kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

নবম-দশম শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাংলা প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

মানুষ মুহাম্মদ (সা.)

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী

উদ্দীপক : হজরত নুহ (আ.) ধর্ম ও ন্যায়ের পথে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। এতে মাত্র ৪০ জন মানুষ সাড়া দেন। বাকিরা সবাই তাঁর বিরোধিতা শুরু করে নানা অত্যাচারে তাঁকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এ অত্যাচারের মাত্রা সহনাতীত হলে তিনি একপর্যায়ে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান। আল্লাহর হুকুমে তখন এমন বন্যা হয় যে ওই ৪০ জন বাদে সব অত্যাচারী ধ্বংস হয়ে যায়।

ক) হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর : হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার শ্রেষ্ঠ কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।

খ) ‘সুমহান প্রতিশোধ’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : ‘সুমহান প্রতিশোধ’ বলতে জয়ীর আসনে বসে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শত্রুদের ক্ষমা করার দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহাম্মদ (সা.)’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে হজরত ছিলেন মানুষের নবী। তাই মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় তারই আদর্শ তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তায়েফে সত্য প্রচারে গিয়ে তিনি শত্রুর অত্যাচারে জর্জরিত হয়েছেন, মক্কাবাসীরাও নবুয়ত লাভের শুরু থেকে তাঁর ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়েছে। সেই অত্যাচার সহনাতীত হলে তিনি মদিনায় চলে যান। পথেও শত্রুরা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। প্রতি পদে শত্রুরা তাঁকে লাঞ্ছনা করার চেষ্টা করলেও হজরত যেদিন বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন, সেদিন জয়ীর আসনে বসে ন্যায়ের তুলাদণ্ড হাতে নিয়ে তাদের তিনি ক্ষমা করে দেন। অপরাধীদের প্রতি এভাবে ক্ষমা প্রদর্শন করাকেই সুমহান প্রতিশোধ বলা হয়েছে, যা সম্ভব হয়েছিল তাঁর বিরাট মনুষ্যত্বের কারণে।

গ) হজরত নুহ (আ.) যেদিক দিয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে ভিন্ন, তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে ক্ষমাশীলতার দিকটি হজরত নুহ (আ.)-এর চরিত্রে অনুপস্থিত ছিল, যা তাঁকে ভিন্নতা দান করেছে।

হজরত ছিলেন মানুষের নবী। তাই মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে তিনি তাঁর জীবন রূপায়িত করে তুলেছিলেন। তায়েফ ও মক্কায় সত্য প্রচারে গিয়ে তিনি বৈরীর অত্যাচারে বারবার জর্জরিত হয়েছেন। মক্কার পথে-প্রান্তরে পৌত্তলিকদের প্রস্তর ঘায়ে আহত হয়েছেন, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে উপহাসিত হয়েছেন। তবু তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন তাদের জ্ঞান দান ও ক্ষমা করার জন্য। তায়েফে একইভাবে ইসলামকে অবহেলিত ও অস্বীকৃত হতে দেখেও শত্রুদের প্রতি তিনি ঘৃণা ও বিরক্তিতে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। অভিশাপ দিতে অনুরুদ্ধ হয়েও তিনি বলেছেন, ইসলামের বাহন সত্যের প্রচারক হিসেবে তাঁর পক্ষে তা কখনোই সম্ভব নয়। কারণ তাঁর সেদিনের শত্রুদের অনাগত বংশধররা হয়তো ভবিষ্যতে ইসলাম কবুল করবে। এভাবে তিনি শত্রুদের ক্ষমা করে ধৈর্য সহকারে তাদের জ্ঞানের উন্মেষের জন্য অপেক্ষা করেছেন।

অন্যদিকে হজরত নুহ (আ.) ধর্ম ও ন্যায়ের পথে সবাইকে আহ্বান জানান। মাত্র ৪০ জন ছাড়া বাকিরা তাঁর বিরোধিতা শুরু করলে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর কাছে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে ফরিয়াদ জানান। শত্রুদের প্রতি তাঁর চরিত্রে ক্ষমাশীলতার বদলে এই অসহিষ্ণু আচরণ ‘মানুষ মুহাম্মদ (সা.)’ রচনার হজরত চরিত্রের উপর্যুক্ত বক্তব্য থেকে ভিন্নতা দান করেছে।

ঘ) হজরত নুহ (আ.)-এর চরিত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনলে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বিশেষ গুণ তাঁর মধ্যে ফুটে উঠত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর : হজরত নুহ (আ.)-এর চরিত্রে যদি ধৈর্যশীলতা থাকত, তবে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বিশেষ গুণ ক্ষমাশীলতা তাঁর মধ্যে ফুটে উঠত।

‘মানুষ মুহাম্মদ (সা.)’ প্রবন্ধের মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানুষের নবী। ক্ষমা, মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে মক্কা ও তায়েফবাসীর অত্যাচারে তিনি জর্জরিত হয়েছেন, তবুও পাপী মানুষকে তিনি ভালোবেসেছেন। অভিশাপ দেওয়ার চিন্তাও তাঁর অন্তরে উদিত হয়নি। বরং তাঁর অন্তর ভেদ করে একটিমাত্র প্রার্থনার বাণী জেগেছে—‘এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা করো।’ মক্কাবাসীরা হজরতের নবুয়ত লাভের পর থেকে তাঁর ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালিয়েছিল, তা সহনাতীত হলে তিনি মদিনায় চলে যান। তারপর মক্কা বিজয় করে জয়ীর আসনে বসে, ন্যায়ের তুলাদণ্ড হাতে নিয়ে মক্কাবাসীদের ওপর যে প্রতিশোধ নেন, তা ছিল সুমহান আদর্শে ভরা। তিনি মক্কাবাসীদের ওপর থেকে সব অভিযোগ তুলে নিয়ে তাদের মুক্ত ও স্বাধীন করে দেন।

অন্যদিকে হজরত নুহ (আ.)-এর কথামতো ৪০ জনের বাইরে কেউ ধর্ম ও ন্যায়ের পথে না এসে বিরুদ্ধাচরণ করলে তিনি ধৈর্যহারা হয়ে আল্লাহর কাছে তাদের বিরুদ্ধে ফরিয়াদ জানান। আল্লাহর হুকুমে তখন বন্যায় ওই ৪০ জন ছাড়া সব অত্যাচারী ধ্বংস হয়ে যায়।

অথচ ‘মানুষ মুহাম্মদ (সা.)’ প্রবন্ধে মুহাম্মদ (সা.) ধৈর্যের সঙ্গে অত্যাচারীর সব অত্যাচার সহ্য করেছেন। অভিশাপ করার জন্য অনুরুদ্ধ হয়েও তিনি ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করেছেন এ জন্য যে অত্যাচারীদের পরবর্তী বংশধররা হয়তো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে। তাই বলা যায়, হজরত নুহ (আ.) যদি ধৈর্যশীল হতেন, তবে মহানবীর একটি বিশেষ গুণ ক্ষমাশীলতা তাঁর মধ্যে ফুঠে উঠত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা