kalerkantho

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ‘নিরুদ্দেশ’

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী গোলাম মুহাম্মদ রাব্বানী ওরফে নয়ন বাঙালীকে ভোটের মাঠে এক দিনও দেখেনি তাঁর দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা। বিএনপির এ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে কোনো কাজেই এক দিনের জন্যও এলাকায় আসেননি। এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে দলের নেতাকর্মীরা। পৌর এলাকার অনেক বিএনপির নেতাকর্মী জানিয়েছে, তারা ভোট নয়, প্রার্থী নিয়েই চিন্তিত।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি জি এম তাহের পলাশী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চৌদ্দগ্রামের বিএনপিকে শেষ করে দিছে। এত বড় একটা নির্বাচন যাচ্ছে, অথচ দলীয় প্রার্থীর কোনো দেখা নাই। পুরো চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীর একটা পোস্টারও নাই। আমাদের নেতাকর্মীরা হায় হায় করছে। আমাদের প্রার্থীর মোবাইল ফোন তো আগে থেকেই বন্ধ ছিল। এখন তাঁর মায়ের ফোনও বন্ধ। আমরা এখন সাগরে ভাসছি। কী যে হবে চৌদ্দগ্রাম বিএনপির আল্লাহই জানে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী গোলাম মুহাম্মদ রাব্বানী ওরফে নয়ন বাঙালী পৌর বিএনপির সভাপতি। ঋণখেলাপি হওয়ায় প্রথমে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও পরে উচ্চ আদালতে গিয়ে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়ায় এক দিনের জন্যও তিনি মাঠে আসেননি। নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রথম কয়েক দিন তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালান স্ত্রী বেগম মেহেরুন্নেছা হক। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

পৌরসভার শ্রীপুর এলাকার ছাত্রদলকর্মী আবুল বাশার বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর ধরে আমাদের পৌর বিএনপির সভাপতিকে এক দিনের জন্যও দেখিনি। নির্বাচনের আর মাত্র চার-পাঁচ দিন বাকি থাকলেও আমাদের প্রার্থীর কোনো খবর নেই।’

চৌদ্দগ্রাম পৌর বাজার এলাকার বিএনপিকর্মী আবদুস সোবাহান বলেন, ‘প্রার্থীকে আমরা না দেখলেও কয়েক দিন তাঁর মাকে দেখেছি ভোটের মাঠে। এখন প্রার্থী নেই তাঁর মাও নেই। আমরাই পড়েছি বিপদে।’

বিএনপির মেয়র প্রার্থী গোলাম মুহাম্মদ রাব্বানী ওরফে নয়ন বাঙালীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র মতে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী গোলাম মুহাম্মদ রাব্বানীর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। দুটি মামলা বিচারাধীন। একটি মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।

 

মন্তব্য