kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন রাজ্জাক-কবরী জুটি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৪ ২৩:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন রাজ্জাক-কবরী জুটি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিগত পাঁচ বছরের বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করেছে। আজ বিএফডিসির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাচসাস ১৭টি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার প্রদান করে। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রধান অতিথি হিসেবে অভিনেতা ও কলাকুশলীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কালজয়ী জুটি রাজ্জাক-কবরীর হাতে তুলে দেন আজীবন সম্মাননা পুরস্কার। সেই সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন ও চাষী নজরুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে তাঁর শালিকার হাতে তুলে দেন বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র মানুষকে যেমন বিনোদন দেয়, তেমনি সচেতনও করতে পারে। শক্তিশালী এ গণমাধ্যম দেশের চেহারা পাল্টে দিতে পারে। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রই মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পাঞ্জা লড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে। স্বৈশাসন, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করেছে।
ইনু বলেন, চলচ্চিত্রে এক সময় সংকটকাল ছিল, কিন্তু এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার একে শিল্প ঘোষণা দিয়ে এর উন্নয়ন ও একে ডিজিটালাইজড করতে অর্থ বরাদ্দসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের মত দেশও এক সময় সংকটে ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশ ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির ভিত মজবুত হচ্ছে। জঙ্গীবাদ নির্মূল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই ঘুড়ে দাঁড়ানোর পক্ষে চলচ্চিত্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদেরও একত্রে কাজ করার জন্য তিনি আহবান জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশবাসী অশ্লীল ছবি চায় না। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বক্ষে ধারণ করে ঔপনিবেশিক, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে উজ্জীবিত হওয়ার মত ছবি চায়। তাই আপনাদের প্রতি আহবান আপনারা তেমন ছবি বানান। বাচসাস আজীবন সম্মাননা পুনস্কার পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অভিনেত্রী কবরী বলেন, অবিভক্ত বাংলায় উত্তম-সুচিত্রার পর রাজ্জাক-কবরী জুটিই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জুটি। মোনালিসার হাসি যেমন হাজার বছর বেঁচে থাকবে, তেমনি ঝলমলে এ জুটির জনপ্রিয়তা দর্শক-শ্রোতারা যুগের পর যুগ মনে রাখবে। তিনি বলেন, আমাদের সেই সোনালী যুগের পর হয়তো আরো অনেক নতুন যুগ আসবে, কিন্তু সেই যুগের গল্প-গাঁধা থাকবে মানুষের মুখে মুখে।
অনুষ্ঠানে ১৭টি ক্যাটাগরিতে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এতে ২০০৯ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে প্রিয়তমেষু, শ্রেষ্ঠ পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম (প্রিয়তমেষু), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হুমায়ূন আহমেদ (প্রিয়তমেষু), যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ফেরদৌস (গঙ্গাযাত্রা) ও চঞ্চল চৌধুরী (মনপুরা) এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পপি (গঙ্গাযাত্রা)। ২০১০ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র গহীনে শব্দ, শ্রেষ্ঠ পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু (গহীনে শব্দ), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার ফরিদুর রেজা সাগর ও খালিদ মাহমুদ মিঠু (গহীনে শব্দ), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শাকিব খান (ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না), ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী মৌসুমী (গোলাপী এখন বিলাতে)। ২০১১ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র গেরিলা, শ্রেষ্ঠ পরিচালক নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু (গেরিলা), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার সৈয়দ শামসুল হক (গেরিলা), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা আমিন খান (গরিবের মন অনেক বড়), ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী জয়া আহসান (গেরিলা)।
২০১২ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র রানওয়ে, শ্রেষ্ঠ পরিচালক প্রয়াত তারেক মাসুদ (রানওয়ে), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার রেদওয়ান রনি (চোরাবালি), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা মাসুদ আখন্দ (পিতা), ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ববিতা (খোদার পরে মা)। ২০১৩ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র মৃত্তিকা মায়া, শ্রেষ্ঠ পরিচালক গাজী রাকায়েত (মৃত্তিকা মায়া), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার গাজী রাকায়েত (মৃত্তিকা মায়া), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা তিতাস জিয়া (মৃত্তিকা মায়া) এবং যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস (মাই নেম ইজ খান) ও মাহিয়া মাহি (ভালোবাসা আজকাল) বাচসাস পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাচসাস সভাপতি আব্দুর রহমান। স্বাগত বক্তৃতা দেন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির।
 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা