kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

জানা-অজানা

হুপিং কাশি

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ‘হুপিং কাশি’র কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হুপিং কাশি

হুপিং কাশি শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত একটি ছোঁয়াচে রোগ। একে আমরা পারটুসিস বা বাংলায় ঘুংড়ি কাশি হিসেবেও চিনি। এই রোগের প্রথম দিকে রোগী সর্দি-জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়। ধীর ধীরে কাশির তীব্রতা বাড়তে থাকে। এই কাশি কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। হুপিং কাশির তীব্রতা এত বেশি যে রোগীর কাশতে কাশতে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, বমি হয়, বুকে সাঁই সাঁই শব্দ করে, অস্থির লাগে, রোগীর বেশি বেশি পানির পিপাসা পায়। অতিরিক্ত কাশির জন্য ঘাড়ে, পিঠে, বুকে ব্যথা করে।

হুপিং কাশির জন্য বর্ডেটেলা পারটুসিস নামক এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া দায়ী। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। ১৯০৬ সালে এই রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন Jules Bordet ও Octave Gengou এই দুজন মিলে ।

বর্তমানে বাচ্চাদের হুপিং কাশির টিকা দেওয়া হয়। দুই মাস বয়স থেকে ডিপথেরিয়া ও টিটেনাস টক্সোয়েড (ধনুষ্টঙ্কার) টিকার সঙ্গে হুপিং কাশির টিকা একত্রে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সময়ে ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে একটি এবং অবশেষে বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় আরেকটি বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। তবে এই টিকা সারা জীবনের জন্য রোগমুক্তি নিশ্চিত করে না। ২০১১ সালের CDC গবেষণায় জানা যায়, এ টিকার ফলে শুধু ৬ থেকে ৯ বছর  হুপিং কাশি প্রতিরোধ করা যায়।

এ কাশি হলে প্রাপ্তবয়স্করা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক যেমন—ইরাইথ্রোমাইসিন, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, এজিথ্রোমাইসিন প্রভৃতি খেতে পারে। এতে হুপিং কাশি দ্রুত নিরাময় হবে।  

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা