kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে

মির্জাপুরে প্রতীক পেয়ে প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ১৯:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মির্জাপুরে প্রতীক পেয়ে প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা

আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের ভোট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দ পান। শুক্রবার থেকে প্রার্থীরা নিজেদের কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে উপজেলার সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চেয়ারম্যান পদে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মীর এনায়েত হোসেন মন্টু (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী টাঙ্গাইল জেলা ও মির্জাপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফিরোজ হায়দার খান (মোটরসাইকেল), রুপা রায় চৌধুরী (আনারস) ও মো. লাল মিয়া (আম) প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। 

ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে মির্জাপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম (টিউবওয়েল) মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. সেলিম সিকদার (উড়োজাহাজ) ও মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজাহারুল ইসলাম (তালা) এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার শিফা (কলস) ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সালমা সালাম উর্মি (হাঁস) ও উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি খালেদা সিদ্দিকী স্বপ্না (ফুটবল) প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। 

প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীর প্রত্যেকেই ভোটের মাঠে বিভিন্ন কৌশলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কাশেম শুক্রবার নেতাকর্মীদের নিয়ে মির্জাপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে বৈঠক করেন এবং পরে পৌর সদরে একটি মিছিল বের করেন।

এদিকে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও বিএনপি সমর্থিত দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন চেয়ারম্যান পদে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ফিরোজ হায়দার খান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি খালেদা আক্তার স্বপ্না। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত কোন প্রার্থী নেই। 

সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রদান করতে হবে। তাছাড়া বিএনপি সমর্থিত ভোটাররা কোন প্রার্থীর প্রতীককে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন তা এখনো বলা যাচ্ছে না। 

অপরদিকে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি নেত্রী খালেদা সিদ্দিকী স্বপ্না একা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই নেত্রীর মধ্যে ভ্যোটের লড়াই জমতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত করতে বিএনপি সমর্থিতদের ভোট এক বাক্সে পড়লেও আওয়ামী লীগের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হচ্ছে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। 

অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ গত ৭ মার্চ বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. একাব্বর হোসেনের বাসভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা আয়োজন করে। বর্ধিত সভায় মীর এনায়েত হোসেন মন্টুকে চেয়ারম্যান ও শামীমা আক্তার শিফা এবং আজহারুল ইসলামকে দুই ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী সমর্থন করে প্যানেল ঘোষণা করেন এবং অপর দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সেলিম সিকদার ও সালমা সালাম উর্মিকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। এ নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সেলিম সিকদার ও সালমা সালাম উর্মি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত কেউ ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। বিএনপি সমর্থিতদের ভোট প্রতিদ্বন্দ্বি ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের যে বেশি টানতে পারবেন তার জয়ী হবার সম্ভাবনা বেশি বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শামসুজ্জামান জানান, অবাদ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা