kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

চৌগাছায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ২০:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চৌগাছায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ

যশোরের চৌগাছায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া চতুর্থ ধাপের চৌগাছা উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮ টায় ভোট প্রদান শুরু হলে ভোটারদের উপস্থিতি কম লক্ষ করা যায়। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। এতে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, অত্র উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫’শ ৮১, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৮ হাজার ১’শত ৬৫ জন, মহিলা ভোট ৮৭ হাজার ৪’শ ১৬ জন।

নির্বাচন পরিদর্শনের জন্য সকাল ৮ টায় ইছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটারের উপস্থিতি কম। এই কেন্দ্রে ৪টি বুথে ৯টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় ৮৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নির্মল কান্তি কর্মকার জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটারদের উপস্থিতি একটু কম। তবে বেলার সাথে সাথে তা বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সকাল ৯.২০ মিনিটে পাতিবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গেলে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। শুধুমাত্র কয়েকজন নারী ভোটারকে দেখা গেছে। এই কেন্দ্রে ভোটার ৩৫’শ। দেড় ঘণ্টার মধ্যে ভোট পড়ে ১৮০টি। 

একইভাবে পেটভরা, টেংগুরপুর, দেবীপুর কেন্দ্র, নারায়ণপুর কেন্দ্র, কংশারীপুর, জগন্নাথপুর, সিংহঝুলীসহ অধিকাংশ কেন্দ্রই দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলেও ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল। তবে বেশ কিছু কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।


নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্ত থাকার কারণে প্রার্থীরা বিএনপি-জামায়াতের ভোটারদের উপর ভর করতে থাকে। নির্বাচন উপলক্ষে কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক আলোচনা চলছিল বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরা এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন। প্রার্থীদের সাথে ওই ঘরনার নেতাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের দিন সকালেই বিএনপি-জামায়াত সমর্থক ভোটাররা ভোটের মাঠে ওঠার চেষ্টা করলে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন বাঁধা প্রদান করেন। এই বাঁধা প্রদান সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চললেও শেষমেষ বিএনপি-জামায়াত সমর্থক ভোটাররা ভোটের মাঠে গিয়ে ভোট প্রদান করে। আর এতেই নির্বাচনী হিসেব নিকেশের অংক পাল্টে যেতে শুরু করে।

হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর কেন্দ্রে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের হামলায় আব্দুল আলিম নামের এক ব্যক্তি মারাত্মক আহত হয়। স্থানীয়রা আহতকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে চাঁদপুর হাজী মত্তুর্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধস্তাদস্তিতে এসএম শফি উদ্দিনের ছেলে তারিক মাহমুদ আহত হয়। একই সময় উপজেলার আন্দুলিয়া কেন্দ্রে আনারস প্রতীকের কর্মীদেও হামলায় নৌকার কর্মী ইব্রাহীম হোসেন মারাত্মক আহত হয় বলে জানা গেছে। তিনি আন্দুলিয়া গ্রামের আলি বিশ্বাসের ছেলে।

দুপুর ২ টার দিকে সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের কুলিয়া কেন্দ্রে যাওয়ার পথে আনারস কর্মীদের হামলায় নৌকা প্রতীকের কর্মী আব্দুস সালাম মারাত্মক আহত হয়। তিনি রাজাপুর গ্রামের মৃত আইজেল হোসেনের ছেলে। এদিকে ভোট গ্রহণের সাথে সাথে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ভোটারদের মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। চাঁদপুর হাজী মর্ত্তুজ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অদুরে এই ঘটনা ঘটে।

ভোটারদের মারপিটের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ সময় আনারস প্রতীকের দুই কর্মীকে আটক করে। আটককৃতরা হলো চাঁদপুর গ্রামের মোস্তফা একই গ্রামের পিয়াস। ভোট কেন্দ্রের পাশে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে বেলা ২ টার দিকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা আটক করেন এক ইউপি সদস্যকে।আটক ফারুক হোসেন উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য বলে জানা গেছে। 

উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৮১ কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্র গেছে ভোটারের উপস্থিতি ছিল অনেকটা কম। 

নির্বাচন বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোটখাট বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শন্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মন্তব্য