kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

মির্জাপুরে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে আটক ২

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ১৯:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মির্জাপুরে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে আটক ২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একটি ভোট কেন্দ্রে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজ হায়দার খানের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগ প্যানেলের প্রার্থীদের প্রতীকে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক দুইজনকে আটক করেছেন।

এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের বন্দ্য কাওয়ালজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে। আটককৃতরা হলেন উয়ার্শী ইউনিয়নের আগনিলজা গ্রামের মরহুম ডা. ফজর আলীর ছেলে সুরুজ আল মামুন ও কররা কাওয়ালজানী গ্রামের বরকত হোসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থান্দার কামরুজ্জামান তাদের আটক করেন।

জানা গেছে, রবিবার সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরুর ১০/১৫ মিনিট পর থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সুরুজ, বরকত, সুমন, রহমান, মফিজ ও ওমরের নেতৃত্বে ১০/১২ জন যুবক বন্দ্য কাওয়াজানী ভোট কেন্দ্রের তিন নম্বর কক্ষে অপরিচিত ব্যক্তিদের দিয়ে ভোট দিতে থাকেন। ওই কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ হায়দার খানের পোলিং এজেন্টরা তাদের চিনতে না পেরে প্রতিবাদ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা ফিরোজের পোলিং এজেন্ট লিটন ও আরিফকে ভোট কক্ষ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন। পরে তারা জোরপূর্বক ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগ প্যানেলের প্রার্থীর প্রতীকে সিল মারতে থাকেন। এ নিয়ে ওই ভোট কেন্দ্রে হৈচৈ শুরু হয়। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্য ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক থান্দার কামরুজ্জামন ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরুজ আল মামুন ও বরকত হোসেনকে আটক করেন।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট লিটন ও আরিফ অভিযোগ করে বলেন, নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা তাদেও সামনে অপরিচিত ব্যক্তিদের দিয়ে জাল ভোট দিয়েছেন। প্রতিবাদ করলে তাদেরও বের করে দিয়ে জোরপূর্বক আওয়ামী লীগ প্যানেলের প্রার্থীদের প্রতীকে সিল মেরেছেন। বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেট আসার আগেই তারা এক থেকে দেড় শতাধিক ব্যালটে সিল মেরে বক্সে ঢুকিয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

ওই কেন্দ্রের তিন নম্বর কক্ষের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নন্দ দুলাল গোস্বামী জানান, কে প্রকৃত ভোটার তা নিশ্চিত করবে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট। জাল ও জোরপূর্বক ভোট প্রদানের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা মো. জিয়াউল হক জানান, জালভোট হয়েছে কি না তা জানা নেই। তবে বুথে অনধিকার প্রবেশের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক দুইজনকে আটক করেছেন বলে তিনি জানান। 

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার থান্দার কামরুজ্জামান দুইজনকে আটকের বিষয়টি পরে জানানো হবে বলে জানান।

মন্তব্য