kalerkantho

অনিবার্য কারণে আজ শেয়ারবাজার প্রকাশিত হলো না। - সম্পাদক

ওস্তাদ-শিষ্যের লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে তিন মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে দুজনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা চলছে। সৃষ্টি হয়েছে অনেক আগ্রহের। ওস্তাদ-শিষ্যখ্যাত প্রার্থী দুজন হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের আব্দুল আলীম স্বপন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শামিমুল ইসলাম ছানা।

স্বপন ও ছানার ছাত্র রাজনীতি শুরু জাসদ ছাত্রলীগ থেকে। আশির দশকে স্বপন ও নব্বইয়ের দশকে ছানা দাপটের সঙ্গে ছাত্র রাজনীতি করেছেন। স্বপনের হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন ছানা। তাঁদের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিলও রয়েছে। তাঁরা উভয়েই ভেড়ামারা কলেজ ছাত্র সংসদে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। কলেজের ছাত্রছাত্রীদের দাবি আদায়ে ছিলেন সোচ্চার। পরে তাঁরা দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা হলেও তাঁদের ‘ওস্তাদ-শিষ্য’ সম্পর্কে চিড় ধরেনি একটুও। রাজনীতির চড়াই-উতরাই পার হয়ে স্বপন এখন কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এবং ছানা ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ দুই নেতা জনগণের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই-সংগ্রাম করছেন। একসঙ্গে কারাবরণও করেছেন। আবার দুজন হজও করেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি স্বপন-ছানা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত। এলাকার উন্নয়নে তাঁদের হাতের ছোঁয়া রয়েছে। তাঁরা সদালাপী ও মিষ্টভাষী। সাধারণ মানুষের মন জয় করার যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে দুজনেরই। গত পৌর নির্বাচনে তাঁরা মেয়র প্রার্থী ছিলেন। মেয়র নির্বাচিত হন শামিমুল ইসলাম ছানা।

স্বপন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর এবং ছানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। ভেড়ামারা পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বানাত হোসেন। তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছানা ক্ষমতাসীন দলের এবং স্বপন সরকারের শরিক দলের নেতা হওয়ায় নির্বাচনে এ দুজন ‘হেভিওয়েট প্রার্থী’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন, তাঁদের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। দুই প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

আব্দুল আলীম স্বপন ও শামিমুল ইসলাম ছানা জানান, নির্বাচনে হার-জিত থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের পরও তাঁদের দুজনের সম্পর্ক টিকে থাকবে। তবে ওস্তাদ-শিষ্যের কে হবেন ভেড়ামারার পৌর পিতা—তা জানার জন্য ভোটারদের অপেক্ষা করতে হবে ৩০ ডিসেম্ব্বর পর্যন্ত।

মন্তব্য