kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

অষ্টম শ্রেণি

বিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

১২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



বিজ্ঞান

জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

 

ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) একজন সুইডিশ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক। তিনি কার্ল লিনিয়াস (Carl Linnaeus) নামেও পরিচিত। উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞানে অবদানের পাশাপাশি আধুনিক দ্বিপদী নামকরণেও বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক বলা হয়

 

প্রথম অধ্যায়

প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

১। শ্রেণিবিন্যাস কী?

উত্তর : বিশাল জীবজগেক জানার জন্য এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর বা ধাপে সাজানো হয়। জীবজগেক ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।

২। মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম লেখো।

উত্তর : Homo sapiens

৩। শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?

উত্তর : শ্রেণিবিন্যাসের জনক ক্যারোলাস লিনিয়াস।

৪। স্পঞ্জ কী?

উত্তর : পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের সাধারণভাবে স্পঞ্জ বলে।

৫। নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের পূর্ব নাম কী ছিল?

উত্তর : নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের পূর্ব নাম ছিল সিলেন্টারেটা।

৬। হাইড্রা কোন পর্বের প্রাণী?

উত্তর : নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বের।

৭। সিলেন্টেরন কী?

উত্তর : নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দেহগহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে।

৮। নিডোব্লাস্ট কী?

উত্তর : হাইড্রার অ্যাক্টোডার্মে নিডোব্লাস্ট নামে এক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কোষ থাকে। এই কোষগুলো শিকার ধরা, আত্মরক্ষা, চলন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়।

৯। বহিঃপরজীবী কী?

উত্তর : যেসব পরজীবী পোষক দেহের বাইরে অবস্থান করে তাদের বহিঃপরজীবী বলে। যেমন—উকুন, জোঁক।

১০। অন্তঃপরজীবী কী?

উত্তর : যেসব পরজীবী পোষক দেহের ভেতরে অবস্থান করে তাদের অন্তঃপরজীবী বলে। যেমন—কৃমি।

১১। ফিতাকৃমি কোন পর্বের প্রাণী?

উত্তর : প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণী।

১২। নেমাটোডার পূর্ব নাম কী ছিল?

উত্তর : নেমাথেলমিনথিস।

১৩। সিলোম কী?

উত্তর : বহুকোষী প্রাণীর পৌষ্টিকনালি এবং দেহ প্রাচীরের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানকে সিলোম বলে।

১৪। ভ্রূণস্তর কী?

উত্তর : ভ্রূণের যেসব কোষীয় স্তর থেকে পরবর্তী সময়ে টিস্যু বা অঙ্গ সৃষ্টি হয় তাদের ভ্রূণস্তর বলে।

১৫। নেফ্রিডিয়া কী?

উত্তর : অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীদের রেচন অঙ্গ হলো নেফ্রিডিয়া।

১৬। প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব কোনটি?

উত্তর : আর্থ্রোপোডা পর্ব।

১৭। হিমোসিল কী?

উত্তর : আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বরকে হিমোসিল বলে।

১৮। প্রাণিজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্ব কোনটি?

উত্তর : মলাস্কা পর্ব।

১৯। নটোকর্ড কী?

উত্তর : নটোকর্ড হলো একটা নরম, নমনীয়, দণ্ডাকার, দৃঢ় ও অখণ্ডায়িত অঙ্গ।

২০। পেস্ট কী?

উত্তর : ক্ষতিকর পোকাদের পেস্ট বলে।

২১। ICZN-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর : ICZN-এর পূর্ণরূপ হলো International code of Zoological Nomenclature.

২২। উভচর প্রাণী কী?

উত্তর : মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে যারা জীবনের প্রথম অবস্থায় সাধারণত পানিতে এবং মাছের মতো বিশেষ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়, পরিণত বয়সে ডাঙ্গায় বাস করে তাদের উভচর প্রাণী বলে।

 

প্রথম অধ্যায়

প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। দ্বিপদ নামকরণ/বৈজ্ঞানিক নাম বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। বৈজ্ঞানিক নাম লাতিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। যেমন—মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens।

২। পরিফেরা স্পঞ্জ নামে পরিচিত কেন?

উত্তর : বহুকোষী প্রাণীদের মধ্যে পরিফেরা পর্বের প্রাণীরা সরলতম প্রকৃতির। এদের দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। এই ছিদ্রপথে পানির সঙ্গে অক্সিজেন ও খাদ্যবস্তু প্রবেশ করে। এদের কোনো পৃথক সুগঠিত কলা, অঙ্গ ও তন্ত্র থাকে না। এ জন্য পরিফেরা স্পঞ্জ নামে পরিচিত।

৩। হাইড্রাকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলা হয় কেন?

উত্তর : হাইড্রার দেহ দুটি ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত। দেহের বাইরের দিকের স্তরটি অ্যাক্টোডার্ম ও ভেতরের স্তরটি অ্যান্ডোডার্ম। এ জন্য হাইড্রাকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলা হয়।

৪। তারা মাছকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলা হয় কেন?

উত্তর : তারা মাছের দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর একাধিকবার সমান দুই অংশে ভাগ করা যায়। এ জন্য তারা মাছকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলা হয়।

৫। গোলকৃমি কেন নেমাটোডা পর্বের প্রাণী?

উত্তর : গোলকৃমি নলাকার ও পুরু ত্বক দ্বারা আবৃত। এদের শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র নেই। এরা এক লিঙ্গ। এদের দেহগহ্বর অনাবৃত ও প্রকৃত সিলোম নেই। এ জন্য গোলকৃমি নেমাটোডা পর্বের প্রাণী।

৬। মানবদেহে নটোকর্ডের অবস্থান ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : মানুষ কর্ডাটা পর্বের ভার্টিব্রাটা উপপর্বের ম্যামালিয়া শ্রেণির প্রাণী। মানুষের দেহে নটোকর্ড আছে। নটোকর্ড হলো একটি নরম, নমনীয়, দণ্ডাকার, অখণ্ডায়িত অঙ্গ। মানবদেহে নটোকর্ড শুধু ভ্রূণীয় অবস্থায় পৃষ্ঠীয় রেখা বরাবর অবস্থান করে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় এটি মেরুদণ্ডে পরিণত হয়।

৭। ভার্টিব্রাটা কেন উন্নত প্রাণী?

উত্তর : ভার্টিব্রাটা উন্নত প্রাণী। এদের নটোকর্ড শক্ত কশেরুকাযুক্ত মেরুদণ্ডে পরিবর্তিত হয়।

৮। পতঙ্গ প্রাণীদের কিভাবে চেনা যাবে?

উত্তর : পতঙ্গ প্রাণীরা আর্থ্রোপোডা পর্বের। এরা সব পরিবেশে বাস করতে পারে। এদের অনেকে ডানার সাহায্যে উড়তে পারে। এদের মাথায় এক জোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে। এদের দ্বারাই পতঙ্গদের সহজে চেনা যায়।

৯। পাখি উড়তে পারে কেন?

উত্তর : পাখির দেহ পালক দ্বারা আবৃত। অস্থি হালকা, ফাঁপা ও বায়ুপূর্ণ আর ফুসফুসের সঙ্গে বায়ুথলি থাকায় পাখি উড়তে পারে।

১০। কুনোব্যাঙকে উভচর প্রাণী বলা হয় কেন?

উত্তর : কুনোব্যাঙ জীবনের প্রথম অবস্থায় পানিতে বসবাস করে এবং মাছের মতো বিশেষ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়; কিন্তু পরিণত বয়সে ডাঙায় বসবাস করে। এ জন্য কুনোব্যাঙকে উভচর প্রাণী বলা হয়।

১১। শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন কেন?

উত্তর : শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা নিচে দেওয়া হলো—

(১) শ্রেণিবিন্যাসের সাহার্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সহজে, অল্প পরিশ্রমে ও অল্প সময়ে পৃথিবীর সব উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পর্কে জানা যায়।

(২) নতুন প্রজাতি শনাক্ত করতে শ্রেণিবিন্যাস অপরিহার্য।

(৩) প্রাণিকূলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়।

(৪) প্রাণী সম্পর্কে সামগ্রিক ও পরিকল্পিত জ্ঞান অর্জন করা যায়।

১২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : জীববিজ্ঞানের যে শাখায় শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কিত জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বলে। এটি ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা।

১৩। ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কেন?

উত্তর : ক্যারোলাস লিনিয়াস একজন সুইডিস প্রকৃতিবিদ ছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশবিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। এ জন্য ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।

১৪। শ্রেণিবিন্যাসের ধাপগুলো কী কী?

উত্তর : শ্রেণিবিন্যাসের ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো—

(১) জগৎ (Kingdom) (২) পর্ব (Phylum) (৩) শ্রেণি (Class) (৪) বর্গ (Order) (৫) গোত্র (Family)

(৬) গণ (Genus)

(৭) প্রজাতি (Species)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা