kalerkantho

বিদ্রোহেও ‘নির্ভার’ আওয়ামী লীগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুনামগঞ্জের দুই পৌরসভায় এবার আওয়ামী লীগে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও তাঁদের নিয়ে টেনশন নেই আওয়ামী লীগে। দলীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, এলাকার আধিপত্য, প্রতাপ-প্রতিপত্তির কারণে এবারও দল মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেবেন বলে তাঁরা মনে করছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা আরো মনে করেন, দুই পৌরসভায় দুই বিদ্রোহী নৌকার ভোট কাটতে পারবেন না।

ছাতক পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী। ছাতকের রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব-প্রতিপত্তিতে তিনি রয়েছেন শীর্ষে। মিতভাষী হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম চৌধুরী এই প্রভাব-প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে এর আগে দুবার পৌরপিতা নির্বাচিত হন। এলাকার পুরনো আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচিত থাকলেও এই নেতা ও তাঁর পরিবার ছাতক আওয়ামী লীগের রাজনীতির কোন্দলের কারণে গত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেননি বলে অভিযোগ আছে। আওয়ামী লীগের দুইবারের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সঙ্গে তাঁর রয়েছে বৈরিতা। এই এলাকার সংসদ সদস্য হলেও তাঁর সমর্থকরা সব সময়ই কালাম চৌধুরীর আধিপত্যের কাছে অসহায় থাকেন।

পারিবারিক প্রভাব-সম্পত্তির কারণে ছাতক পৌর শহরে কালাম চৌধুরী একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। এই জনপ্রিয়তার কারণেই আওয়ামী লীগ এবার তাঁকে মনোনয়ন দেয় বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তা ছাড়া দলনিরপেক্ষ অনেক সাধারণ মানুষও তাঁকে পছন্দ করে। বিএনপি এই পৌরসভায় কালাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোনো প্রার্থী দিতে না পারায় এখন পর্যন্ত ভোটারদের আলোচনায় এগিয়ে আছেন কালাম চৌধুরী। বিএনপি এই পৌরসভায় লো প্রোফাইল প্রার্থী শামছুর রহমান শমছুকে প্রার্থী করেছে। এদিকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান হাজী আবদুল ওয়াহিদ মজনু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করায় ইতিমধ্যে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। তবে ভোটের মাঠে পিছিয়ে থাকার কারণে তাঁকে নিয়ে আওয়ামী লীগে কোনো টেনশন নেই বলে নেতারা জানান।

এদিকে জগন্নাথপুর পৌরসভায় শুরুতেই প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে বিরোধ ছিল। বেশির ভাগ তৃণমূলকর্মী প্রার্থী নির্বাচন করেছিলেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মিজানুর রশিদ ভূঁইয়াকে। কিন্তু ঢাকায় কেন্দ্রীয় মনোনয়ন কমিটি তৃণমূলের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে ধনকুবের সাবেক পৌর চেয়ারম্যান হাজি আবদুল মনাফকে মনোনয়ন দেয়। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বাহারে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন হাজি আবদুল মনাফ। তবে এলাকায় অনুদান ও নানা সমাজসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ত থাকায় ভোটের মাঠে তিনি এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। এই পৌরসভায়ও মনাফকে ঠেকানো যায় এমন কোনো শক্তিশালী প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে ফেরা রাজু আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পৌরসভার সব এলাকার ভোটারদের কাছে তিনি অনেকটা ‘অপরিচিত’।

কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় প্রার্থী হননি মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া। তবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ নূরুল করিম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত সিদ্দেক আহমদের জামাতা। সিদ্দেক আহমদকে এখনো দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে দেখা যায়নি। তবে তাঁর জামাতা শাহ নূরুল করিমের পক্ষেও তাঁকে দেখা যায়নি। তাঁর জামাতা শাহ নূরুল করিম প্রার্থী হলেও মাঠে প্রচারণায় তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। তবে ঘরোয়াভাবে তিনি বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন। ছাতকের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল ওয়াহিদ মজনু বলেন, ‘ছাতক পৌরসভায় যাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি ও তাঁর পরিবার কখনো নৌকা প্রতীকে ভোট দেননি। প্রকাশ্যে জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করেন তিনি ও তাঁর পরিবার। এবার তাঁকে দলের প্রতীক তুলে দেওয়ায় তৃণমূলকর্মীরা মর্মাহত। মর্মাহত এই কর্মীদের সমর্থন নিয়েই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।’

জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ নূরুল করিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যিনি পেয়েছেন তিনি একজন ধনকুবের। টাকার জোরে তিনি সমর্থন বাগিয়ে নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়েই আমি প্রার্থী হয়েছি।’ ভোটের মাঠে তাঁকে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে প্রচারণা চালানোয় অন্য প্রার্থীদের তুলনায় আমাকে মাঠে কম দেখা যায়।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট বলেন, ‘বিদ্রোহীদের নিয়ে আমাদের কোনো টেনশন নেই। কারণ ছাতক ও জগন্নাথপুরে দল মনোনীত প্রার্থী জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে।’

মন্তব্য