kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

অষ্টম শ্রেণি

বিজ্ঞান

আবু জাফর সৈকত, সহকারী শিক্ষক, হাজী সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিজ্ঞান

সৃজনশীল প্রশ্ন

তৃতীয় অধ্যায়

ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন

উদ্দীপক : আলিফ এক গ্লাস পরিষ্কার পানিতে কিছু পরিমাণ তুঁতের কেলাস ফেলে দিল। কিছুক্ষণ পর সে লক্ষ করল গ্লাসের পানির রং ঘন নীল বর্ণ ধারণ করেছে।

ক) ব্যাপন কাকে বলে?

খ) ইমবাইবিশন বলতে কী বোঝায়?

গ) গ্লাসের পানিতে রং পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ) গ্লাসের পানিতে সংঘটিত প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব সম্পর্কে তোমার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দাও।

 

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক) যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো দ্রব্যের অণু বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন প্রক্রিয়া বলে।

খ) কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে।

আমরা জানি, কলয়েডধর্মী পদার্থই পানিগ্রাহী। উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন ধরনের কলয়েডধর্মী পদার্থ বিদ্যমান। যথা—স্টার্চ সেলুলোজ, জিলেটিন ইত্যাদি; এসব পদার্থ তাদের কলয়েডধর্মী গুণের জন্যই পানি শোষণ করতে সক্ষম। এ প্রক্রিয়াটির নাম ইমবাইবিশন।

গ) গ্লাসের পানির রং ব্যাপন প্রক্রিয়ার কারণে পরিবর্তিত হয়েছে। তুঁতের কেলাসের অণুগুলো অধিক ঘনত্ব সম্পন্ন হওয়ায় এগুলো কম ঘনত্বসম্পন্ন পানির অণুতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে গ্লাসের পানির রং নীল বর্ণ ধারণ করে। ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সাধারণত অণুগুলো বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তুঁতে কঠিন পদার্থ হওয়ায় এর ঘনত্ব তরল পদার্থ পানির চেয়ে বেশি। পানিতে তুঁতের কেলাস ছেড়ে দিলে তুঁতের নীল রং পানির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে একসময় সব দ্রবণের ঘনত্ব সমান হয়ে যায় এবং এই ব্যাপন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

ঘ) গ্লাসের পানিতে সংঘটিত প্রক্রিয়াটির নাম ব্যাপন। নিচে এর গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো—

জীবের সব রকম শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। যেমন—উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এই অত্যাবশ্যক কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়। জীবকোষে শ্বসনের সময় গ্লুকোজের জারণের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ব্যাপন ক্রিয়ার দ্বারা কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়ে যায়। উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়। প্রাণীদের শ্বসনের সময় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদান ও রক্ত থেকে খাদ্য, অক্সিজেন প্রভৃতি লসিকায় বহন, লসিকা থেকে কোষে পরিবহন করা ব্যাপন দ্বারা সম্পন্ন হয়।

 

চতুর্থ অধ্যায়

উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি

উদ্দীপক : সানজু ব্যাবহারিক ক্লাসে একটি আদর্শ ফুল নিয়ে গেল। শিক্ষিকা ফুলটি ব্যবচ্ছেদ করে এর বিভিন্ন অংশ দেখালেন। পরাগরেণু দেখিয়ে শিক্ষক বললেন, এর মাধ্যমে পরাগায়ণ সংঘটিত হয়। তিনি আরো বললেন, পরাগায়ণের জন্য ফুলের গঠনে যে পরিবর্তন হয় তাকে অভিযোজন বলে।

ক) প্রজনন কাকে বলে?

খ) যৌন ও অযৌন প্রজননের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

গ) শিক্ষিকার উল্লিখিত প্রথম কথাটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উদ্দীপকের আলোকে বিভিন্ন প্রকার পরাগী ফুলের অভিযোজনের প্রকারভেদ আলোচনা করো।

 

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক) যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে, তাকে প্রজনন বলে।

খ) যৌন ও অযৌন প্রজননের মধ্যে পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলো—

i. যৌন প্রজনন বীজের মাধ্যমে ঘটে। পক্ষান্তরে অযৌন প্রজনন বীজ ব্যতীত অন্য যেকোনো অঙ্গ দ্বারা ঘটে।

ii. যৌন প্রজননের ফলে উদ্ভিদ আকারে বড় ও দীর্ঘজীবী হয়। অন্যদিকে অযৌন প্রজননের ফলে উদ্ভিদ আকারে ছোট ও ক্ষণস্থায়ী হয়।

গ) শিক্ষিকার প্রথম কথাটি ছিল যে পরাগরেণুর মাধ্যমে পরাগায়ণ সম্পন্ন হয়। নিম্নে এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো—

পরাগরেণুর মধ্যে থাকে পুং জননকোষ। এ পুং জননকোষ সরাসরি জনন কাজে অংশ নেয়। ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার নামই পরাগায়ণ। পরাগরেণু বিভিন্ন মাধ্যম দ্বারা স্থানান্তরিত হয়। এ ক্ষেত্রে বায়ু, পানি, কীটপতঙ্গ, পাখি প্রভৃতি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শুধু মধু খেতে অথবা সুন্দর ফুলের আকর্ষণে কীটপতঙ্গ বা পাখি ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। এ সময় পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। এই বাহকটি যখন একই প্রজাতির অন্য ফুলে গিয়ে বসে, তখন পরাগরেণু পরবর্তী ফুলের গর্ভমুণ্ডে লেগে যায়। এভাবে বাহকের অজান্তেই পরাগায়ণ সম্পন্ন হয়। তাই বলা যায়, পরাগরেণুর মাধ্যমেই পরাগায়ণ সম্পন্ন হয়।

ঘ) পরাগায়ণের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একে অভিযোজন বলে। মাধ্যমের ভিন্নতার জন্য অভিযোজনও আলাদা হয়। নিচে বিভিন্ন ধরনের অভিযোজনের প্রকারভেদ আলোচনা করা হলো—

পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন : ফুল বড়, রঙিন মধুগ্রন্থিযুক্ত পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো ও সুগন্ধযুক্ত। যেমন—জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন : ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র। এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের মতো যেমন—ধান।

পানিপরাগী অভিযোজন : এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা ও অসংখ্য। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। স্ত্রী ফুলের বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃন্ত ছোট। পরিণত পুং ফুল বৃন্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন—পাতা শ্যাওলা।

প্রাণীপরাগী ফুলের অভিযোজন : এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়। তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জুরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে, আবার না-ও থাকতে পারে। যেমন—কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা