kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ধানের শীষের হুমায়ুন এলাকায়ই ‘পরাধীন’

ফারুক আহম্মদ, কচুয়া থেকে ফিরে   

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধানের শীষের হুমায়ুন এলাকায়ই ‘পরাধীন’

কোথাও নেই বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পোস্টার। ওই প্রার্থীর নিজ বাড়ির সামনে কয়েকটি পোস্টার দেখা গেলেও সেখানে ভাগ বসিয়েছে প্রতিপক্ষরা। ফলে নিজ বাড়িতেই অনেকটা পরাধীন চাঁদপুরের কচুয়া পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হুমায়ুন কবির প্রধান। বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার কড়াইশ এলাকার বাসা থেকে বের হন তিনি। তবে প্রচার-প্রচারণার জন্য নয়, দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ জন্যই বাসা থেকে বের হলেন বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী। ভোট নিয়ে কথা প্রসঙ্গে হুমায়ুন করিব প্রধান বলেন, ‘ভাই অনেক বিপদে আছি। কোথাও যেতে পারি না। কর্মী-সমর্থকরা নানা ভয়ভীতিতে আছে। কোথাও পোস্টার লাগালে তা ছিঁড়ে ফেলছে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা। বড় ভাই শাহ আলম প্রধান কেন আমার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিলেন সে জন্য মঙ্গলবার রাতে তাঁকে মারধর করেছে প্রতিপক্ষরা।’ নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী আরো বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই যতই দমন-পীড়ন চালানো হোক, এই মুহূর্তে আমার পাশে শুধু আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই।’

হুমায়ুন কবির প্রধানের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়ার এমন অভিযোগ যার বিরুদ্ধে তিনি হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নাজমুল আলম স্বপন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের এই মেয়র প্রার্থী সবকিছুই অস্বীকার করলেন। 

অন্যদিকে সকাল ১০টায় পৌরসভার কোয়া এলাকার পোদ্দারবাড়িতে শত শত কর্মী-সমর্থক নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী নাজমুল আলম স্বপন। অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে এই মেয়র প্রার্থী জানালেন, ‘দিনরাত ভোটারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আশা করি আমার শ্রম বৃথা যাবে না।’ স্বপন আরো বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা পেলে এই পৌরসভায় নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।’ বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে স্বপন বলেন, ‘বর্তমান মেয়র হুমায়ুন কবির পৌরসভার নাগরিকদের জন্য উন্নয়নমূলক কোনো কাজই করেননি। ফলে এলাকার মানুষ তাঁকে ‘ওয়াক আউট’ করেছে। দলীয় কর্মী দিয়ে ভয়ভীতি, নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা প্রসঙ্গে স্বপন দাবি করেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায় দেখা না গেলেও আওয়ামী লীগসহ অন্য তিন মেয়র, নারী ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটের মাঠে সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। আওয়ামী লীগের মূল প্রার্থীর সঙ্গে বিদ্রোহী একজন এবং বিএনপির মূল প্রার্থীর সঙ্গে আরো একজন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা প্রতীকের নাজমুল আলম স্বপন এবং ধানের শীষের বর্তমান মেয়র হুমায়ুন কবির প্রধানের মধ্যে। তবে উচ্চ আদালত থেকে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব প্রাঞ্জলকেও এখন মাঠে দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি ‘পানির জগ’ প্রতীক নিয়ে ভোটারের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে অন্য দুই মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন মোবাইল ফোনসেট প্রতীকের ইকবাল আজিজ শাহীন এবং নারকেলগাছের গাজী শাহীন নামে একজন নারী। তবে এই দুইজনের প্রচার-প্রচারণা শুধু পোস্টারেই সীমাবদ্ধ।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী নাজমুল আলম স্বপন কিছু দিন আগে কচুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমান মেয়র হুমায়ুন কবির উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। দল তাঁকে মনোনয়ন দিলেও প্রচার-প্রচারণায় কেন্দ্র কিংবা জেলা কমিটির অন্য কেউ তাঁর পাশে নেই। ব্যতিক্রম আওয়ামী লীগে। উপজেলা পর‌্যায়ের সব সারির নেতাকর্মীই তাঁর সঙ্গে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুইজন স্বপন ও প্রধানের বাড়ি পৌরসভার কড়াইশ এলাকায়।

১৯৯৮ সালে কচুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। গোটা পৌরসভার সড়কগুলো ভেঙেচুরে একাকার। কিছু এলাকায় পাইপলাইনে পানি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে গৃহস্থালি গ্যাসের সংকট এই পৌরসভায়। কোয়া পোদ্দারবাড়ির বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক পুতুল রানী পোদ্দার জানান, সন্ধ্যার পর কিছু পাওয়া গেলেও ভোর থেকেই গ্যাসের চাপ থাকে না। ফলে সারা দিন রান্নাবান্না বন্ধ থাকে। কড়াইয়া এলাকার রাকিবুল হাসান বলেন, ‘নানা সমস্যায় জর্জরিত কচুয়া পৌরসভার নাগরিক দুর্ভোগ দূর করতে যে প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দেবেন তাঁকেই আমরা নির্বাচিত করব।’ 

কচুয়া পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আচরণবিধি সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এর পরও যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক আছে। অন্যদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল জানান, পৌরসভার কোথাও কারো গোলযোগ করার সুযোগ নেই। সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর আছে।

 

মন্তব্য