kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

বিয়ানীবাজারে কার দখলে চেয়ারম্যানের চেয়ার?

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ১৯:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিয়ানীবাজারে কার দখলে চেয়ারম্যানের চেয়ার?

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সব শঙ্কা কাটিয়ে উৎসবের ভোট কাল সোমবার। ভোটগ্রহণের সব মালামাল রবিবার সন্ধ্যার মধ্যেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে  পৌঁছে গেছে। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ইতোমধ্যে কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে টহল দিচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

চারদিকে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এই মুহুর্তে আলোচিত হচ্ছে কে হচ্ছেন প্রবাসী বহুল এ উপজেলার ভবিষ্যত কান্ডারী। মুজম্মিল আলী এবং আব্দুল খালিক মায়নের পর কে হচ্ছেন তাদের উত্তরসূরি। বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান স্বপদে থাকছেন নাকি অন্য কারো দখলে যাচ্ছে চেয়ারম্যানের ‘চেয়ার’। শুধু অপেক্ষা ভোট গণনার। সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান (নৌকা), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জাকির হোসেন (আনারস), উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কাশেম পল্লব (হেলিকপ্টার), বিয়ানীবজাার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্য নিবার্হী সদস্য ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শামীম আহমদ (মোটরসাইকেল), উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল হাসনাত (দোয়াত কলম) ও সহ-সভাপতি মো. আলকাছ আলী (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এ সকল প্রার্থীর মধ্যে ভোটারদের জরিপে এখনো পর্যন্ত কে এগিয়ে আছেন তা বলা মুশকিল। অঞ্চল এবং স্থানভেদে একেক প্রার্থী একেক জায়গায় শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছেন। রাজনৈতিক অবস্থান থেকেও প্রার্থীদের নাম আলোচিত হচ্ছে। তবে সাধারণ ভোটারদেও দাবি এখানে লড়াই হবে ত্রিমুখী।

জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনে মুজম্মিল আলী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দ্বিতীয়বারও একই ব্যক্তি নির্বাচিত হন। বিগত সময়ে দু’বারের উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী মুজম্মিল আলীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রহিম বছন হাজী ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক। ’৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে বহুল আলোচিত ফখর উদ্দিনের সরকার পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠিত করলে তখনকার সময়ে নির্বাচনে আব্দুল খালিক মায়ন মুজম্মিল আলীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এ নির্বাচনে তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দাপুটে মুজম্মিল আলী ও সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান। কিন্তু বছর খানেক না যেতেই অসুস্থতা জনিত কারণে আব্দুল খালিক মায়ন ইন্তেকাল করেন। এরপর অনেক নাটকীয়তা শেষে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুমা চক্রবর্তী অস্থায়ী চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি প্রায় দীর্ঘ ৪ বছর অস্থায়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের দ্বায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় পার্টির নেতা মুজম্মিল আলী এলাকায় একটি ভোট ব্যাংক নিয়ে বরাবরই নির্বাচন করেন। তাছাড়া এলাকায় একজন সজ্জন, সচেতন ব্যক্তি হিসেবে তাঁর একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল। প্রয়াত আব্দুল খালিক মায়নও একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা এবং আওয়ামী রাজনীতিক হিসেবে সর্বত্র গ্রহণযোগ্য ছিলেন। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দ্বায়িত্ব নেওয়া রুমা চক্রবর্তী নিজের দপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন আতাউর রহমান খান। আসন্ন নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করবেন নাকি ‘চেয়ার’ অন্য কারো দখলে যাবে-এ নিয়ে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত চলবে চুলছেরা বিশ্লেষণ।

এদিকে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে আচমকা সরে দাঁড়িয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি শিব্বির আহমদ। তিনি জেলা যুব জমিয়তের যুগ্ম সম্পাদক। তার দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের শরিক। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বিষয় না বললেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ফুটে ওঠছে বলে মনে সচেতন মহল মনে করছেন। 

উল্লেখ্য, প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৭ শত ৮৮ জন। এ উপজেলায় কাল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী মিলে মোট ১৬ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা