

১১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেরদৌসের চোখে নায়করাজ রাজ্জাক

নায়করাজ রাজ্জাক আর ফেরদৌস আহমেদ- বাংলাদেশের চলচিত্র শিল্পের দুই প্রজন্মের দুই আইকনিক অধ্যায়ের নাম। সহশিল্পী হিসেবে দুজন একসাথে আর্বিভূত হয়েছিলেন বহু ছবিতে। লাইট-ক্যামেরা-রোলিং-অ্যাকশন: সিনেমা ফ্রেমের এই জগতের বাইরেও দুজনের মাঝে ছিল এক চমৎকার বোঝা-পড়া আর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। তারই ছোট্ট একটি নমুনা পাওয়া গেল ফেরদৌস আহমেদের কণ্ঠে, নায়ক রাজ রাজ্জাকের সাথে আমার রয়েছে হাজারও স্মৃতি। সেগুলো বলা শুরু করলে রাত ভোর হয়ে যাবে কিন্তু স্মৃতির ভাণ্ডার ফুরোবে না। এটা আসলে নায়ক রাজের সাথে শুধু আমার স্মৃতি না; এমন একটা ঘটনা যেটা না ঘটলে হঠাৎবৃষ্টি’র পর আমার আর অভিনয় জগতে ফিরে আসা হতো কিনা সন্দেহ!

ফেরদৌস বলেন, ১৯৯৯ সালের কথা ‘হঠাৎবৃষ্টি’ মুক্তির পর ঢাকায় একটা সাকসেস পার্টির আয়োজন করেছিলাম। পরিবারের সবাই, ইন্ডাস্ট্রির বন্ধু-বান্ধব আর উপস্থিত ছিলেন নায়ক রাজ স্বয়ং। আমার বাবা তাকে কাছে থেকে পেয়ে ছিলেন ভীষণ উৎফুল্ল। নায়ক রাজ আমার অভিনয়ের তারিফ করছিলেন আর সে সুযোগটা নিয়ে আমি বলেছিলাম, আমার বাবা চাচ্ছেন আমি যেন আর সিনেমা না করি। নায়ক রাজ ভীষণ অবাক হয়ে আমার বাবাকে বলেছিলেন, ফেরদৌস তো খুব ভাল করছে, ওকে থামাবেন না, ওকে কাজ করতে দিন। আমদের ইন্ডাস্ট্রিতে ওর মতো শিল্পিই খুব দরকার। আমি তো আমার আসছে ছবিতে ফেরদৌস’কে নেব বলে ভেবে রেখেছি।

ওখান থেকেই নায়ক ফেরদৌসের ক্যারিয়ার বন্ধ হতে গিয়েও আবার নতুন করে শুরু হলো। ফেরদৌস বলেন, ' এরপর আমি নায়ক রাজ রাজ্জাকের রাজলক্ষ্মী প্রডাকশনের ছবিতে প্রথমবারের মতো অভিনয়ের সুযোগ পাই। ছবির নাম– ‘সন্তান যখন শত্রু’। এটা খুবই সত্যি সেদিন যদি নায়ক রাজ ওভাবে না বলতেন তাহলে আসলেই আমার আর সিনেমায় অভিনয় করা হতো না। কারণ সিনেমাতে আসার আগে আমি ফ্লাইং ক্লাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম পাইলট হবার জন্য। বাবা সহ আমার পুরো ফ্যামিলির ইচ্ছেও ছিল তাই।

স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ফেরদৌস বলেন, নায়ক রাজের সাথে আরও একটি চমৎকার স্মৃতি হলো ‘এক কাপ চা’ ছবিতে একটি চরিত্র তৈরি হয়েছিল যেটি রাজ্জাক সাহেব ছাড়া কারো পক্ষেই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব না। পরিচালকরা কেউ সাহসই পাচ্ছিল না যে নায়ক রাজকে বলবে সেই অতিথি চরিত্র করার জন্য। অবশেষে আমি নিজে দেখা করে বলেছিলাম আমার প্রডাকশনের ছবিতে একদিনের জন্য আপনাকে শ্যুটিং করে দিতে হবে। তাকে চরিত্রটি পড়ে শুনালাম এবং খুশি মনে রাজি হয়ে বলেছিলেন, বহু বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো অতিথি চরিত্র করব আমি। আর সেটা তোমার ছবি বলেই করব। আমার জীবনের প্রথম অতিথি চরিত্র করেছিলাম ‘দস্যূ বনহুর’ ছবিতে আমার বন্ধু মাসুদ পারভেজের (সোহেল রানা) কারণে। এরপর অনেকেই বলেছিল কিন্তু করিনি। তবে তোমারটাতে করব।

শ্যুটিং করলেন ডাবিংও দিলেন কিন্তু নেননি কোন সম্মানি। অনেক অনুরোধ করেও দিতে পারিনি। শেষে খুব বেছে পছন্দ করে তাকে একটি কালো রঙের শাল উপহার দিয়েছিলাম। সেটা তিনি তার ৭৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের জমকালো অনুষ্ঠানে পড়ে এসছিলেন এবং একফাঁকে আমাকে তা দেখিয়ে বলেছিলেন, 'এটা চিনতে পারছ ফেরদৌস!' যোগ করেন ফেরদৌস।

তিনি বলেন, কিভাবে যে বোঝাবো আমি কতটা সম্মানিত বোধ করছিলাম তখন। আমার ছবিতে অভিনয় করে তিনি আমাকে দিয়েছিলেন বিরাট এক উপহার। আর তার ৭৫তম জন্মদিনের ঐ সুবিশাল বিশেষ অনুষ্ঠানে আমার দেয়া উপহার গায়ে জড়িয়ে এসে আমাকে করেছিলেন আরও দ্বিগুণ-তিনগুণ পরিমাণ সম্মানিত।

ইত্যাদি আরও নানা ভাবে তার কাছ থেকে আমি শিখেছি এবং পেয়েছি অনেক। যা আমার সারা জীবনের পাঁথেয়। এগুলো সব স্বযত্নে যুক্ত হয়েছে আমার জীবন দর্শনে। আসলে নায়ক রাজ একাই ছিলেন একটি কমপ্লিট ইন্সটিটিউশন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা