kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

নবীনগরে উপজেলা নির্বাচন

'দুই এমপির ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ মনোভাবের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম'

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ১৭:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'দুই এমপির ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ মনোভাবের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম'

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৯-৫২ মিনিটে গিয়ে কেন্দ্রটিতে মাত্র ৪৬টি ভোট কাস্ট হতে দেখা গেছে। অথচ কেন্দ্রটিতে ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৭৭৩টি। সে সময়ে এলাকার হিন্দু অধ্যুষিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যায়টিতে দুই একজন নারী ভোটার ছাড়া কোনো পুরুষ ভোটারকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একইভাবে ১০-২৫ মিনিটে উপজেলার কুলাসিন, ১০-৪৫ মিনিটে থোল্লাকান্দি, ১১-১৫ মিনিটে বড়িকান্দি, ১১-৩০ মিনিটে নূরজাহানপুর, ১১-৪০ মিনিটে মুক্তারামপুর, ১১-৫৫ মিনিটে সলিমগঞ্জ, ১২-৪৫মিনিটে রসুল্লাবাদ কেন্দ্রসহ উপজেলার ১৫টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটের চিত্র প্রায় একইরকম পাওয়া যায়। এরমধ্যে সলিমগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ২ হাজার ১০৭ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ১৫৩ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে জানান একজন কর্তব্যরত কর্মকর্তা।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্তব্যরত একাধিক কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ভোটের এ গতিধারা বিকেল ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে এ নির্বাচনে কোনোভাবেই হয়তো ১৫% এর উপর ভোট কাস্ট হবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় উপজেলা নির্বাচন চলাকালে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে নির্বাচনের এমন একটি  চিত্র পাওয়া যায়। নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি এতটা কমের কারণ বলতে গিয়ে শ্যামগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনের প্রতি ভোটারদের আস্থা এখন এমনিতেই কমে গেছে। এরপর স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান দুই এমপির অনুসারীদের মধ্যে এ নির্বাচনের আগে ভোটাররা যেরকম ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ হাবভাব  দেখেছে তাতে ভোটের দিন সত্যি সত্যিই যুদ্ধটা বেঁধে যায় কিনা, সেই আশঙ্কা থেকেও ভোটার উপস্থিতি এতটা কম হয়ে থাকতে পারে।’

তবে ভোট চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ২২ জন ম্যাজিস্ট্রটসহ ৭ প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন র‌্যাব, সাড়ে পাঁচশতাধিক পুলিশকে সর্বক্ষণ ফাঁকা মাঠে বেশ তৎপর থাকতে দেখা গেছে। তবে দুপুর আড়াইটায় নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনিরের সমর্থক বর্তমান এমপি এবাদুল করিম বুলবুল মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ২/১টি স্থানে সামান্য গন্ডগোল ছাড়া এখন পর্যন্ত নির্বাচন বেশ ভালো হয়েছে। সুতরাং এমন নির্বাচনে যিনিই পাস করে আসবেন আমি তাকেই স্বাগত জানাবো।

তবে একই সময়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফয়জুর রহমান বাদল মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, শুনেছি উপজেলার পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে দোয়াত কলমের প্রার্থী জোরপূর্বক নৌকার এজেন্টদের বের করে ভোট কাটার চেষ্টা করেছেন। সুতরাং ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবো না।

এদিকে নবীনগরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিকেল সোয়া তিনটায় বলেন, ভোটারের উপন্থিতি কম থাকলেও নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের নেওয়া সব ধরণের ব্যবস্থাই আমরা পুরোপুরি কার্যকর করতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশে আমরা খুবই সন্তোষ্ট।

মন্তব্য