kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

মঠবাড়িয়ায় গভীর রাতে হামলা, নৌকার প্রার্থীসহ আহত ২০

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ১৩:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মঠবাড়িয়ায় গভীর রাতে হামলা, নৌকার প্রার্থীসহ আহত ২০

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় আওয়ামী লীগের নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী হোসাইন মোশারেফ সাকু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনোসহ অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। 

শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গুলিসাখালী বাজারে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হোসাইন মোশারেফ সাকু, হলতা গুলিসাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনোসহ পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিবদমান দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্যঃসমাপ্ত সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে পূর্ব বিরোধ চলছিল। এ রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে চলমান উপজেলা নির্বাচনে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গুলিসাখালী বাজারে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে শহরে ফেরার পথে প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের (আনারস প্রতীক) সমর্থকেরা অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হোসাইন মোশারেফ সাকু ও আওয়ামী লীগ নেতা হলতা গুলিসাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনো এবং যুব মহিলা লীগের নেত্রী রোজিসহ ২০ জন আহত হয়। পরে আহতদের স্থানীয় জনতা পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহতদের মধ্যে নৌকার প্রার্থী মোশারেফ সাকুসহ পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ হামলার ঘটনা পরিকল্পিত দাবি করে নৌকা সমর্থক আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান ও তার ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) রিয়াজ উদ্দিনের সমর্থকরা এ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। 

তবে এ ঘটনায় স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ তার সমর্থকদের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলমের নেতৃত্বে গুলিসাখালী বাজারে তার (আনারস প্রতীক) নির্বাচনী কার্যালয় ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং তার সমর্থক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনকে মারধর করে। এতে স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে নৌকা প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর পাল্টা হামলা চালায় বলে তিনি দাবি করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশিষ কুমার দেবনাথ জানান, আহত প্রায় ২০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলমের মাথায় ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। প্রার্থী হোসাইন মোশারেফের শরীরে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উপজেলার সব স্থানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ এ হামলার ঘটনায় আজ রবিবার বিবদমান দুই পক্ষ পৃথক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে। আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে দুপুর ১২টায় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে। 

প্রসঙ্গত, মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ এর সঙ্গে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আশরাফুর রহমান দলীয় মনোনয়ন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। পরে আশরাফুর রহমানের বড় ভাই রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। আগামী ৩১ মার্চ এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা