kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

আহত ৩, ৩ হামলাকারী আটক

চৌগাছায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ১৭:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চৌগাছায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা

যশোরের চৌগাছায় উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমানের আনারস প্রতীকের সমর্থকদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালিয়েছে। এ সময় উত্তেজিত জনতা হামলাকারীদের ধাওয়া করলে একটি ওষুধের দোকানে আশ্রয় নেয়। এ সময় জনতা ওষুধের দোকান বন্ধ করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই সন্ত্রাসীদের আটক করে। হামলায় তিনজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের আফরা মোড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমানের আনারস প্রতীকের কর্মী-সমার্থকরা আফরা মোড়ে উজ্জলের চায়ের দোকানে বসে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এ সময় আফরা গ্রামের রফিউদ্দীনের ছেলে নৌকা প্রতীকের সমর্থক ও মেহেদি মাসুদ চৌধুরীর অনুসারী সাইদুর রহমান পান্নু, মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মোরশেদুল ইসলাম ও মোতালেব হোসেনের ছেলে রেজাউল ইসলামসহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী ওই চায়ের দোকানে ঢুকে হুমকি দেয়। একই সাথে আনারস প্রতীকে ভোট না করার জন্য শাশায়। এ সময় তাদের হাতে অস্ত্র ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। হুমকি দেবার পরও আনারস প্রতীকের লোকজন চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় রমজান বিশ্বাসের ছেলে কামাল হোসেন দোকানের বাইরে বের হলে তাকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা করে। কিন্তু কামাল হোসেন অল্পের জন্য রক্ষা পান। 

এ অবস্থায় আনারস প্রতীকের সমর্থকরা চিৎকার দিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় তারা আরো দুটি বোমা বোমা হামলা চালায়। হামলায় আহত হয় আনারস প্রতীকের সমর্থক আফরা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মাসুম (৩২), মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের ছেলে মহিনুর আলী (৪৫) নেপাল গাজীর ছেলে শহিদুল ইসলাম। উত্তেজিত জনতার ধাওয়ায় হামলাকারীরা ঘটনাস্থলের পাশেই একটি ওষুধের দোকানে ঢুকে পড়ে। এ অবস্থায় দোকানটি ঘিরে ফেলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। 

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ খবরে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলমও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বোমা হামলার ঘটনায় উভয় গ্রুপের মধ্যে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানীসহ (ক সার্কেল) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। 

স্থানীয়রা জানান, রাত ১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। রাতেই বোমা হামলার অভিযোগে উল্লেখিত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ওষুধ ঘরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু এই ঘরে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। হামলাকারীরা পালানোর সময় অস্ত্র নিয়েই ওষুধের ঘরে ঢুকে পড়ে। 

স্থানীয়রা আরো বলেন, ওষুধের ঘরের পেছনের জানালা খোলা ছিল। একই সাথে এই ঘরের পেছনে ধানক্ষেত রয়েছে। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকেই অস্ত্র দূরে ফেলে দিতে পারে। এই ধানক্ষেত তেমন তল্লাশি করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে স্থানীয় ও একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বোমা হামলায় আহতরা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমানের সমর্থক। অপর দিকে হামলাকারীরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তানিছুর রহমানের সমর্থক। সংশ্লিষ্ট ফুলসারা ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে নৌকার নির্বাচনী কার্যক্রম বিদ্যমান। অপরদিকে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে আনারস প্রতীকের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড অব্যহত রয়েছে। 

এ বিষয়ে মেহেদি মাসুদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক। বোমা ফাটানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি। সেখানে বাজি ফুটেছে। 

এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান জানান, পরিকল্পিতভাবে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। যারা হামলাকারী তারা এলাকায় সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত। বোমা হামলায় তিনজন আনারস প্রতীকের সমর্থক আহত হয়েছে। তারা সকলে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উত্তম কুমার বিশ্বাস জানান, পরিস্থিতি এখন পুলিশের অনুকূলে। এলাকা শান্ত আছে। আমরা তল্লাশি করেছি কিন্তু কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বোমা হামলাকারী তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা