kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

উত্তাপহীন নির্বাচনে ভোটারের অনীহা

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ১১:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উত্তাপহীন নির্বাচনে ভোটারের অনীহা

আসন্ন পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ডামুড্যা উপজেলায় নেই কোনো উত্তাপ। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা যুবলীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ গোলন্দাজ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা খানম লাভলী ছাড়া ভোটের মাঠে আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এই দুজন ছাড়া আর কারো পোস্টারও দেখা যায় না। তবে ভোটে কোনো প্রকার বাধা দেওয়ারও অভিযোগ দাখিল হয়নি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনও আগ্রহ-উদ্দীপনা যেন কম। বিভিন্ন কারণে প্রার্থীদের প্রচারণাও হয়ে পড়েছে উত্তাপহীন।

অন্যদিকে ভোটের মাঠে বা ভোট দেওয়ার অনেকটা অনীহা দেখা যাচ্ছে ভোটারদের মাঝে। তারা বলছে এখন আর ভোট প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। এর থেকে বড় কথা নিজেরা নিজেরাই প্রার্থী ঠিক করে দেয়। যেমনটা করে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ করেছেন প্যানেল।

ভোটার আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা বলেন, ভোট নিয়ে কোনো কথা নেই। ইচ্ছা হলে যাব আর না হলে যাব না। তবে আমার নামে পাশে ভোটের টিক হয়ে যাবে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আগ্রহ-উদ্দীপনা বাড়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে সেটা হচ্ছে না। নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণায় কোনো উত্তাপ নেই। হাট-বাজারে চায়ের দোকানে কিছুটা আলোচনা হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতির জন্য সবচেয় বড় কারণ দেখাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন।

ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বলেন, ভোট একটি মৌলিক অধিকার। এটা প্রয়োগ করব। যদি সুযোগ হয়। আগে ভোটের ১০ দিন আগে থেকেই মানুষ চলে আসত ঢাকা থেকে। আর এবার দেশে মানুষ নেই বললেই চলে।

চা দোকানদার ইসমাইল মাঝি বলেন, আগে ভোটের ১ মাস আগে থেকেই চায়ের বড় কয়েকটা কেটলি রাখতাম। দোকানে মানুষ অনেক হতো। সারাদিন আড্ডা ও নির্বাচনী কথা হতো। তবে এবার আর তা নেই।

নাম না প্রকাশে এক নৌকার মাঝি বলেন, নদীর ওপারে তিনটি ওয়ার্ড রয়েছে পাশাপাশি ১টি কেন্দ্র রয়েছে। ভোটার রয়েছে অনেক। আগে দেখতাম দল বেঁধে কয়েকজনের পর কয়েকজন লোক আসত ভোট চাওয়ার জন্য। আর এবার নেই এগুলো কোনো কিছুই। 

ডামুড্যা পৌর বাসিন্দা আহমেদ নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ভোটের প্রয়োগ থেকে বড় কথা নির্বাচনে টিকে থাকা। আমরা নির্বাচনের আগে অনেকের নাম শুনছি। কিন্তু এখন শুধু টিকে আছে দু-চারজন প্রার্থী। এ ছাড়া মাঠে কাউকে দেখা যায় না। আমরা চাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। 

কনেশ্বর ইউনিয়ন বাসিন্দা তারেকুল ইসলাম বেপারী বলেন, কিছুদিন আগে ইসি নিজে বলেছে যে রাতের ভোট বন্ধ করতে হবে। আমরাও এটা নিয়ে চিন্তিত।

ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর হোসেন মাঝি বিজয়ী ঘোষিত হন। 

তবে ভোটারদের আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিস ভিন্ন জায়গায় মাইকিং করছে। পাশাপাশি বহিরাগতদের উপজেলা ত্যাগ করার নির্দেশ দিচ্ছে। 

আগামী ২৪ মার্চের তৃতীয় ধাপে ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ডামুড্যা উপজেলার ৮৬ হাজার ২০৬ ভোটার তাদের পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে ৩৮টি কেন্দ্র নিজেদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা