kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

অষ্টম শ্রেণি

বাংলা

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



বাংলা

সৃজনশীল প্রশ্ন

নারী

কাজী নজরুল ইসলাম

উদ্দীপক : আনোয়ারা নামটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। একজন নারী হয়েও তিনি জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ করেছেন। সম্প্রতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে সমাপ্ত করেছেন। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে তিনি অন্য পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে যথাযথ সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছেন। নারী বলে কোথাও তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয়নি।

ক) ‘নারী’ কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

উত্তর : ‘নারী’ কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

খ) কবি বর্তমান সময়কে ‘বেদনার যুগ’ বলেছেন কেন?

উত্তর : নারীকে পুরুষের সমান অধিকার ও মূল্যায়ন করার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে কবি বর্তমান সময়কে ‘বেদনার যুগ’ বলেছেন।

কাজী নজরুল ইসলামের ‘নারী’ কবিতায় বলা হয়েছে যে, বর্তমান যুগ সম-অধিকারের যুগ। এ যুগে নারী-পুরুষ সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে। পুরুষের অবদান যেমন সর্বক্ষেত্রে স্বীকৃতি পায়, তেমনি নারীর প্রতিটি কাজকেও মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের দুঃখ-বেদনাকেও পুরুষ সমভাবে অনুভব করবে, এটা এখন সময়ের দাবি এবং একই সঙ্গে কবির প্রত্যাশা। তাই বর্তমান যুগ সম্পর্কে উপর্যুক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে।

গ) আনোয়ারার কার্যক্রমে ‘নারী’ কবিতার যে দিকটি উদ্ভাসিত হয়েছে তার বর্ণনা দাও।

উত্তর : আনোয়ারার কার্যক্রমে ‘নারী’ কবিতার যে দিকটি উদ্ভাসিত হয়েছে তা হলো নারীর কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদানের পক্ষে কবির অভিমত।

‘নারী’ কবিতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম নারীকে পুরুষের সমান অধিকার প্রদানের পক্ষে কলম ধরেছেন। তাঁর মতে, মানব সভ্যতা বিনির্মাণে নারী-পুরুষের সমান অবদান রয়েছে; কিন্তু ইতিহাসে পুরুষের অবদান যতটা লেখা হয়েছে, নারীর অবদান তার কিছুই লেখা হয়নি। পুরুষের প্রতিটি কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের পেছনে জয়ের নিয়ন্তা দেবীর মতো নারী তাকে উত্সাহ, প্রেরণা ও মনোবল জুগিয়ে আসছে। কখনো মায়ের হূদয় ভরা মমতা, কখনো বা বোনের সেবা দিয়ে। অথচ তাদের সেই অবদান কখনোই স্বীকৃত হয়নি।

অন্যদিকে উদ্দীপকের আনোয়ারা নারী হয়েও সিটি করপোরেশনের মতো নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করে প্রশংসিত হয়েছেন। উদ্দীপকের আনোয়ারার কাজের এই মূল্যায়ন প্রদানের দিকটি ‘নারী’ কবিতায় উপেক্ষিত হলেও কবির প্রত্যাশা নারীর প্রতিটি কাজকে আনোয়ারার মতো মূল্যায়ন করা হোক, যা উদ্দীপকে উদ্ভাসিত হয়েছে।

ঘ) উদ্দীপকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটলেও ‘নারী’ কবিতায় কবি আরো বেশি বাঙ্ময়—বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : নারীর অবদান যে পুরুষের চেয়ে কম নয়, এই বোধের প্রতি কবি অনেক বেশি সচেতন ও শ্রদ্ধাশীল বলে উদ্দীপকের চেয়ে ‘নারী’ কবিতার বক্তব্য আরো বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে।

‘নারী’ কবিতার কবি নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ না করে উভয়কে মানুষ হিসেবে দেখেছেন। কর্মক্ষেত্রে সব সময় পুরুষের কাজকে মূল্যায়ন করা হলেও নেপথ্যে নারী মা, বোন ও বধূ হিসেবে উত্সাহ, প্রেরণা ও মনোবল জুগিয়েছে। সেই জয়ের নিয়ন্তা দেবীকে যদি এই যুগে অবমূল্যায়ন করা হয়, তার ওপর যদি বিগত যুগের মতো পুরুষ সমাজ প্রভুত্ব বিস্তার করার চেষ্টা করে, তাকে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করতে বাধ্য করে, তবে পরবর্তী যুগে পুরুষকেই সেই জাঁতাকলে পড়ে নিষ্পেষিত হতে হবে। এটাই যুগের ধর্ম যে অন্যকে পীড়ন করলে তার ফল পীড়নকারীকেই ভোগ করতে হবে।

উদ্দীপকে আনোয়ারাকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করায় তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে—শুধু এটুকুই বলা হয়েছে, ‘নারী’ কবিতায় কবি নারীর অতীতের যে অবমূল্যায়নের চিত্র তুলে ধরেছেন, সে সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, ‘নারী’ কবিতার বক্তব্যে কবি যে বোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন, উদ্দীপকে সেই অনুভূতির প্রতিফলন সম্পূর্ণভাবে ঘটেনি বলে ‘নারী’ কবিতার কবি আরো বেশি বাঙ্ময় হয়ে উঠেছেন।

উদ্দীপক : জনৈক সমালোচকের মতে—ব্রিটিশ ভারতে বঙ্গীয় মুসলমান নারীসমাজ ছিল অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধের নিগড়ে আবদ্ধ। নিরক্ষরতা, অশিক্ষা ও সামাজিক ভেদ-বুদ্ধিও ছিল তাদের জন্য নিয়তির মতো সত্য। অবরুদ্ধ জীবন যাপনে অভ্যস্ত এক অসহায় জীবে তারা পরিণত হয়েছিল। তাদের আলোর জগতে আনার জন্য রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর বক্তব্য—‘আমরা সমাজেরই অর্ধাঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কিভাবে? কোনো এক পা বাঁধিয়া রাখিলে সে  খোঁড়াইয়া কত দূর চলিবে? পুরুষের স্বার্থ এবং আমাদের স্বার্থ ভিন্ন নহে—একই’।

ক) ‘বিজয়-লক্ষ্মী নারী’—শব্দটির অর্থ কী?

উত্তর : ‘বিজয়-লক্ষ্মী নারী’—শব্দটির অর্থ হলো জয়ের নিয়ন্তা দেবী হিসেবে নারীকে কল্পনা করা হয়েছে।

খ) ‘সাম্যের গান’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : ‘সাম্যের গান’ বলতে কবি সমতা অর্থাত্ সবার জন্য সম-অধিকারের কথা বলেছেন।

‘নারী’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নারী-পুরুষের সমান অধিকারে আস্থাবান। তাঁর মতে, পৃথিবীতে মানব সভ্যতা নির্মাণে নারী ও পুরুষের অবদান সমান। এ সত্য জেনে সবাইকে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সব ক্ষেত্রে তাদের সম-অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, উপর্যুক্ত মন্তব্যে এটিই কবি বুঝিয়েছেন।

গ) জনৈক সমালোচকের মতটি ‘নারী’ কবিতার কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : জনৈক সমালোচকের মতটি ‘নারী’ কবিতার নারীর সব ক্ষেত্রে বঞ্চিত হওয়ার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘নারী’ কবিতার কবি নারীর সম-অধিকারে বিশ্বাসী হলেও এই নারীকে যুগ যুগ ধরে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অথচ এ যাবত্কালে এ পৃথিবীতে যা কিছু মহান ও চির কল্যাণকর হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে সে ক্ষেত্রে পুরুষের মতো নারীরও সমান অর্থাত্ অর্ধেক অবদান রয়েছে। এমনকি এ পৃথিবীতে পাপ-তাপ, দুঃখ-বেদনা চোখের জলে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, সে ক্ষেত্রেও উভয়ের সমান ভূমিকা রয়েছে। বড় বড় বিজয় অভিযানগুলোও মা, বোন ও বধূদের ত্যাগে সুমহান হয়ে রয়েছে। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে এসব ঘটনা ইতিহাসের পাতায় যেভাবে লিখিত হয়েছে, নারীর ত্যাগের কথা অর্থাত্ মায়ের হূদয় নিংড়ানো মমতা, বোনের সেবা ও বধূর কথা সেখানে লিখিত হয়নি।

উদ্দীপকের জনৈক সমালোচক ব্রিটিশ ভারতে বঙ্গীয় মুসলিম নারীসমাজের যে চিত্র তুলে ধরেছেন, সেখানে নারী অশিক্ষার কারণে অবরুদ্ধ জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সব ক্ষেত্রে নারীকে বঞ্চনা করার এই দিকটি ‘নারী’ কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) বেগম রোকেয়ার মন্তব্য যেন কাজী নজরুল ইসলামের ‘নারী’ কবিতারই প্রতিধ্বনি—উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর : নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সব ক্ষেত্রে সম-অধিকার প্রদানের যে বিষয়টি ‘নারী’ কবিতার কবি আশা করছেন উদ্দীপকের বেগম রোকেয়ার বক্তব্যেও সেভাবই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

‘নারী’ কবিতার কবি বিশ্বাস করেন, নারীকে অবমূল্যায়ন করার সেই যুগের অবসান ঘটেছে। যে যুগে পুরুষ নারীর ওপর প্রভুত্ব বিস্তার করত, সেই যুগ এখন গত হয়েছে। এ যুগে সব কিছুতেই নারী পুরুষের মতো সমান অধিকার পাবে। এমনকি দুঃখ-বেদনা শুধু নারী নয়, মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষ উভয়েই সমানভাবে ভাগ করে নেবে; কেউ কারো অধীন থাকবে না। এর পরও যদি কোনো পুরুষ নারীকে অবরুদ্ধ জীবন যাপনে বাধ্য করতে চায়, তবে পরিণামে তাদেরই অবরুদ্ধ জীবন যাপন করতে হবে। যুগের ধর্ম এটাই যে অন্যের ওপর নিপীড়ন করলে একদিন নিজেকেই সেই পীড়ন ভোগ করতে হবে।

উদ্দীপকের বেগম রোকেয়াও মনে করেন, নারী-পুরুষের স্বার্থ এক ও অভিন্ন হওয়ায় নারীকে মূল্যায়ন করতে হবে।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বেগম রোকেয়া ‘নারী’ কবিতার কবির কথাই প্রতিধ্বনিত করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা