kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

অষ্টম শ্রেণি

বিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



বিজ্ঞান

ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

অধ্যায়ভিত্তিক পাঠ প্রস্তুতি

দ্বিতীয় অধ্যায়

জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

১। কোষ কী?

উত্তর : যে প্রক্রিয়ায় জীবকোষের বিভক্তির মাধ্যমে ১ থেকে ২ কোষে পরিণত হওয়াকে কোষ বলে।

২। মাইটোসিস কী?

উত্তর : যে প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির, সমগুণসম্পন্ন ও সমসংখ্যক ক্রমোজমবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে মাইটোসিস বলে।

৩। মিয়োসিস কী?

উত্তর : যে কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পর পর দুবার বিভাজিত হলে ক্রমোজমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার। ফলে অপত্য কোষে ক্রমোজমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়, তাকে মিয়োসিস বলে।

৪। ক্যারিওকাইনেসিস কী?

উত্তর : নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে।

৫। সাইটোকাইনেসিস কী?

উত্তর : সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।

৬। ইন্টারফেজ কী?

উত্তর : ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোকাইনেসিস শুরু হওয়ার আগে কোষটির নিউক্লিয়াসকে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়। কোষটির এ অবস্থানকে ইন্টারফেজ বলে।

৭। হ্যাপ্লয়েড কী?

উত্তর : এক প্রস্থ ক্রমোজমকে হ্যাপ্লয়েড (n) বলে।

৮। ডিপ্লয়েড কী?

উত্তর : দুই প্রস্থ ক্রমোজমকে ডিপ্লয়েড (2n) বলে।

৯। বংশগতি কী?

উত্তর : মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য যে প্রক্রিয়ায় সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয় তাকে বংশগতি বলে।

১০। ক্রমোজম কী?

উত্তর : নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নির্দিষ্টসংখ্যক সুতার মতো যে অংশগুলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে তাদের ক্রমোজম বলে।

১১। ক্রোমাটিড কী?

উত্তর : প্রতিটি ক্রমোজম লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হওয়ার পর যে দুটি সমান আকৃতির সুতার মতো অংশ গঠন করে তাদের প্রত্যেকটিকে ক্রোমাটিড বলে।

১২। সেন্ট্রোমিয়ার কী?

উত্তর : ক্রোমাটিড দুটি যে নির্দিষ্ট স্থানে পরস্পর যুক্ত থাকে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।

১৩। DNA-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর : ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড।

১৪। RAN-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর : রাইবো নিউক্লিক এসিড।

১৫। জিন কী?

উত্তর : জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একককে জিন বলে।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। অ্যামাইটোসিসকে প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর : অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের  নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। এ জন্য অ্যামাইটোসিসকে প্রত্যক্ষ কোষবিভাজন বলা হয়।

২। মাইটোসিসকে ইকুয়েশনাল ডিভিশন বা সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর : মাইটোসিস বিভাজনে প্রতিটি ক্রমোজম লম্বালম্বিভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়। ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রমোজম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রমোজম সংখ্যার সমান থাকে। এ কারণে মাইটোসিসকে ইকুয়েশনাল ডিভিশন বা সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়।

৩। মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর : মিয়োসিস  কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পর পর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রমোজমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার। ফলে অপত্য কোষে ক্রমোজমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে ক্রমোজমের সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।

৪। মিয়োসিস প্রয়োজন কেন?

উত্তর : প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষার জন্য মিয়োসিস বিভাজন প্রয়োজন। মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় জননকোষ সৃষ্টি হয় এবং কোষে ক্রমোজমের সংখ্যা ধ্রুব থাকে। এ ছাড়া জীবজগতে বৈচিত্র্য সৃষ্টির জন্য মিয়োসিস প্রয়োজন। ডিপ্লয়েড জীবে মিয়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গ্যামেট সৃষ্টি হয়। আর গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি ঘটে।

৫। বহুকোষী জীবের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় কেন?

উত্তর : বহুকোষী জীবের ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে একই আকৃতি ও গুণসম্পন্ন অপত্য কোষ সৃষ্টি করে থাকে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কারণেই বহুকোষী জীব দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়।

৬। মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয় কেন?

উত্তর : মেন্ডেল ১৮২২ সালে অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম যিনি বংশগতির ধারা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেন, তাঁর নাম গ্রেগর জোহান মেন্ডেল। বর্তমানে বংশগতি সম্পর্কে আধুনিক যে তত্ত্ব প্রচলিত আছে তা মেন্ডেলের আবিষ্কার তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয়।

৭। জিন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একককে জিন বলে। উঘঅ হলো ক্রমোজমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। ক্রমোজম জিনকে এক বংশ থেকে পরবর্তী বংশে বহন করার জন্য বাহক হিসেবে কাজ করে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ন রাখে।

৮। ক্রমোজমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেন?

উত্তর : বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রমোজম। ক্রমোজম বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য কোষ বিভাজনের সময় জিনকে সরাসরি মা-বাবা থেকে বহন করে পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। এ কারণে ক্রমোজমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।

 

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

১।   কোষ বিভাজন কত প্রকার?

     ক) ২ খ) ৩

     গ) ৪ ঘ) ৫

২।   প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন ঘটে কোথায়?

     ক) ইস্ট     খ) কাণ্ড

     গ) ভ্রূণমূলে   ঘ) জনন মাতৃকোষে

৩।   কোনটি বিভাজনে নিউক্লিয়াস ডাম্বেল আকার ধারণ করে?

     ক) ভ্রূণমূল    খ) ছত্রাক

     গ) মুকুল     ঘ) কাণ্ড

৪।   কোনটিতে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে?

     ক) ব্যাকটেরিয়া      খ) ছত্রাক

     গ) ইস্ট     ঘ) শামুক

৫।   স্তন্যপায়ী প্রাণীদের কোষ বিভাজন কোন প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে?

     ক) অ্যামাইটোসিস                          খ) মাইটোসিস 

     গ) মিয়োসিস      

     ঘ) সাইটোকাইনেসিস

৬।   মাইটোসিস কোষ বিভাজননে—

     i. নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজিত হয়

     ii. অপত্য কোষের ক্রমোজম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান হয়

     iii. ১টি মাতৃকোষ থেকে ৪টি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়।

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i       খ) ii                  গ) i ও ii     ঘ) i ও iii

৭।   মাইটোসিস কোষ বিভাজন—

     i. আমের মুকুলে দেখা যায়

     ii. উদ্ভিদের অযৌন জননের সময় ঘটে

     iii. প্রাণীর স্নায়ু টিস্যুর স্নায়ু কোষে ঘটে

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক) i ও ii    খ) i ও iii 

     গ) ii ও iii  ঘ) i, ii ও iii

৮।   মাইটোসিস বিভাজনে তিনটি মাতৃকোষ থেকে কয়টি অপত্য কোষ তৈরি হয়?

     ক) ৩            খ) ৫                 গ) ৬            ঘ) ১২

৯।   মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন ধাপটি দীর্ঘস্থায়ী?

     ক) প্রোফেজ        খ) মেটাফেজ  গ) অ্যানাফেজ           ঘ) টেলোফেজ

১০। প্রতিটি ক্রমোজম লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি ক্রোমাটিড গঠন করে কোন ধাপে?

     ক) টেলোফেজ            খ) মেটাফেজ        গ) প্রোফেজ            ঘ) অ্যানাফেজ

    

     উত্তর : ১. খ ২. ক ৩. খ ৪. ঘ ৫. খ ৬. খ ৭. ক ৮. গ ৯. ক ১০. গ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা